আন্তর্জাতিক ডেস্ক
মে ৫, ২০২৬, ১২:০১ এএম
তামিল চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় নায়ক থালাপতি বিজয়কে এত দিন পর্দায় দেখা গেছে নানা বীরোচিত ভূমিকায়। নায়ক চরিত্রে ক্ষমতাবানদের দম্ভ তিনি চূর্ণ করেছেন শৌর্যের স্বাক্ষর রেখে।
এবার তিনি রাজনীতির ময়দানেও জয় করলেন মানুষের হৃদয়। মাত্র দুই বছর আগে রাজনৈতিক দল গঠন করে তামিলনাড়ুর বিধানসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে চমক দেখিয়েছেন তিনি।
থালাপতি বিজয়ের আসল নাম জোসেফ বিজয় চন্দ্রশেখর। ২০২৪ সালে তিনি ‘তামিলাগা ভেত্রি কাজাগাম’ (টিভিকে) নামে রাজনৈতিক দল গঠন করেন। তামিলনাড়ুর মানুষের অধিকার নিয়ে সোচ্চার হওয়ার পাশাপাশি ভারতের কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন বিজেপির নেতা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সমালোচনায়ও তিনি সরব ছিলেন। বিপুল জনসমাবেশের মঞ্চে দাঁড়িয়ে মোদি সরকারের দমননীতির সমালোচনা করে তাঁর দেওয়া বক্তব্য অনলাইন জগতে ব্যাপক ভাইরাল হয়েছে।
রাজনীতির মাঠে সংগ্রামী চরিত্রের আভাস দেওয়া বিজয় এখন ভোটেও বিজয়ী হচ্ছেন। ২৩৪ আসনের বিধানসভায় ইতিমধ্যে ৯৬টিতে জয় পেয়েছে তাঁর দল টিভিকে, এগিয়ে রয়েছে আরও ১১টি আসনে। সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ১১৮ আসনে এককভাবে পৌঁছাতে না পারলেও, সবচেয়ে বেশি আসন যে তাদেরই হচ্ছে তা নিশ্চিত।
অন্য এক বা একাধিক দলের সমর্থন নিয়ে সরকার গঠনের সুযোগ বিজয়ের সামনে থাকছে। আর তা সফল হলে, ৪৯ বছরের মধ্যে তামিলনাড়ুতে প্রথম চলচ্চিত্র তারকা হিসেবে তিনি মুখ্যমন্ত্রীর আসনে বসবেন। এর আগে ১৯৭৭ সালে এম জে রামচন্দ্রন অভিনেতা থেকে মুখ্যমন্ত্রী হয়ে ১০ বছর শাসন করেছিলেন।
জয়ললিতার মতো তারকারাও নিজে নতুন দল গড়ে মুখ্যমন্ত্রী হননি, বরং উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত দল সামলেছেন। তবে বিজয় সেই অচলায়তন ভাঙছেন। ২০০৯ সাল থেকেই তিনি তাঁর ফ্যান ক্লাবগুলোকে ‘বিজয় মাক্কাল ইয়াক্কাম’ সংগঠনের পতাকাতলে এনে সমাজসেবামূলক কাজ শুরু করেন। ২০২১ সালের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে তাঁর সংগঠনের প্রার্থীদের জয়লাভই মূলত ভোটের মাঠে তাঁর জনপ্রিয়তার প্রথম প্রমাণ দেয়।
২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে দল ঘোষণার পর বিজয় স্পষ্ট জানান, ২০২৬ সালের নির্বাচনে তিনি একাই লড়বেন। একই সঙ্গে তিনি প্রায় ৭০টি চলচ্চিত্রে অভিনয় শেষে তিন দশকের অভিনয়জীবনের অবসান ঘটান। এটি যে কেবল শখের রাজনীতি নয়, বরং একটি সিরিয়াস মিশন তা তিনি সিনেমা থেকে সরে দাঁড়ানোর মাধ্যমে প্রমাণ করেছেন।
টিভিকে পরবর্তী সময়ে একটি সুসংগঠিত রাজনৈতিক দলে পরিণত হয়। শিক্ষা, কর্মসংস্থান এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে তাদের সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য তরুণ ভোটারদের গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে।
যদিও ২০২৫ সালে একটি অনুষ্ঠানে পদদলিত হয়ে মৃত্যুর ঘটনার মতো সংকটের মুখোমুখি হতে হয়েছে তাঁকে, তবে পরিমিত ও দায়িত্বশীল প্রতিক্রিয়ার মাধ্যমে তিনি সেই পরিস্থিতি সামাল দেন। বর্তমানে নির্বাচনী পরিসংখ্যান বলছে, বিজয়ের এই সুপরিকল্পিত রাজনৈতিক ঝুঁকি সার্থকতার পথে।
জেএইচআর