আন্তর্জাতিক ডেস্ক
মে ৮, ২০২৬, ০৭:৩৪ এএম
তামিলনাড়ুর গত ৫০ বছরের রাজনৈতিক ইতিহাসে যা অভাবনীয় ছিল, আজ সেই অসম্ভবই বাস্তবে রূপ নিতে যাচ্ছে। দক্ষিণী সুপারস্টার বিজয়ের দল 'তামিলাগা ভেট্রি কাজাগাম (TVK)-এর অভাবনীয় উত্থান কাঁপিয়ে দিয়েছে রাজ্যের প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক সমীকরণকে।
অভিনেতা থেকে রাজনীতিবিদে পরিণত হওয়া বিজয়কে ক্ষমতার বাইরে রাখতে এখন কয়েক দশকের চিরশত্রু 'ডিএমকে (DMK)' এবং 'এআইএডিএমকে (AIADMK)'জোট বাঁধার ইঙ্গিত দিচ্ছে। আর নেপথ্যে অনুঘটকের ভূমিকা পালন করছে বিজেপি (BJP)।
এনডিটিভির খবর অনুযায়ী, উদয়নিধি স্ট্যালিনের নেতৃত্বাধীন ডিএমকে-র একটি অংশ এখন প্রবল আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে। তাদের ভয়, বিজয় হয়তো এআইএডিএমকে-র আইকনিক নেতা এবং প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী 'এমজি রামচন্দ্রন (MGR)-এর ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঘটাতে চলেছেন। এমজিআর তাঁর জীবদ্দশায় ডিএমকে-কে কখনোই ক্ষমতায় ফিরতে দেননি। ঠিক তেমনি বিজয়ের বিশাল জনসমর্থন ডিএমকে-র ভবিষ্যৎ অস্তিত্বের ওপর বড় প্রশ্নচিহ্ন এঁকে দিয়েছে।
অন্যদিকে, এআইএডিএমকে-র অবস্থাও নাজুক। জয়ললিতার মৃত্যুর পর থেকে টানা চারটি নির্বাচনে পরাজয়ের পর দলটি এখন নিজের অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই লড়ছে। তাই বিজয়ের মতো শক্তিশালী তৃতীয় শক্তির উত্থান ঠেকাতে তারা ডিএমকে-র সাথে সমঝোতা করতেও রাজি।
এই বিচিত্র রাজনৈতিক সমীকরণের পেছনে কলকাঠি নাড়ছে বিজেপি। বিজেপির মূল লক্ষ্য হলো কংগ্রেসকে ক্ষমতার বাইরে রাখা। যেহেতু বিজয় কংগ্রেসের সাথে জোটবদ্ধ হয়ে লড়েছেন, তাই বিজেপি চাইছে ডিএমকে এবং এআইএডিএমকে-র মধ্যে একটি মধ্যস্থতা তৈরি করে বিজয়-কংগ্রেস শিবিরকে প্রতিহত করতে।
সূত্রের খবর অনুযায়ী, একটি পরিকল্পনা প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে যেখানে 'ই পালানিস্বামী' মুখ্যমন্ত্রী হবেন এবং ডিএমকে বাইরে থেকে সমর্থন দেবে। তবে এই পথে বড় বাধা হলো বাম দল এবং 'ভিসিকে (VCK)-র অবস্থান। বিজয় ইতিমধ্যেই এই দলগুলোর সমর্থন পাওয়ার চেষ্টা করেছেন, কিন্তু তারা এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানায়নি।
তাছাড়া ডিএমকে-র প্রবীণ নেতৃত্ব, বিশেষ করে দলপ্রধান 'এম কে স্ট্যালিন', এই জোট নিয়ে দ্বিধাবিভক্ত। তাঁরা মনে করছেন, কয়েক দশকের শত্রুপক্ষের সাথে এভাবে হাত মেলালে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হতে পারে। তামিলনাড়ুর জনগণ অত্যন্ত আবেগপ্রবণ, তাই এমন ‘অস্বাভাবিক’ জোটের ফলে সমর্থকদের পক্ষ থেকে তীব্র আন্দোলনের আশঙ্কা রয়েছে।
নির্বাচনী ফলাফলে বিজয়ের দল ‘১০৮টি আসন’ পেয়ে একক বৃহত্তম দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। কিন্তু ২৩৪ আসনের বিধানসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজন ১১৮টি আসন। বিজয় দাবি করছেন, একক বৃহত্তম দল হিসেবে রাজ্যপাল তাকেই সরকার গঠনের আহ্বান জানাবেন।
তবে রাজ্যপাল 'আর.ভি. আরলেকর'বিজয়ের দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, বিজয়ের কাছে ১১৮ জন বিধায়কের লিখিত সমর্থন নেই। এর বিপরীতে বিজয়ের দল টিভিকে (TVK) হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে, যদি ডিএমকে ও এআইএডিএমকে অনৈতিকভাবে জোট বেঁধে সরকার গঠনের চেষ্টা করে, তবে বিজয়ের দলের '১০৮ জন বিধায়কই একযোগে পদত্যাগ করবেন'। এই পদক্ষেপের লক্ষ্য হলো জনরোষকে রাজপথে নামিয়ে আনা এবং নতুন করে নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি করা।
আগামী ১০ মে ১৬তম তামিলনাড়ু বিধানসভার মেয়াদ শেষ হতে চলেছে। তার আগেই এই টানাপোড়েন কোন দিকে মোড় নেয়, তা নিয়ে পুরো ভারত উৎসুক হয়ে আছে।
তামিলনাড়ুর এই রাজনৈতিক অচলাবস্থা কেবল একটি রাজ্যের ক্ষমতা দখলের লড়াই নয়, বরং এটি দক্ষিণের রাজনীতিতে পুরনো বংশপরম্পরাগত দল বনাম নব্য প্রজন্মের সুপারস্টারদের সংঘাতের এক অনন্য মহড়া।
উৎস: এনডিটিভি
এএন