আন্তর্জাতিক ডেস্ক
মে ২১, ২০২৬, ০৪:৩০ পিএম
ভারতের রাজধানী দিল্লিতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বৈঠক ডেকেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এই বৈঠককে কেন্দ্র করে সমস্ত কেন্দ্রীয় মন্ত্রীকে জরুরি ভিত্তিতে রাজধানীতে অবস্থান করার কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পশ্চিম এশিয়ার বর্তমান সংঘাত, এর ফলে সৃষ্ট সম্ভাব্য অর্থনৈতিক প্রভাব এবং ভারতের মন্ত্রিসভায় বড় ধরণের রদবদলের গুঞ্জন ঘিরে এখন দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা ও কৌতুহল তুঙ্গে উঠেছে।
জানা গেছে, বৃহস্পতিবার বিকেল চারটায় দিল্লির ‘সেবা তীর্থ’-এ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সভাপতিত্বে মন্ত্রিপরিষদের এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ‘সেবা তীর্থ’ হলো ভারতের প্রধানমন্ত্রীর নতুন কার্যালয় ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক ভবনগুলোর সমন্বয়ে গঠিত একটি অত্যাধুনিক কমপ্লেক্স। সরকারের অভ্যন্তরে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক নানা বিষয়ে আলোচনা জোরদার হওয়ার প্রেক্ষাপটে সব কেন্দ্রীয় মন্ত্রীকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দিল্লিতে উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে।
মূলত প্রধানমন্ত্রী মোদির বিদেশ সফর শেষে দেশে ফেরার পরপরই এই জরুরি বৈঠকটি ডাকা হলো। এতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার সমস্ত সদস্য, স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী এবং অন্য প্রতিমন্ত্রীদের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।
বৈঠকের মূল আলোচ্য বিষয় প্রসঙ্গে জানা গেছে, পশ্চিম এশিয়ায় চলমান সংঘাত এবং এর জেরে ভারতের অর্থনীতিতে সম্ভাব্য প্রভাব কী হতে পারে, সেটাই আজকের আলোচনায় সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পেতে পারে। আঞ্চলিক উত্তেজনা বৃদ্ধির কারণে বিশ্ববাজারে তেলের দাম, ভারতের অভ্যন্তরীণ জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা এবং সামগ্রিক মূল্যস্ফীতি নিয়ে উদ্বেগের বিষয়গুলো সরকার বেশ ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।
বিদেশ সফর শেষে ফিরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সার্বিক পরিস্থিতি নতুন করে পর্যালোচনা করতে পারেন। ইতিমধ্যে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং সম্ভাব্য সংকট থেকে দেশকে সুরক্ষার উপায় বের করতে প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের নেতৃত্বে মন্ত্রীদের উচ্চপর্যায়ের একটি অনানুষ্ঠানিক দল গঠন করেছে সরকার। এই দলে রয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন এবং জ্বালানিমন্ত্রী হারদীপ সিং পুরি।
সম্প্রতি পরিস্থিতি নিয়ে রাজনাথ সিং জানান, সরকার গোটা পরিস্থিতি ২৪ ঘণ্টা নজরদারিতে রাখছে। তিনি বলেন, অপরিশোধিত তেল, জ্বালানি কিংবা তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসসহ (এলপিজি) সব ক্ষেত্রেই ভারতের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে এবং এখন পর্যন্ত বিশেষ কোনো সমস্যা নেই।
এদিকে আগামী ১০ জুন মোদি সরকারের তৃতীয় মেয়াদের প্রথম বর্ষপূর্তি হতে যাচ্ছে। এই বর্ষপূর্তিকে ঘিরে ভারতের মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণ ও রদবদলের জোর জল্পনা চলছে। ফলে আজকের এই বৈঠকটি বেশ বড় রাজনৈতিক গুরুত্ব বহন করছে।
সরকারি সূত্রগুলো জানিয়েছে, মন্ত্রিসভায় রদবদল ও সম্প্রসারণ নিয়ে আলোচনা এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে এবং জুনের দ্বিতীয় সপ্তাহে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় বড় ধরণের পরিবর্তন আসতে পারে। এই সম্ভাব্য রদবদলের আগে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের বিগত দিনের কার্যক্রম ও সাংগঠনিক পারফরম্যান্স পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করছে মোদি সরকার।
জেএইচআর