আন্তর্জাতিক ডেস্ক
জুলাই ১৮, ২০২৬, ০৭:৩০ এএম
কানাডার ভয়াবহ দাবানলের ধোঁয়া যুক্তরাষ্ট্রের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ায় প্রতিবেশী দেশটির বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। পরিস্থিতির জন্য কানাডাকে দায়ী করে তিনি দেশটির পণ্যের ওপর আরোপিত শুল্ক আরও বাড়ানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
শুক্রবার (১৭ জুলাই) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেন, কানাডা বনভূমির যথাযথ ব্যবস্থাপনায় ব্যর্থ হওয়ায় প্রতিবছর যুক্তরাষ্ট্রকে দূষিত বাতাসের প্রভাব মোকাবিলা করতে হচ্ছে। তার ভাষায়, এ কারণে যুক্তরাষ্ট্রের বিপুল অর্থ ব্যয় হচ্ছে এবং সেই ব্যয়ের বিষয়টি কানাডার ওপর আরোপিত ট্যারিফের সঙ্গে যুক্ত করা উচিত।
তিনি আরও জানান, কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করবেন এবং এমন পরিস্থিতি রোধে তার সরকারের পরিকল্পনা জানতে চাইবেন। ট্রাম্প এই ঘটনাকে ‘সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য’ বলেও মন্তব্য করেন।
কানাডার শত শত দাবানলের ধোঁয়ায় গত বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের মধ্য-পশ্চিম ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের অনেক এলাকা ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে। বায়ুর মানের অবনতি হওয়ায় স্থানীয় কর্তৃপক্ষ অনেক জায়গার বাসিন্দাদের ঘরের বাইরে না যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে।
তবে ট্রাম্পের অভিযোগের সঙ্গে একমত নন জলবায়ুবিষয়ক বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির কারণে আবহাওয়া আরও উষ্ণ ও শুষ্ক হয়ে পড়ছে, যা দাবানলের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে। ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার থম্পসন রিভার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মাইক ফ্ল্যানিগান বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণেই দাবানলের প্রকোপ আগের তুলনায় বেড়েছে।
এদিকে অন্টারিও প্রদেশে চলতি বছর প্রায় ৬ লাখ ৫০ হাজার একর বনভূমি আগুনে পুড়ে গেছে। এতে হাজারো মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। উত্তর-পশ্চিম অন্টারিওর কলিন্স ফার্স্ট নেশন সম্প্রদায়ের পুরো বসতি আগুনে ধ্বংস হয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় অন্টারিওর প্রিমিয়ার ডগ ফোর্ড ১১টি নতুন অগ্নিনির্বাপণ বিমান কেনার ঘোষণা দিয়েছেন। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রেও দাবানলের প্রকোপ বেড়েছে। দেশটিতে চলতি বছরে এখন পর্যন্ত প্রায় ৩৭ লাখ একর ভূমি আগুনে পুড়ে গেছে, যা গত এক দশকের গড়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।
সূত্র: রয়টার্স
এএন