আন্তর্জাতিক ডেস্ক
জুন ১০, ২০২৬, ১০:২৪ এএম
হরমুজ প্রণালির কাছে যুক্তরাষ্ট্রের একটি অত্যাধুনিক অ্যাপাচি হেলিকপ্টার ভূপাতিত করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা ফের চরম আকার ধারণ করেছে।
দক্ষিণ ইরানে চালানো মার্কিন বিমান হামলার জবাবে এবার বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন নৌবাহিনীর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পঞ্চম নৌবহরের প্রধান কার্যালয়ে সরাসরি মিসাইল হামলা চালিয়েছে ইরান। একই সঙ্গে কুয়েতের আলী আল সালেম বিমান ঘাঁটি এবং জর্ডানে মার্কিন সেনা উপস্থিতিসম্পন্ন আরেকটি সামরিক ঘাঁটিতেও একযোগে যৌথ হামলা চালানোর দাবি করেছে তেহরান।
এর আগে, মার্কিন অ্যাপাচি হেলিকপ্টারটি আকাশেই ভূপাতিত হওয়ার পেছনে ইরানি মিসাইলের আত্মঘাতী আঘাত দায়ী বলে নিশ্চিত করে ওয়াশিংটন। এর জবাবে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) দক্ষিণ ইরানের জাস্ক, সিরিক এবং কেশম দ্বীপের বেশ কয়েকটি বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও রাডার স্টেশন লক্ষ্য করে তিন দফায় ভারী বিমান হামলা চালায়।
মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন এই হামলাকে একটি ‘আনুপাতিক আত্মরক্ষামূলক পদক্ষেপ’ হিসেবে অভিহিত করে তাদের সাময়িক অভিযান শেষ করার ঘোষণা দিয়েছে। তবে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ফার্স নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, মার্কিন এই বিমান হামলায় ইরানের একটি বড় টেলিযোগাযোগ টাওয়ার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি সিরিক জেলার দুটি প্রধান পানির ট্যাংক সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে।
মার্কিন হামলার পর পরই ইরানের শক্তিশালী সামরিক বাহিনী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এবং দেশটির মূল সেনাবাহিনী যৌথভাবে এই বড় ধরনের পাল্টা আঘাত শুরু করে। এক বিশেষ বিবৃতিতে আইআরজিসি সতর্ক করে বলেছে, মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন আগ্রাসন বা উস্কানি অব্যাহত থাকলে সামনের দিনগুলোতে আরও কঠোর ও বিধ্বংসী প্রতিশোধ নেওয়া হবে। উদ্ভূত এই যুদ্ধপরিস্থিতির মধ্যে বাহরাইনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাদের সাধারণ নাগরিকদের শান্ত থাকার এবং যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে নিকটবর্তী নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার বিশেষ আহ্বান জানিয়েছে।
এদিকে সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এক কড়া প্রতিক্রিয়ায় জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র তেহরানের সামরিক সংকল্প ও ধৈর্যের পরীক্ষা নেওয়ার এক মারাত্মক ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ইরানের সশস্ত্র বাহিনী দেশের ওপর আসা কোনো আক্রমণ বা হুমকি অনুত্তরিত রাখবে না হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি মার্কিন বাহিনীকে অতি দ্রুত এই মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চল ছেড়ে চলে যাওয়ার আহ্বান জানান।
সূত্র: আল জাজিরা
এএন