আন্তর্জাতিক ডেস্ক
জুলাই ২৬, ২০২৬, ১০:৪৩ এএম
লোহিত সাগরের দুটি প্রধান সৌদি তেল বন্দরে ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের হামলার পর মধ্যপ্রাচ্য সংকট এক বিপজ্জনক রূপ নিয়েছে। এর মধ্য দিয়ে পারস্য উপসাগরের ইরান যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ল লোহিত সাগরেও, যার ফলে জ্বালানি তেলের বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যাহত হয়ে বাজারে তীব্র অস্থিরতা দেখা দিয়েছে।
রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, গত মে মাসের পর বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম আবার প্রতি ব্যারেল ১০০ ডলার ছুঁয়েছে। বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছেন, বর্তমান পরিস্থিতির দ্রুত সুরাহা না হলে আগামী অক্টোবরের মধ্যেই তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১২০ থেকে ১৫০ ডলারে পৌঁছাতে পারে। এর আগে সর্বশেষ ২০২২ সালে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলে ১২৮ ডলার এবং ২০০৮ সালে সর্বকালের সর্বোচ্চ ১৪৬ ডলারে উঠেছিল।
হুতিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারে দাবি করেন, তাঁরা সৌদি আরবের জিজান ও ইয়ানবু বন্দরে আরামকোর স্থাপনায় সফল হামলা চালিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে জিজানের চার লাখ ব্যারেল ক্ষমতার শোধনাগার এলাকা থেকে বিশাল ধোঁয়ার কুণ্ডলী উঠতে দেখা গেছে। এ ছাড়া সৌদির তেল সরবরাহের প্রধান বিকল্প পথ ইয়ানবু বন্দর লক্ষ্য করে আসা দুটি ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আকাশে প্রতিহত করার দাবি করেছে সৌদি আরব।
এই হামলার জবাবে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট এবং ইয়েমেনি সরকারি বাহিনী ইয়েমেনের ভেতরে হুতিদের সামরিক ঘাঁটিতে পাল্টা বিমান হামলা চালিয়েছে। মারিব, আল-জফ এবং লোহিত সাগরের বন্দরনগরী হোদেইদাহর টেলিকম অবকাঠামো, কামারান দ্বীপ ও ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ঘাঁটিতে এই হামলা চালানো হয়। ইয়েমেনি কর্মকর্তারা জানান, ২০২২ সাল থেকে চলা অস্ত্রবিরতি ভেঙে দুই পক্ষই এখন নতুন করে যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
পরিস্থিতি জটিল হলেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, আপাতত ইরানে কোনো বড় ধরনের সামরিক হামলা চালানো হবে না। সংঘাত থামানোর লক্ষ্যে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে পর্দার অন্তরালে সংলাপ চলছে। টানা ১৩ দিন ক্ষেপণাস্ত্র বিনিময়ের পর গত শুক্রবার রাতে ইরানের প্রধান শহরগুলোতে বড় কোনো হামলার খবর পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানান, ইরান হুমকিতে ভয় পায় না এবং চাপের মুখে নতি স্বীকার করে না।
মার্কিন আর্থিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান জেপি মর্গানের তথ্য অনুযায়ী, পারস্য উপসাগরের বিকল্প হিসেবে লোহিত সাগর দিয়ে দিনে ৭০ লাখ ব্যারেল তেল পার হতো। এখন শুধু সৌদিরই ৫০ লাখ ব্যারেল তেল সরবরাহ হুমকির মুখে পড়েছে। প্রতিষ্ঠানটির বৈশ্বিক পণ্যসামগ্রী কৌশল বিভাগের প্রধান নাতাশা কানেভা জানান, সৌদি আরব চাইলে সুয়েজ খাল দিয়ে বিকল্প উপায়ে তেল পাঠানোর চেষ্টা করতে পারে, তবে গভীরতার কারণে বড় ট্যাঙ্কারগুলো আটকে যাবে। ছোট ট্যাঙ্কারে পাঠালে গন্তব্যে পৌঁছাতে স্বাভাবিকের চেয়ে দ্বিগুণ সময় লাগবে।
তাছাড়া উচ্চঝুঁকির কারণে বীমা প্রতিষ্ঠানগুলো ইরানকে টোল দেওয়া জাহাজের বীমা সুবিধা বন্ধ করে দিচ্ছে। এর পাশাপাশি ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, চলতি মাসের শুরুর দিকে বাহরাইন ও কুয়েত গোপনে যুদ্ধবিমান দিয়ে ইরানের ভেতরে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র মজুতাগারে আঘাত হেনেছিল। সব মিলিয়ে বর্তমান পরিস্থিতি বৈশ্বিক তেলের বাজারকে এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
জেএইচআর