community-bank-bangladesh
Amar Sangbad
ঢাকা সোমবার, ২৪ জুন, ২০২৪,

আইনজীবী সমিতির পুনর্নির্বাচনের দাবি বিএনপির

নিজস্ব প্রতিবেদক

নিজস্ব প্রতিবেদক

মার্চ ১৭, ২০২৩, ০২:৫০ পিএম


আইনজীবী সমিতির পুনর্নির্বাচনের দাবি বিএনপির

সদ্য শেষ হওয়া সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে অনিয়ম, ভোট চুরির অভিযোগ এনে পুনরায় নির্বাচনের দাবি জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

শুক্রবার (১৭ মার্চ) সকালে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানান তিনি।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, দুর্ভাগ্যজনকভাবে লক্ষ্য করেছি যে দেশের অন্য সব নির্বাচনের মতো সর্বোচ্চ আদালতের আইনজীবীদের সমিতির নির্বাচনেও ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক চরিত্রের নগ্ন বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। আইনগতভাবে কোনও নির্বাচন অনুষ্ঠিত না হলেও নির্বাচনের নাটক সাজিয়ে একতরফাভাবে ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীদের অবৈধভাবে নির্বাচিত ঘোষণা করা হয়েছে।

তিনি বলেন, আমরা সবসময় বলে আসছি, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও তাদের ছত্র-ছায়ায় দেশের কোথাও কোনও অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠান সম্ভব নয়। জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও বিভিন্ন স্তরের স্থানীয় নির্বাচনে ইতোপূর্বে বার বার প্রমাণিত হয়েছে। সর্বশেষ প্রমাণ সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির নির্বাচন। এর আগে ঢাকা আইনজীবী সমিতি নির্বাচনেও একই ধরনের প্রহসনের নির্বাচন করা হয়েছে।

মির্জা ফখরুল বলেন, বাংলাদেশ রাষ্ট্র আজ বিপন্ন। রাষ্ট্রকে মেনে নেওয়ার জন্য মানুষের সবচেয়ে বেশি আস্থা থাকে বিচার বিভাগের ওপর। এই বিচার বিভাগ যখন আক্রান্ত ও কুলষিত হয়, তার কার্যকারিতা প্রায় বিনষ্ট হয়ে যায়, তখন সেই রাষ্ট্রের ওপর জনগণের আস্থা একেবারে পড়ে যায়। দুভার্গ্য, আজকে বাংলাদেশে তাই ঘটছে।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, বাংলাদেশ এখন আর সত্যিকার অর্থে কার্যকর গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র নেই। দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে আওয়ামী লীগ ধ্বংস করে দিয়েছে। তার সর্বোচ্চ উদাহরণ ন্যাক্কারজনক উদাহরণ আমরা দেখালাম, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে, যেটাকে দেশের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্টের অংশীজন বলা হয়ে থাকে।

সুপ্রিম কোর্টে আইনজীবী সমিতির গত নির্বাচনের আগ পর্যন্ত এই নির্বাচনের প্রতি মানুষের আস্থা ছিল বলে উল্লেখ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, মানুষ মনে করতো অত্যন্ত এখানে কারচুপির হবে না। জোর করে কিছু করা হবে না। কিন্তু গতকাল ও তার আগের দিন দেখলাম সেই জায়গায়ও আওয়ামী লীগ অত্যন্ত ন্যাক্কারজনক এবং মধ্যযুগীয় কায়দায় পুলিশ বাহিনীকে ব্যবহার করে দখল করেছে। এই দেশকে ব্যর্থ রাষ্ট্র করার বড় পদক্ষেপ তারা নিয়েছে।

মির্জা ফখরুল আরও বলেন, আমরা সবসময় বলে আসছি যে, আওয়ামী লীগ ও তাদের ছত্র-ছায়ায় দেশের কোথাও কোনও অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠান সম্ভব নয়। জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও বিভিন্ন স্তরের স্থানীয় নির্বাচনে ইতোপূর্বে বার বার প্রমাণিত হয়েছে। সর্বশেষ প্রমাণ সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির নির্বাচন। তার আগে ঢাকা আইনজীবী সমিতি নির্বাচনেও একই ধরনের প্রহসনের নির্বাচন করা হয়েছে।

আওয়ামী লীগের চরিত্রই হচ্ছে বারবার জোর করে ক্ষমতায় যাবে- এমন মন্তব্য করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, যখন তারা ক্ষমতায় থাকবে তাদের অধীনে যে নির্বাচন হবে সেটা তারা নিয়ন্ত্রণে নেবে। তাদের মতো করে প্রার্থীকে জয়ী ঘোষণা করবে। সুতরাং যারা মধ্যযুগীয় বর্বরতার মধ্যে চলে গেছে, কোনোমতেই তাদের অধীনে নির্বাচন সম্ভব নয়।

বিএনপির মহাসচিবের দাবি, নির্বাচন সাব-কমিটির আহ্বায়ককে মুনসুরুল হক চৌধুরী নির্বাচনের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্নও করেছিলেন। কিন্তু নির্বাচনের দুইদিন আগে বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদ সমর্থিত সভাপতি ও সম্পাদক পদপ্রার্থী তাকে দিয়ে অনৈতিক ভোট ডাকাতির নির্বাচনে সম্মত করতে না পেরে পদত্যাগে বাধ্য করেন। তাদের একান্ত অনুগত একজন দলীয় আইনজীবীকে দিয়ে নির্বাচনী নাটক মঞ্চস্ত করার আয়োজন করে।

ফখরুল বলেন, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির গঠনতন্ত্র মোতাবেক নির্বাচন সাব-কমিটি পুনর্গঠন না করা পর্যন্ত নির্বাচন বন্ধ রাখার দাবি জানায় জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্য প্যানেলের প্রার্থীরা। তখনই আওয়ামী সমর্থিত সভাপতি শতশত পুলিশ নিয়ে গত ১৫ মার্চ সমিতির অডিটরিয়ামে প্রবেশ এবং নারকীয় পরিবেশ সৃষ্টি করে। তারা আইনজীবীদের ওপর আক্রমণ করে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্য প্যানেলের প্রার্থী ও তাদের এজেন্টদের জোরপূর্বক বের করে দেয়। পুলিশি আক্রমণে সমিতির সভাপতি পদপ্রার্থীসহ শতাধিক আইনজীবী আহত হন। নারী আইনজীবারাও পুলিশি আক্রমণ ও নির্যাতন থেকে রেহাই পাননি। পেশাগত দায়িত্ব পালনরত বেশ কয়েকজন সাংবাদিককে বেদম প্রহার করে গুরুতর আহত করা হয়। উল্টো ১২ জন বিজ্ঞ আইনজীবীর বিরুদ্ধে দুটি মিথ্যা ও বানোয়াট মামলা দায়ের করা হয়েছে। একজন আইনজীবীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এসবই তাদের ফ্যাসিস্ট চরিত্রের বহিঃপ্রকাশ। উদ্ভুত পরিস্থিতিতে আওয়ামী আইনজীবী ও পুলিশি তান্ডবে পরে আর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি। তা সত্ত্বেও নির্বাচনের নামে প্রহসন করা হয়েছে। এটা শুধুমাত্র আইনজীবী সমাজেরই নয়, পুরো জাতীর জন্যই কলঙ্কজনক।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিতি ছিলেন বিএনপির সহ-দপ্তর সম্পাদক তাইফুল ইসলাম টিপু, চেয়ারপারসনের প্রেস উইংয়ের সদস্য শামসুদ্দীন দিদার।

আরএস

Link copied!