ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Amar Sangbad

ইনস্টাগ্রাম

Amar Sangbad

এক্স

Amar Sangbad


লিংকডইন

Amar Sangbad

পিন্টারেস্ট

Amar Sangbad

গুগল নিউজ

Amar Sangbad


হোয়াটস অ্যাপ

Amar Sangbad

টেলিগ্রাম

Amar Sangbad

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Amar Sangbad


ফিড

Amar Sangbad

ঢাকা শনিবার, ১৮ জুলাই, ২০২৬

আযানের বিবরণ, গুরুত্ব ও মুসলমানের করণীয়

আমার সংবাদ ধর্ম ডেস্ক

আমার সংবাদ ধর্ম ডেস্ক

নভেম্বর ৬, ২০২৫, ১১:৫৭ এএম

আযানের বিবরণ, গুরুত্ব ও মুসলমানের করণীয়

ইসলামের প্রতিটি ইবাদতের মধ্যেই লুকিয়ে আছে এক গভীর শিক্ষা। নামাজ যেমন ইসলামের স্তম্ভ, তেমনি আযান হলো সেই স্তম্ভের আহ্বান। আযান শুধু নামাজে ডাকার মাধ্যম নয়, বরং এটি তাওহিদ, নবুয়ত ও ইসলামী ঐক্যের প্রতীক। মুসলমানদের দৈনন্দিন জীবনে আযান তাই এক অনন্য ধর্মীয় ও সামাজিক গুরুত্ব বহন করে।

আযানের উৎপত্তি ও ঐতিহাসিক বৃত্তান্ত: মদীনায় হিজরতের পর মুসলমানরা নামাজের জন্য নির্দিষ্ট সময়ে একত্রিত হতেন, কিন্তু তখনো কোনো আহ্বানের পদ্ধতি নির্ধারিত হয়নি। সাহাবায়ে কিরাম আলোচনা করলেন, নামাজের সময় জানানোর জন্য ঘণ্টা বাজানো হবে কি না, শিঙ্গা ফোঁকা হবে কি না, অথবা আগুন জ্বালিয়ে সংকেত দেওয়া হবে কি না।

তখন সাহাবি আবদুল্লাহ ইবনু যায়দ (রাঃ) স্বপ্নে আযানের বাণী শুনলেন। তিনি সকালে এসে নবী করিম (সা.) কে স্বপ্নের কথা জানালে, রাসুল (সা.) বললেন, এটি সত্য স্বপ্ন। বিলালকে বলো, যেন সে তোমার শেখানো শব্দগুলো দিয়ে আযান দেয়। (সহীহ আবু দাউদ, হাদীস: ৪৯৮) সেই থেকে আযান ইসলামী সমাজে নামাজের আনুষ্ঠানিক আহ্বান হিসেবে প্রচলিত হয়।

আযানের অর্থ ও গুরুত্ব: 'আযান' শব্দটি আরবি ‘أَذَان’ থেকে উদ্ভূত, যার অর্থ ‘অবগতি’ বা ‘ঘোষণা’। আযানের প্রতিটি বাক্যে ইসলামি বিশ্বাসের মূল ভিত্তি ফুটে উঠেছে, الله أكبر، الله أكبر — (আল্লাহ মহানতম), أشهد أن لا إله إلا الله — (আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই), أشهد أن محمدًا رسول الله — (আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, মুহাম্মদ (সা.) আল্লাহর রাসুল), حي على الصلاة — (নামাজের দিকে আসো), حي على الفلاح — (সফলতার দিকে আসো)।

এই আহ্বান মানুষকে দুনিয়ার ব্যস্ততা থেকে সরিয়ে আল্লাহর দিকে মনোনিবেশ করতে উদ্বুদ্ধ করে।

আযানের ফজিলত সম্পর্কে বহু সহীহ হাদীস রয়েছে। রাসুল (সা.) বলেছেন, আযানদাতা কিয়ামতের দিন সর্বোচ্চ মর্যাদা পাবে এবং তার কণ্ঠ যেখানে পৌঁছায়, সেখানে যত জিন ও মানুষ আছে, তারা তার পক্ষে সাক্ষ্য দেবে।
(সহীহ বুখারী, হাদীস: ৬০৯)

আরেক হাদীসে বলা হয়েছে, আযান শুনে যে ব্যক্তি মুযযিনের কথা পুনরাবৃত্তি করে, তার জন্য জান্নাত ওয়াজিব হয়। (সহীহ মুসলিম, হাদীস: ৩৮৫)

আযান শোনার পর করণীয়: আযান শোনা অবস্থায় কথা না বলা, মনোযোগ সহকারে শোনা। প্রতিটি বাক্যের জবাব দেয়া, যেমন মুযযিন বলেন 'আল্লাহু আকবার' উত্তরেও বলা 'আল্লাহু আকবার'। তবে 'হাইয়া আলাস সালাহ' ও 'হাইয়া আলাল ফালাহ' শুনলে বলা উচিত— লা হাউলা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ (অর্থাৎ, আল্লাহ ছাড়া কোনো শক্তি বা ক্ষমতা নেই)। আযান শেষে দরুদ শরীফ পড়ে এই দোয়া পাঠ করা— (হে আল্লাহ! এই পরিপূর্ণ দাওয়াত (আযান) ও প্রতিষ্ঠিত সালাতের পালনকর্তা, মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে দাও উচ্চ মর্যাদা ও বিশেষ অনুগ্রহ)। (সহীহ বুখারী, হাদীস: ৬১৪) এ দোয়া পাঠ করলে রাসুল (সা.)-এর সুপারিশের সৌভাগ্য লাভ হবে।

সমাজে আযানের ভূমিকা: আযান শুধু নামাজের আহ্বান নয়, বরং এটি মুসলিম সমাজের চেতনা ও ঐক্যের প্রতীক। পৃথিবীর প্রতিটি প্রান্তে প্রতিদিন ২৪ ঘণ্টায় কোনো না কোনো জায়গায় আযানের ধ্বনি প্রতিধ্বনিত হচ্ছে। এটি ইসলামী ঐক্যের এক জীবন্ত নিদর্শন।

আযানের মাধ্যমে মুসলমানরা প্রতিদিন স্মরণ করে, জীবনের আসল সফলতা হলো আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন।

আযান মুসলিম জীবনের স্পন্দন। এটি মানুষকে জাগিয়ে তোলে, শুদ্ধতার পথে আহ্বান করে এবং সমাজে একত্রিত করে আল্লাহর নামে। আমাদের করণীয় হলো- আযান শুনে দুনিয়ার ব্যস্ততা থামিয়ে নামাজে সাড়া দেয়া, শিশুদের মধ্যে আযানের মাহাত্ম্য শেখানো, প্রতিটি মসজিদে নিয়মিত ও শুদ্ধ উচ্চারণে আযান দেওয়া নিশ্চিত করা। যে সমাজ আযানের প্রতি শ্রদ্ধাশীল, সেই সমাজ আল্লাহর নিকট বরকতপূর্ণ হয়। আল্লাহ ও তাঁর ফেরেশতাগণ আযানদানকারী ব্যক্তির জন্য রহমত প্রার্থনা করেন। (মুস্তাদরাক হাকিম)

জেএইচআর

Link copied!