Amar Sangbad
ঢাকা মঙ্গলবার, ১৭ মে, ২০২২, ৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯

লঙ্কার বিদ্রোহে সতর্ক দৃষ্টি

নিজস্ব প্রতিবেদক

মে ১১, ২০২২, ১২:৪৪ এএম


লঙ্কার বিদ্রোহে সতর্ক দৃষ্টি

শ্রীলঙ্কায় সরকারবিরোধীদের বিদ্রোহের আগুন। জ্বলছে রাজপ্রাসাদ। সেই দৃশ্য মুহূর্তে ছড়িয়ে পড়ছে নেট দুনিয়ায়। হামলা থেকে বাদ পড়ছে না মন্ত্রী-এমপিদের বাড়িঘরও। ক্ষোভের প্রকাশ ও আন্দোলনে চলছে জনতার উল্লাস। 

মন্ত্রীদের জনতার সামনে লাঞ্ছিত করার দৃশ্যও প্রকাশ পাচ্ছে। পুরো দেশটি এখন সহিংসতায় রূপ নিয়েছে। এ পর্যন্ত পাঁচজন নিহতসহ আহত হয়েছে শতশত। চলছে  কারফিউ। সেনাবাহিনীর হাতে এখন ক্ষমতা। উন্নয়নশীল দেশের এমন ঘটনায় বাংলাদেশ থেকেও বিশেষ চোখ রাখা হচ্ছে। 

রাজনীতি বিশ্লেষক ও নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাজনৈতিক সহিংসতার মূল কারণ হচ্ছে— দুর্নীতি, স্বেচ্ছাচারিতা, আত্মসাৎ, স্বজনপ্রীতি ও অযোগ্য নেতৃত্ব। পারিবারিক নেতৃত্বের খেসারত দিতে হবে পুরো শ্রীলঙ্কাকে। রাষ্ট্রপরিচালনার সব ক্ষেত্রে পরিবারতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করায় জনমনে অসন্তোষ দানাবাঁধে।

ওই দেশে শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ জানাচ্ছিলেন মানুষ। কিন্তু প্রতিবাদি জনতার ওপর যেভাবে আক্রমণ করা হয় তা ছিল অপ্রত্যাশিত। রাষ্ট্রীয় বাহিনী দিয়ে আন্দোলনরত মানুষের ওপর নির্যাতন করা হয়। উদ্দেশ্য ছিল জনতার প্রতিবাদী কণ্ঠ স্তব্ধ করা। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। জনগণের ক্ষোভ তীব্র আকার ধারণ করে। রাজাপ্রাসাদে পেট্রোলবোমা ছুড়তেও দ্বিধা করছে না জনগণ। এই ঘটনায় বাংলাদেশে  প্রভাব না পড়লেও অবশ্যই সূক্ষ্ম নজর রাখার কথা বলছেন বিশেষজ্ঞরা। 

এ নিয়ে নিরাপত্তা বিশ্লেষক মে. জে. (অব.) মোহাম্মাদ আলী শিকদার আমার সংবাদকে বলেছেন, ‘শ্রীলঙ্কার ঘটনা উন্নয়নশীল সব দেশের জন্য বার্তা রয়েছে। একটা পারিবারিক নেতৃত্বের ফলে যে পরিণতি ঘটে শ্রীলঙ্কা তার উদাহরণ। শ্রীলঙ্কায় যারা রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা ছিল তারা গুরুত্বপূর্ণ সব পদে প্রধানমন্ত্রীর আত্মীয়-স্বজন ছিল। সেখানে ভিন্নমতের দীর্ঘ সময় পর্যন্ত কোনো অগ্রাধিকার দেয়া হয়নি। একটা ভয়ানক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। 

অভ্যন্তরীণ রাজনীতির কারণে প্রধানমন্ত্রীর রাতারাতি নিজস্ব মতামত ও পরিবারতন্ত্র এককেন্দ্রিক প্রতিষ্ঠিত হওয়াতে আক্রোশে পরিস্থিতি তৈরি হয় ভিন্নমতার্শীদের। কিংবা প্রধানমন্ত্রী যদি ধীরে ধীরে তার উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন করতেন  কিংবা বিরোধীদের ওপর আক্রমণ পর্যন্ত না যেতেন তাহলে আজকের এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হতো না।’ 

তিনি আরো বলেন, ‘বিদ্রোহের আরো একটা কারণ ছিল সামরিক পর্যায় থেকে নির্যাতন। জাতিসংঘসহ বিভিন্ন মাধ্যম থেকে জানা যায়, শ্রীলঙ্কায় প্রায় সেনাশাসন দ্বারা ৪০ হাজার  সাধারণ মানুষকে হত্যা করা হয় । এ জন্য আজকে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে এতে প্রধানমন্ত্রীসহ তাদের আত্মীয়-স্বজন কেউ রেহাই পাওয়ার সুযোগ নেই।  একটি দেশের একজন মানুষের ভুলের কারণে এখন পুরো দেশকে তার খেসারত দিতে হচ্ছে।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ড. ইমতিয়াজ আহমেদ আমার সংবাদকে বলেছেন, ‘শ্রীলঙ্কায় যে বড় ধরনের ঘটনা ঘটে গেছে আমাদের বাংলাদেশে তার কোনো প্রভাব না পড়লেও অবশ্যই এর দিকে নজর রাখতে হবে। কারণ এই দেশটি উন্নয়নের কথা বলে নিজেদের দেশের জনগণের ওপর দীর্ঘ সময় পর্যন্ত ভরসা রাখতে পারেনি। এককেন্দ্রিক পরিবারতন্ত্রকে গুরুত্ব দিয়ে রাষ্ট্রীয়ভাবে ভিন্ন দেশে তাদের ছেলে সন্তানদের   উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত করেছে। অন্যরা তা পায়নি।  দীর্ঘ সময় যে জটিলতা ছিল সেটি ধীরে ধীরে সমাধান না করে সাধারণ মানুষের ওপর আক্রোশের পর্যায় যাওয়াতে এই ঘটনা ঘটেছে । আমি বলব বাংলাদেশে এর প্রভাব না পড়লেও অবশ্যই নজর রাখতে হবে।’ 

আওয়ামী লীগের সাবেক প্রেসিডিয়াম সদস্য নুহ-উল-আলম লেনিন আমার সংবাদকে বলেন, ‘যেকোনো দেশের কোনো বড় বড় ঘটনা ঘটলে আমাদের নজর রাখতে হয়।  আমি আমরা যেমন রাজনৈতিক ব্যক্তি হিসেবে নজর রাখছি,  নিশ্চয়ই আমাদের সরকার, পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয় নজর রাখছে। কারণ উন্নয়নশীল দেশগুলো দেশে এ ধরনের ঘটনা ঘটলে অবশ্য নজর রাখা উচিত। কারণ আজকে শ্রীলঙ্কায় যেটি ঘটে গেছে সেটি অবশ্যই পরিবর্তনের কারণে দেশের সাধারণ মানুষকে গুরুত্ব না দেয়ায়। পরিবারতন্ত্রের ওপর একচেটিয়া ভরসা করে গুরুত্বপূর্ণ পদে চিন্তা করায় পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তাই শ্রীলঙ্কার ভুলগুলো থেকে উন্নয়ন দেশগুলোর শিক্ষা এবং নজর রাখা উচিত।’ 

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আমার সংবাদকে বলেন, ‘যে দেশের সরকার অযোগ্য ও দুর্নীতিবাজ তাদের জন্য শ্রীলঙ্কার ঘটনা সাবধান হওয়ার ইঙ্গিত রয়েছে। উচিত হবে অযোগ্য নেতারা আগে থেকেই সরে যাওয়া। নতুবা তাদেরও এমন অবস্থায় পড়া আশ্চর্যজনক নয়।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘শ্রীলঙ্কার পরিস্থিতি থেকে এই সরকারের শিক্ষা নিয়ে লাভ হবে না। কারণ শিক্ষা নিতে জানে না তারা। তাহলে এই ১০ বছরে শিক্ষা নিতে পারত। কোনো শিক্ষা নেয়নি। এদের (শ্রীলঙ্কা) চেয়েও খারাপ অবস্থা হবে। শ্রীলঙ্কাতে নদীতে ঝাঁপিয়ে পড়েছে না সব। দেখবেন এরা বঙ্গোপসাগরে ঝাঁপিয়ে পড়বে।’