Amar Sangbad
ঢাকা সোমবার, ২০ মে, ২০২৪,

উপাচার্য ছাড়াই চলছে বিশ্ববিদ্যালয়

মো. নাঈমুল হক

মার্চ ১৬, ২০২৪, ১২:১৯ এএম


উপাচার্য ছাড়াই চলছে বিশ্ববিদ্যালয়
  • উপাচার্য নেই ৩২ বিশ্ববিদ্যালয়ে
  • উপ-উপাচার্য নেই ৭১টির, ট্রেজারার নেই ৩৬টির 
  • উপেক্ষিত ইউজিসির বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন
  • ইউজিসি ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলো পরস্পরকে দোষারোপ

এ পদগুলো খালি থাকার অর্থই হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো সঠিকভাবে পরিচালিত হচ্ছে না
—আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক, সাবেক ভিসি, ঢাবি

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়মিত তদারকির সিস্টেম থাকা প্রয়োজন 
—ড. বিশ্বজিৎ চন্দ, ইউজিসি সদস্য

অভিভাবকদের উচিত ভালো মানের 
বিশ্ববিদ্যালয় বাছাই করা
—ড. ওমর ফারুক, পরিচালক, ইউজিসি

উচ্চশিক্ষা কার্যক্রমের অন্যতম প্রতিষ্ঠান বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়। বিশ্ববিদ্যালয় সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য প্রয়োজন সর্বস্তরের দায়িত্বশীল কর্মকর্তা। এর মধ্যে প্রথম সারিতে আছেন উপাচার্য, উপ-উপাচার্য ও ট্রেজারার। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান অভিভাবক উপাচার্য। শিক্ষার্থীদের সার্টিফিকেটসহ একাডেমিক ও প্রশাসন পরিচালনার অধিকাংশ কাজ তার নেতৃত্বে চলে। কিন্তু দেশের শিক্ষা কার্যক্রম চালু থাকা ১০০টি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নেই ৩২টির, উপ-উপাচার্য নেই ৭১টি, ট্রেজারার নেই ৩৬টি বিশ্ববিদ্যালয়ের। উপাচার্য না থাকার কারণ হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলো পরস্পরকে দোষারোপ করছে। 

শিক্ষাবিদরা বলছেন, এ পদগুলো খালি থাকার অর্থই হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো সঠিকভাবে পরিচালিত হচ্ছে না। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশাপাশি ইউজিসি ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার পরামর্শ দেন তারা। ইউজিসির সর্বশেষ প্রকাশিত বার্ষিক প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, মাত্র ১৩ বিশ্ববিদ্যালয় রাষ্ট্রপতি কর্তৃক অনুমোদিত ভিসি, উপ-উপাচার্য ও ট্রেজারারের পদ পূরণ করেছে। রাষ্ট্রপতি কর্তৃক অনুমোদিত উপাচার্য ৬৮ জন, উপ-উপাচার্য ২৯ জন, ট্রেজারার আছে ৬৪ বিশ্ববিদ্যালয়ের। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন অনুযায়ী, একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে বোর্ড অব ট্রাস্টিজ, সিন্ডিকেট, একাডেমিক কাউন্সিল, অনুষদ, ইনস্টিটিউট, পাঠক্রম কমিটি, অর্থ কমিটি, শিক্ষক নিয়োগ কমিটি ও শৃঙ্খলা কমিটি মিলিয়ে সর্বনিম্ন ৯ ধরনের কর্তৃপক্ষ থাকে। এর মধ্যে তিনটির সভাপতি থাকেন উপাচার্য। অন্য তিনটি কমিটির সভাপতি হন উপাচার্য মনোনীত শিক্ষক। আর বাকি তিনটিতে সভাপতি থাকেন বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সদস্যরা। এই তিনটিতে সদস্য হিসেবে থাকেন উপাচার্য এবং একটিতে ট্রেজারারের থাকা আবশ্যক। উপ-উপাচার্যও সদস্য থাকেন একাধিক কমিটিতে। উপাচার্য, উপ-উপাচার্য ও ট্রেজারার না থাকা বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এ গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো পরিচালনা করতে পারছে না। অথচ ইউজিসি আইনে এ ব্যাপারে স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে। 

ইউজিসি ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলো পরস্পরকে দোষারোপ : উপাচার্য, উপ-উপাচার্য ও ট্রেজারার না থাকার বিষয়ে ইউজিসি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো পরস্পরকে দোষারোপ করছে। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বলছে, আমাদের এই পদগুলো খালি হলেই আমরা ইউজিসিতে তালিকা পাঠাই। কিন্তু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা, যাচাই বাছাই প্রক্রিয়াসহ নানা কারণে আমরা সহজে উপাচার্য পাই না। এ ব্যাপারে ধানমন্ডির পিপলস ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের রেজিস্ট্রার আবু বকর আমার সংবাদকে বলেন, উপাচার্য নিয়োগ দীর্ঘ প্রক্রিয়ার অংশ। এরপরও আমাদের পূর্বের উপাচার্যের মেয়াদ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ইউজিসিতে আমরা কয়েকজনের তালিকা পাঠিয়েছি। ইউজিসি আমাদের তালিকাকে পরিবর্তন করতে বলেন। এরপর পুুনরায় আরও কয়েকজনের নাম দিয়েছি। ইউজিসির অনুমোদনের পর বর্তমানে আবেদন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে আছে। আশা করছি শীঘ্রই উপাচার্য পাবো। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো মানসম্মত দায়িত্বশীল কর্মকর্তা দিচ্ছে না জানিয়ে ইউজিসি জানায়, অনেক সময় বিশ্ববিদ্যালয়গুলো চায় না এ পদগুলোতে দায়িত্বশীল কর্মকর্তা থাকুক। এ পদগুলো খালি রেখেই মালিক পক্ষ বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনা করতে চায়। আবার অনেকে অযোগ্য লোকদেরও উপাচার্য হিসেবে চায়। একটা নির্দিষ্ট মান না থাকলে উপাচার্য হিসেবে ইউজিসি সুপারিশ করতে পারেন না। 

এসব বিষয়ে ইউজিসির বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচালক ড. ওমর ফারুক আমার সংবাদকে বলেন, আমাদের অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ের পর্যাপ্ত আর্থিক সামর্থ্য তৈরি হয়নি। শিক্ষক, কর্মকর্তাদের বেতনসহ যাবতীয় খরচ নির্বাহ করতে তাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। আমরা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে মনিটরিংয়ের আওতায় রেখেছি। কিন্তু এ ছাড়া আমাদের আর কোনো কিছু করার থাকে না। অভিভাবকদের পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, অভিভাবকদের উচিত ভালো বিশ্ববিদ্যালয়েগুলোকে বাছাই করা। তাহলে, পর্যাপ্ত শিক্ষা গ্রহণে তাদের সমস্যা হবে না। ইউজিসি আইন না মানার ব্যাপারে ইউজিসির বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সদস্য ড. বিশ্বজিৎ চন্দ আমার সংবাদকে বলেন, আমাদের ১০০টি বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। কোন বিশ্ববিদ্যালয় কী কী আইন মানছে না সেটা আমরা এক বছর পর জানতে পারি। এটা পুরনো পদ্ধতি। বর্তমান ডিজিটাল যুগে এটা আপডেট হওয়া প্রয়োজন। কোন বিশ্ববিদ্যালয়ের কী কী সমস্যা সেটা যেন আমরা সফটওয়্যারের মাধ্যমে দেখতে পারি এই ধরনের পদ্ধতি থাকা প্রয়োজন। 

উপাচার্য নিয়োগে সবার দায়িত্বের কথা জানিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ও বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক আমার সংবাদকে বলেন, একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, উপ-উপাচার্য ও কোষাধ্যক্ষের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে কেউ না থাকলে সেই বিশ্ববিদ্যালয় নানা ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হয়, এটা আমরা বুঝতে পারি। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উচিত এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ পদে যোগ্য লোককে নিয়োগ দেয়া। উপাচার্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ পদ। এ পদগুলো খালি থাকার অর্থই হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো সঠিকভাবে পরিচালিত হচ্ছে না। যোগ্য উপাচার্য বের করার জন্য সেই সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশাপাশি ইউজিসি ও শিক্ষা মন্ত্রণালয় দায়িত্ব নিতে পারে।
 

Link copied!