ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Amar Sangbad

ইনস্টাগ্রাম

Amar Sangbad

এক্স

Amar Sangbad


লিংকডইন

Amar Sangbad

পিন্টারেস্ট

Amar Sangbad

গুগল নিউজ

Amar Sangbad


হোয়াটস অ্যাপ

Amar Sangbad

টেলিগ্রাম

Amar Sangbad

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Amar Sangbad


ফিড

Amar Sangbad

ঢাকা শনিবার, ১৮ জুলাই, ২০২৬

স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পরিচ্ছন্নতাকর্মী

রায়হান উদ্দিন তন্ময়

নভেম্বর ১১, ২০২২, ০১:২৮ এএম

স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পরিচ্ছন্নতাকর্মী

জীবিকার তাগিদে বর্জ্য অপসারণের কাজ করছেন পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা। নেই কোনো নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থাও, অনিরাপদ বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছেন তারা, ভোগছেন নানা রোগ-শোকেও। অ্যাজমা, বক্ষব্যাধি, ক্যান্সারসহ নানান জটিল রোগে আক্রান্ত পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা। হাজিরাভিত্তিক বা স্বল্প বেতনে কাজ করা এসব শ্রমিকের জীবন যেখানে চলে সংগ্রাম করে, সেখানে উন্নত চিকিৎসা করানো তাদের জন্য দুঃসাধ্য।

তাই নিরাপদ বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও সুচিকিৎসা নিশ্চিতসহ সব সুযোগ-সুবিধার ব্যবস্থার পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের। তারা বলছেন, পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের জন্য মাস্ক, গামবুট, হ্যান্ডগ্লাভসের ব্যবস্থা করতে হবে। পাশাপাশি সপ্তাহে দুই থেকে তিন দিন একটি করে সাবান দিতে হবে। বারবার হাত ধোয়ার সুযোগ না থাকায় হ্যান্ড স্যানিটাইজারও দিতে হবে। ফলে মুক্তি পেতে পারে নানান রোগ থেকেও।  

জানা যায়, ঢাকার দুই সিটির তথ্য অনুসারে, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনে (ডিএনসিসি) ৫০ এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে (ডিএসসিসি) ৫৬টি এসটিএস রয়েছে। সবগুলো এসটিএসে অনিরাপদ বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছেন কর্মীরা। 
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় থেকে কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিধিমালা-২০২১ করা হলেও বাস্তবায়ন নেই দুই সিটি কর্পোরেশনের বর্জ্য ব্যবস্থাপনায়।

বিধিমালায় বলা হয়েছে, সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশনে (এসটিএস) তিন শ্রেণির বর্জ্য সংরক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। জৈবিকভাবে পচনশীল কঠিন বর্জ্যের জন্য সবুজ, অপচনশীল কঠিন বর্জ্যের জন্য হলুদ ও গার্হস্থ্যের ঝুঁকিপূর্ণ কঠিন বর্জ্যের জন্য লাল রঙবিশিষ্ট পাত্র রাখতে হবে। এতে কঠিন বর্জ্য প্রক্রিয়াকরণ, পুনর্ব্যবহার উপযোগীকরণ ও চূড়ান্ত পরিত্যাজ্যের উদ্যোগ নেয়া সহজ হবে। এর মাধ্যমে পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের ঝুঁকিও অনেক কমে আসবে। 

নিরাপদ বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য সমপ্রতি ঢাকা কলিং (ডিএসকে, কাপ, বারসিক ও ইনসাইটসের কনসোর্টিয়াম) প্রকল্পের উদ্যোগে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির কাছে দুটি স্মারকলিপি দেয়া হয়েছে। 

তাতে বলা হয়েছে, বিপজ্জনক বর্জ্যকে কীভাবে ব্যবস্থাপনা করা হবে এবং বর্জ্যের সঠিক ব্যবস্থাপনায় সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশনের কার্যক্রম কীভাবে তদারকি করা হবে, এ সংক্রান্ত কোনো নির্দেশনা নেই।

তাই পরিবেশ রক্ষায় ও এর সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনায় সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশনকে পরিবেশ সংরক্ষণ বিধিমালা-১৯৯৭-এ লাল অথবা কমলা-খ শ্রেণিভুক্ত করার দাবি জানানো হয়। ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন সূত্রে জানা যায়, মাস্টারপ্ল্যান অনুসারে ২০২৫ সাল থেকে পচনশীল-অপনশীল বর্জ্য আলাদাভাবে সংগ্রহ করা হবে। এমনটি করা গেলে স্বাস্থ্যঝুঁকিসহ কয়েকটি সমস্যাও কমে আসবে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কর্মীদের নিরাপত্তার বিষয়টিও মাথায় রাখা হয়েছে।

সরেজমিন দেখা যায়, রাজধানীসহ দেশের সবক’টি সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভায় যথাযথ প্রক্রিয়া না মেনেই বাসাবাড়ি থেকে ময়লা সংগ্রহ করা হচ্ছে। পাশাপাশি এসটিএসেও পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা একইভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। তবে যেসব পরিচ্ছন্নতাকর্মী সড়ক পরিচ্ছন্নতায় নিয়োজিত রয়েছেন তারা মাস্ক ব্যবহার করছেন তা দেখা যায়। আবার খুব কম সংখ্যক পরিচ্ছন্নতাকর্মী গামবুট ব্যবহার করে থাকেন।

তবে তাদের অভিযোগ সিটি কর্পোরেশনগুলো থেকে পর্যাপ্ত পরিমাণ নিরপত্তামূলক সরঞ্জাম সরবরাহ করা হয়। পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে উত্তর সিটির সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশন (এসটিএস) থেকে বর্জ্য সিটি কর্পোরেশনের ট্রাকে তুলে দেন জসিম মিয়া। তিনি বলেন, বাসাবাড়ি থেকে বিভিন্ন ধরনের ময়লা আবর্জনা আসে। এতে অনেক সময় কাচ বা ধারালো জিনিস থাকে। এতে অনেক সময় তাদের হাত পা কেটে যায়। এমন পরিস্থিতিতেও তারা কাজ করে যাচ্ছেন। ধীরে ধীরে শরীরের কাটা জায়গায় পরবর্তীতে ঘায়ের সৃষ্টি হচ্ছে। এছাড়াও তারা বুকের সমস্যাসহ নানা জটিল রোগেও ভোগে থাকেন বলে জানান। একই কথা জানান আরও কয়েকজন পরিচ্ছন্নতাকর্মী।

তারা আরও বলেন, যেসব আবর্জনা আসে তাতে কী থাকে তা না জেনেই আমাদের কাজ করতে হয়। কী আর করব, পেটের তাগিদে ঝুঁকি জেনেও কাজ করতে হচ্ছে। যে টাকা বেতন পাই তাতে সংসার চালানোই কষ্টকর। সেখানে ভালো চিকিৎসা করানো তো আমাদের চিন্তার বাইরে। সিটি কর্পোরেশন থেকে যদি চিকিৎসার ব্যবস্থার করার দাবি জানাই। পাশাপাশি রোগবালাই থেকে বেঁচে থাকতে নিরাপত্তামূলক সরঞ্জামও চাই।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ বিভাগের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক ডা. বেনজির আহমেদ আমার সংবাদকে বলেন, ‘পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের ন্যূনতম কোনো প্রটেকশন বা নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নেই। ফলে বর্জ্যের অবস্থাপনায় পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা বিভিন্নভাবে নানা রোগে আক্রান্ত হতে পারেন। শ্বাস-প্রশ্বাস-হাত পায়ের মাধ্যমে আক্রান্ত হতে পারেন। শ্বাসনালীর মাধ্যমে তাদের ফুসফুসে আক্রান্ত হতে পারেন। অপচনশীল বর্জ্য যেমন— কাচের মাধ্যমে পা কেটে যাওয়ার মাধ্যমে আক্রান্ত হতে পারেন। এতে করে রক্তের মাধ্যমে সারা দেহে ছড়িয়ে পড়তে পারে। এমনকী তারা ক্যান্সারসহ আরও জটিল রোগেও আক্রান্ত হতে পারেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের ন্যূনতম নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। সবার জন্য মাস্ক, গামবুট, হ্যান্ডগ্লাভসের ব্যবস্থা করতে হবে। তাহলে এর থেকে প্রতিকার পাওয়া যাবে। সপ্তাহে দুই থেকে তিন দিন একটি করে সাবান দিতে হবে। যেহেতু তাদের বারবার হাত ধোয়ার সুযোগ থাকে না তাই তাদের হ্যান্ড স্প্রে দিতে হবে। পাশাপাশি তারা যেহেতু খুব অল্প বেতন পায়, তাই তাদের জন্য চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে।’

ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সেলিম রেজা আমার সংবাদকে বলেন, ‘বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় জড়িত পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা স্বাস্থ্যঝুঁকিতে আছে এটি সত্য। তবে আগের তুলনায় এখন অনেক কম। এমনকী বিপজ্জনক কঠিন বর্জ্যের কারণেও পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা ঝুঁকিতে থাকেন। আমাদের এখানে প্রায় চার থেকে পাঁচ হাজার পরিচ্ছন্নতাকর্মী কাজ করছেন। তাদের জীবন মান উন্নয়নে আমরা কাজ করছি। তাদের সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা দেয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসছে। আগে নাকে রুমাল ধরে চলাচল করতে হতো। এখন এমন পরিস্থিতি আর নেই। সব জায়গায় অস্থায়ী ভাগাড় বা সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশনের (এসটিএস) ব্যবস্থা করা হয়েছে।

পাশাপাশি আন্ডারগ্রাউনের মাধ্যমেও ময়লার ভাগাড় করার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এছাড়াও আমরা বর্জ্যের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদনে যাচ্ছি। এর জন্য প্রতিদিন আমাদের সাড়ে তিন হাজার টন বর্জ্যের দরকার। সে জন্য গাজীপুর সিটিকে ইতোমধ্যে বলে রেখেছি। যেন ময়লার ঘাটতি না পড়ে। এ বিষয়ে জানতে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ফরিদ আহাম্মদকে কয়েকবার কল দিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি।

Link copied!