নভেম্বর ৬, ২০২৩, ১২:৪৫ এএম
- অধিকাংশ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে চলছে অনলাইন ক্লাস
- সরকারি কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে এ সপ্তাহ থেকে শুরু হয়েছে
- অবরোধে শিক্ষার্থীদের ক্লাসে উপস্থিতি কমায় এমন পদক্ষেপ
শিক্ষার্থীদের সাময়িক ক্ষতি পোষানোর জন্য অনলাইন ক্লাস ভালো পদক্ষেপ
—ড. মিজানুর রহমান, অধ্যাপক, ঢাবি
নভেম্বরের শুরু থেকেই সারা দেশে চলছে লাগাতার অবরোধ কর্মসূচি। বিভিন্ন স্থানে বাস পোড়ানো, বাসে ঢিল ছোড়া, রাস্তায় ককটেল ফোটানো, বিরোধীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ অবরোধের নিত্য ঘটনা। এমন পরিস্থিতিতে সারা দেশে জনমনে বিরাজ করছে আতঙ্ক। একই ধরনের প্রভাব বিরাজ করছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে। বিগত কয়েক দিনের অবরোধে পুড়েছে কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস। ঢিলে বাসের গ্লাস ভাঙা ও ককটেল ফোটানোর মতোও ঘটনা ঘটেছে। এর ফলে অনলাইন ক্লাসমুখী হয়েছে অধিকাংশ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়। গতকাল থেকে সরকারি কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ও অনলাইনে ক্লাস শুরু করেছে। শিক্ষকরা জানিয়েছেন, অবরোধে শিক্ষার্থীরা ক্লাসে আসতে না পারায় এমন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। শিক্ষাবিদরা সাময়িক ক্ষতি পোষাণোর জন্য অনলাইনকে ভালো পদক্ষেপ বলছেন।
জানা যায়, গত কয়েক দিনের অবরোধে দেশের বিভিন্ন স্থানে বাসে আগুন দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে গ্রীণ ইউনিভার্সিটির দুটি বাস ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি বাসও রয়েছে। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী থাকা বাসে ঢিল ছুড়ে গ্লাস ভাঙা ও ককটেল ফোটানোর ঘটনা ঘটেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিদের তথ্য থেকে জানা যায়, অবরোধের কারণে অধিকাংশ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় অনলাইনে ক্লাস শুরু করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো হলো— গ্রিন ইউনিভার্সিটি, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়, আহছানউল্লা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়, ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, আইইউবিএটি, প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটি, ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটি, এক্সিম ব্যাংক কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়সহ অন্যান্য। তবে শুক্র ও শনিবার বিশ্ববিদ্যালয়গুলো অফলাইনে পরীক্ষা নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
সরকারি অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বশরীরে ক্লাস চললেও কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় অনলাইনে ক্লাস শুরু করেছে। এ সপ্তাহ থেকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকাংশ বিভাগে অনলাইনে ক্লাস শুরুকরেছে শিক্ষকরা। বিশ্ববিদ্যালয়টিতে বন্ধ রয়েছে পরীক্ষা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মানবিক ও কয়েকটি বিভাগের কয়েকটি বিভাগে অনলাইনে ক্লাস শুরু হয়েছে। কুমিল্লা, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়েরও অধিকাংশ বিভাগে চলছে অনলাইনে ক্লাস। অনলাইনে ক্লাসের ব্যাপারে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী খালিদ আহমেদ বলেন, আমাদের সব শিক্ষার্থীর জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে আবাসনের ব্যবস্থা নেই। অনেক শিক্ষার্থী নরসিংদী, মুন্সিগঞ্জ, গাজীপুর থেকে এসেও ক্লাস করে। নির্বাচনপূর্ব হরতাল-অবরোধে সবার মধ্যেই আতঙ্ক থাকে। অধিকাংশের বাবা-মা সন্তানদের এ ঝুঁকি নিয়ে ক্যাম্পাসে পাঠাতে চান না। সে জন্য আমরা সম্মিলিতভাবে অনলাইনে ক্লাস করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী দীপ কুমার বলেন, করোনার কারণে এমনিতেই আমরা এক বছর পিছিয়ে রয়েছি। অবরোধে আমাদের অনেকেরই দূর থেকে ক্লাসে আসার সমস্যা থাকায় ক্লাসে আসিনি। এরপর অনলাইনে ক্লাসের জন্য আমরা স্যারদের কাছে আবেদন করি। ফলে এ সপ্তাহ থেকে আমাদের অনলাইনে ক্লাস শুরু হয়েছে। এ ব্যাপারে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মিনহাজ উদ্দিন বলেন, দেশের রাজনৈতিক কঠিন পরিস্থিতি বিরাজ করছে। এতে অনেকে চাপা উৎকণ্ঠায় রয়েছে। আমাদের শিক্ষার্থীরা ৫০-৬০ কিলোমিটার দূর থেকেও ক্লাস করতে আসে। গত সপ্তাহেও তারা ক্লাসে আসতে পারেনি। শিক্ষাথীরা যেন পিছিয়ে না পড়ে সে জন্য আমরা অনলাইনে ক্লাস শুরু করেছি।
জরুরি মুহূর্তে অনলাইন ক্লাসের প্রয়োজনীয়তার কথা জানিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান আমার সংবাদকে বলেন, বর্তমানে দেশে জরুরি পরিস্থিতি বিরাজ করছে। জরুরি মুহূর্তে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে কিছু সিদ্ধান্ত নিতে হয়। দেশের বিভিন্ন স্থানে বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনা দেখা যাচ্ছে। এ কারণে দূরের শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে আসতে পারছে না। করোনার কারণে এমনিতেই শিক্ষার্থীরা পিছিয়ে আছে। এখন অবরোধের কারণে শিক্ষার্থীরা ক্লাস না করতে পারলে আরো পিছিয়ে যাবে। সে জন্য শিক্ষার্থীদের সাময়িক ক্ষতি পোষাণোর জন্য অনলাইন ক্লাসের বিকল্প নেই। এটি ভালো পদক্ষেপ। করোনার সময়ই আমাদের শিক্ষার্থীরা অনলাইন ক্লাসে অভ্যস্ত হয়েছে। আর এ পরিস্থিতি সাময়িক। বেশি দিন শিক্ষার্থীদের অনলাইন ক্লাসে থাকতে হবে না।
