ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Amar Sangbad

ইনস্টাগ্রাম

Amar Sangbad

এক্স

Amar Sangbad


লিংকডইন

Amar Sangbad

পিন্টারেস্ট

Amar Sangbad

গুগল নিউজ

Amar Sangbad


হোয়াটস অ্যাপ

Amar Sangbad

টেলিগ্রাম

Amar Sangbad

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Amar Sangbad


ফিড

Amar Sangbad

ঢাকা শনিবার, ১৮ জুলাই, ২০২৬

কারিকুলামের প্রশংসায় বাধ্য করার অভিযোগ

মো. নাঈমুল হক

নভেম্বর ২৫, ২০২৩, ১১:০৬ এএম

কারিকুলামের প্রশংসায় বাধ্য করার অভিযোগ
  • শিক্ষকরা ক্লাস থেকে শিক্ষার্থীদের ব্যানারসহ র্যালিতে দাঁড় করাচ্ছেন
  • সাংবাদিকদের সামনে কারিকুলামকে ভালো বলার নির্দেশ
  • প্রশংসা করলেই ভালো ফলাফল মেলার আশ্বাস শিক্ষকদের
  • কোমলমতিদের বাধ্য করায় ক্ষুব্ধ অভিভাবকরা
  • মাউশির নির্দেশনাতেই এমনটি করার কথা জানিয়েছেন শিক্ষক

কারিকুলাম বোঝাতে গিয়ে অতি উৎসাহ দেখানো ঠিক নয় 
—ড. তারিক আহসান
অধ্যাপক, শিক্ষা ও গবেষণা বিভাগ, ঢাবি

নতুন কারিকুলাম নিয়ে দেশজুড়ে চলছে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা। কারিকুলাম নিয়ে শিক্ষাবিদদের মধ্যেও রয়েছে দ্বিধাবিভক্তি। আন্দোলনের সমালোচনায় রাজপথে অভিভাবকরা। এরই মধ্যে শিক্ষার্থীদের নিয়ে কারিকুলামের প্রশংসা করে র্যালি বের করছেন শিক্ষকরা। সাংবাদিকদের সামনে কারিকুলামের প্রশংসা করারও নির্দেশ দিচ্ছেন তারা। যে শিক্ষার্থীরা কারিকুলামের প্রশংসা করতে পারবে তাদের ত্রিভুজ বা সর্বোচ্চ ফলাফলের কথা বলছেন। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে অভিভাবকরা। শিক্ষকরা বলছেন, মাউশির নির্দেশনার কারণেই তারা এমনটি করছেন। শিক্ষাবিদরা মনে করেন কারিকুলাম বোঝাতে গিয়ে অতি উৎসাহ দেখানো ঠিক নয়। 

জানা যায়, নতুন কারিকুলামের ব্যাপারে সন্তানদের মাধ্যমে অভিভাবকদের বোঝানোর নির্দেশনা দিয়েছে মাউশি। এ বিষয়টি অভিভাবকদের বোঝানো ও সমাজে ভালো প্রভাব রাখার জন্য স্কুলগুলো থেকে র্যালি ও মানববন্ধন বের করছেন শিক্ষকরা। ক্লাসেও শিক্ষার্থীদের থেকে প্রশংসা শুনতে চান শিক্ষকরা। বিপক্ষে মতামত দিতে চাইলেই দেয়া হচ্ছে চতুর্ভুজ। সম্প্রতি রাজধানী ও দেশের বিভিন্ন স্থানে এমন চিত্র দেখা গেছে। ভিকারুননিসা আজিমপুর শাখার একজন অভিভাবক বলেন, শিক্ষকরা এই কারিকুলামের পক্ষে ব্যানার বানিয়ে ষষ্ঠ-সপ্তম শ্রেণির ছাত্রীদের বাধ্য করেছে এর পক্ষে মিছিল করতে এবং মিডিয়ার লোকজন ডেকে ছবি উঠিয়ে নিয়েছে। আমাদের সন্তানদের কেন কারিকুলামের পক্ষে দাঁড় করানো হবে? এই কোমল বয়সে তারা কতটা বোঝে? জোর করে এ ধরনের কাজের নিন্দা জানাই। উঠতে বসতে চলতে, অফিসে কাজের মধ্যেও শুধু আমার ক্লাস সিক্সে পড়ুয়া ছেলেকে নিয়ে মনে  অস্থিরতা কাজ করে। কি দোষ করেছে আমার বাবাটা, এরকম হাজারো মা-বাবার সন্তানরা? মা-বাবার দেয়া অভিশাপ, শিক্ষা সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারকরা, সহ্য করতে পারবেন তো?

মিরপুরের সিদ্ধান্ত হাইস্কুলের অভিভাবক রাকিব হাসান বলেন, ‘মিরপুরের সিদ্ধান্ত হাইস্কুল ব্যানারে প্রথম লাইন ‘নির্ভয়ে বিদ্যালয়ে আসতে চাই’ এরপর শিক্ষার্থীদের র্যালি কয়েকটি রাস্তা প্রদক্ষিণ করে।  কেউ আমাদের সন্তানদের তো হুমকি দেয়নি। তাহলে এরকম লেখা কেন? কোমলমতি এসব শিক্ষার্থীরা কারিকুলামের কি বুঝে? শিক্ষা কারিকুলাম বুঝার ম্যাচুরিটি তাদের হয়নি। তাদেরকে মগজ ধোলাই করা হয়েছে। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের অনেক বড় দুঃসাহস। শিক্ষা কারিকুলাম নিয়ে তথা শিক্ষার্থীদের  ভবিষ্যৎ নিয়ে  ছিনিমিনি খেলছে। এর মাধ্যমে আমাদের সন্তানরা মেরুদণ্ডহীন অথর্ব জাতি তৈরি হচ্ছে। আমাদের সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে ছিনিমিনি খেলা বন্ধ করতে হবে। নতুন শিক্ষা কারিকুলাম বাতিল করতে হবে। ভবিষ্যৎ উপযোগী শিক্ষণীয় কারিকুলাম ও পরীক্ষা পদ্ধতি  চালু করতে হবে। 

নাজমীন নাহার নামে একজন অভিভাবক বলেন, আমার মেয়ের স্কুলে আজ ম্যাম বলেছে,  তোমরা যারা এই কারিকুলামের পক্ষে তারা হাত তোল। পক্ষদের ত্রিভুজ দিয়েছে আর বিপক্ষদের চতুর্ভুজ দিয়েছে। আমার মেয়ে বলতেছে যে আমি পক্ষে বিপক্ষে কোনোটিই হাত তুলিনি চতুর্ভুজ পাওয়ার ভয়ে। যদি নিজের সন্তানের স্কুলের নাম প্রকাশ করেননি এ অভিভাবক। 

শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করার কথা জানিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা বিভাগের অধ্যাপক ড. তারিক আহসান আমার সংবাদকে বলেন, সন্তানদের মাধ্যমে অভিভাবকদের নতুন কারিকুলাম সম্পর্কে জানানোর জন্য মাউশি থেকে চিঠি দেয়ার কথা শুনেছি। শিক্ষার্থীদের বাধ্য করার কিছু নেই। ২০০ বছরের ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শিক্ষা বাদ দিয়ে বর্তমান শিক্ষাক্রম তৈরি করা হয়েছে। এর ফলে অনেক অভিভাবক এটি বুঝতে পারছেন না। আমাদের অনেক অভিভাবক ভালোভাবে না জেনেই বিরোধিতা করছেন। এটি অত্যন্ত দুঃখজনক! অনেক সময় শিক্ষকদের চেয়ে শিক্ষার্থীরা সহজেই কারিকুলাম আয়ত্ত করতে পারছেন। তবে কারিকুলাম বোঝাতে গিয়ে অতি উৎসাহ দেখানো ঠিক নয় বলে মনে করেন এ শিক্ষাবিদ।
 

Link copied!