নিজস্ব প্রতিবেদক
ডিসেম্বর ১, ২০২৫, ১২:০৩ এএম
বিডিআর বিদ্রোহের নামে সংঘটিত হত্যাকাণ্ড তদন্তের জন্য গঠিত জাতীয় স্বাধীন অনুসন্ধান কমিশন তাদের প্রতিবেদনের চূড়ান্ত কপি প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নিকট হস্তান্তর করেছে।
গতকাল রোববার কমিশন প্রধান মেজর জেনারেল (অব.) আ ল ম ফজলুর রহমানসহ অন্যান্য সদস্যরা রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় গিয়ে প্রতিবেদন জমা দেন। কমিশনের সদস্যদের মধ্যে ছিলেন মেজর জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর কবির তালুকদার (অব.), ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. সাইদুর রহমান বীরপ্রতীক (অব.), যুগ্মসচিব (অব.) মুন্সী আলাউদ্দিন আল আজাদ, ডিআইজি (অব.) ড. এম. আকবর আলী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক মো. শরীফুল ইসলাম এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক মো. শাহনেওয়াজ খান চন্দন।
প্রতিবেদন গ্রহণের পর প্রধান উপদেষ্টা বলেন, বিডিআর হত্যাকাণ্ড বিষয়ে জাতি দীর্ঘদিন ধরে অনিশ্চয়তার মধ্যে ছিল। সত্য উদ্ঘাটনের প্রয়াসে কমিশনের ভূমিকা জাতি স্মরণ রাখবে।
তিনি আরও জানান, ঐতিহাসিক এই ভয়াবহ ঘটনার নানা প্রশ্নের সমাধান এই প্রতিবেদনের মাধ্যমে পাওয়া যাবে এবং এতে জাতির জন্য মূল্যবান শিক্ষণীয় তথ্য রয়েছে। কমিশন প্রধান ফজলুর রহমান জানান, তদন্ত যাতে নিরপেক্ষ ও ভুলত্রুটি মুক্ত হয়, সে জন্য সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব বজায় রাখা হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন যে, ঘটনার ১৬ বছর অতিক্রান্ত হওয়ায় নানা আলামত নষ্ট হয়ে গেছে এবং সংশ্লিষ্ট অনেক ব্যক্তি বিদেশে পাড়ি জমিয়েছেন। সাক্ষ্য-প্রমাণ সংগ্রহে দীর্ঘসময় নিয়ে প্রত্যেক সাক্ষীর বক্তব্য শোনা হয়েছে। পূর্ববর্তী তদন্তকারীদের সঙ্গে কথা বলা থেকে শুরু করে বিভিন্ন ধরনের নথি ও উপাত্ত সংগ্রহ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, বিডিআর হত্যাকাণ্ড নিয়ে জনমনে থাকা প্রায় সব প্রশ্নের উত্তর খোঁজার চেষ্টা করা হয়েছে- কার কী ভূমিকা ছিল এবং কেন সেনাবাহিনী সেই সময় কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি- এসব বিষয়ও তদন্তে অন্তর্ভুক্ত ছিল। জাহাঙ্গীর কবির তালুকদার জানান, কমিশন ঘটনার পেছনে কিছু বাহ্যিক ও আসল কারণ শনাক্ত করতে পেরেছে।
তার বক্তব্য অনুযায়ী, এই হত্যাকাণ্ড পরিকল্পিত ছিল এবং এর মূল সমন্বয়কারী হিসেবে তৎকালীন সংসদ সদস্য শেখ ফজলে নূর তাপসের নাম উঠে এসেছে।
তিনি আরও দাবি করেন, ঘটনাটিকে আড়াল করার জন্য স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা সরাসরি ভূমিকা রেখেছিল। তাদের একটি ছোট মিছিল পিলখানায় প্রবেশ করে এবং পরবর্তীতে তা দুই শতাধিক লোকের সমাবেশে পরিণত হয়।
তালুকদার আরও বলেন, পুরো ঘটনার পেছনে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অনুমোদন ছিল বলে কমিশনের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে।
তার মতে, দায়ভার বহন করতে হবে সে সময়ের সরকারপ্রধান থেকে শুরু করে সেনাপ্রধান পর্যন্ত। রাজনৈতিকভাবে সমাধান করার সিদ্ধান্তের ফলে পুলিশ, র্যাব ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোরও বড় ধরনের ব্যর্থতা প্রকাশ পায়। তিনি অভিযোগ করেন যে, ঘটনাকালীন কিছু গণমাধ্যম ও সাংবাদিক অপেশাদার আচরণ করেছিলেন।
এছাড়া, যেসব বিডিআর সদস্যকে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে আনা হয়েছিল, তাদের সঠিক নাম-পরিচয় সংরক্ষণ করা হয়নি।
প্রতিবেদনে বাহিনীগুলোর মধ্যে ভবিষ্যতে এ ধরনের বিপর্যয় প্রতিরোধ ও ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে বেশ কিছু সুপারিশ উপস্থাপন করা হয়েছে।
এসময় জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান, প্রধান উপদেষ্টার প্রতিরক্ষা ও জাতীয় সংহতি বিষয়ক বিশেষ সহকারী অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল আব্দুল হাফিজ এবং স্বরাষ্ট্র সচিব নাসিমুল গনি উপস্থিত ছিলেন।