ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Amar Sangbad

ইনস্টাগ্রাম

Amar Sangbad

এক্স

Amar Sangbad


লিংকডইন

Amar Sangbad

পিন্টারেস্ট

Amar Sangbad

গুগল নিউজ

Amar Sangbad


হোয়াটস অ্যাপ

Amar Sangbad

টেলিগ্রাম

Amar Sangbad

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Amar Sangbad


ফিড

Amar Sangbad

ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

বিশ্ব অর্থনীতিতে অস্থিরতার সংকেত

আমার সংবাদ ডেস্ক

আমার সংবাদ ডেস্ক

মার্চ ১০, ২০২৬, ১২:১৯ এএম

বিশ্ব অর্থনীতিতে অস্থিরতার সংকেত

বিশ্বজুড়ে তেলের বাজারে বড় ধরনের উত্থান এবং শেয়ারবাজারে অস্থিরতার চিত্র দেখা দিয়েছে, যা আন্তর্জাতিক অর্থনীতি ও বিনিয়োগকারীদের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলছে। গতকাল সোমবার সকালে ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম প্রতি ব্যারেল ১১৪.৭৪ ডলার এ পৌঁছেছে, যা গত কয়েক সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ। একই সঙ্গে, নাইমেক্স লাইট সুইট তেলের দামও ২৬ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়ে ১১৪.৭৮ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

তেলের দাম বৃদ্ধির পেছনের কারণ : বিশ্ববাজারে তেলের দাম হঠাৎ বৃদ্ধি পাওয়ার প্রধান কারণ হলো মধ্যপ্রাচ্যে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরাইলের মধ্যে নতুন করে সংঘাত। ইরানের বিভিন্ন স্থানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল বিমান হামলা চালিয়েছে, বিশেষ করে তেল ডিপো এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে। এই আক্রমণগুলো তেলের উৎপাদন ও সরবরাহে বড় ধরনের ব্যাঘাত সৃষ্টি করেছে, যা সরাসরি বাজারে প্রভাব ফেলেছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তেলের সরবরাহে যে ধরনের অস্থিরতা দেখা দিয়েছে, তা হরমুজ প্রণালীর ওপর নির্ভরশীলতা ও মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি রপ্তানিতে দীর্ঘমেয়াদি অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করেছে। হরমুজ প্রণালী বিশ্বের তেল সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এই সংকীর্ণ জলপথের মাধ্যমে যানবাহন চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তেলের দাম বৃদ্ধিতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছে।

শেয়ারবাজারে প্রভাব : তেলের দাম বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে আন্তর্জাতিক শেয়ারবাজারেও ব্যাপক পতন দেখা গেছে। এশিয়ার বিভিন্ন প্রধান সূচকগুলো এই অস্থিরতায় দুলেছে- জাপানের নিক্কেই ২২৫ সূচক ৭ শতাংশের বেশি কমেছে, হংকংয়ের হ্যাংসেং সূচক ৩ শতাংশের বেশি পতিত হয়েছে, অস্ট্রেলিয়ার এএসএক্স ২০০ সূচক ৪ শতাংশের বেশি কমেছে।

দক্ষিণ কোরিয়ার কোসপি সূচক ৮ শতাংশের বেশি পতিত হয়েছে, ফলে লেনদেন ২০ মিনিটের জন্য বন্ধ রাখা হয়েছে। বাজারে অতিরিক্ত বিক্রি ঠেকাতে বিভিন্ন বিনিয়োগ কেন্দ্র ‘সার্কিট ব্রেকার’ ব্যবহার করেছে। বিনিয়োগকারীরা আতঙ্কিত হয়ে শেয়ার বিক্রি শুরু করেছেন, যা বাজারে অস্থিরতা আরও বাড়িয়েছে।

আন্তর্জাতিক বাজারের প্রতিক্রিয়া : বিশ্বের প্রধান তেল উৎপাদক ও রপ্তানিকারক দেশগুলোতে এই পরিস্থিতি সরাসরি প্রভাব ফেলেছে। বিশেষ করে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার ও ইরাকের রপ্তানি কার্যক্রম কিছুটা বন্ধ বা বিলম্বিত হয়েছে। তেলের দাম বৃদ্ধির কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যস্ফীতি বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

এশিয়ার তেলের বাজারে একদিকে যেমন দাম বাড়ছে, অন্যদিকে উত্তর আমেরিকা ও ইউরোপের রিফাইনিং শিল্প সরবরাহ সংকটে পড়ছে। যুক্তরাষ্ট্রের আঞ্চলিক তেল ভাণ্ডার ও স্টক পাইপলাইনগুলো এই অস্থিরতার কারণে অত্যধিক চাপের মুখে।

হরমুজ প্রণালীর গুরুত্ব : বিশ্বের তেলের সরবরাহে হরমুজ প্রণালী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রায় মোট রপ্তানির এক-পঞ্চমাংশ এই জলপথ দিয়ে যাচ্ছে। যুদ্ধ শুরু হওয়ার এক সপ্তাহের মধ্যে প্রণালীর মাধ্যমে তেল পরিবহন প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ব্যাপক বাজারে মূল্যবৃদ্ধি দেখা দিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রণালী পুনরায় খোলার সম্ভাবনা না থাকলে তেলের দাম আরও বৃদ্ধি পেতে পারে।

অর্থনৈতিক প্রভাব : তেলের এই হঠাৎ মূল্যবৃদ্ধি আন্তর্জাতিক অর্থনীতিতে চরম অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে।

মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধি: জ্বালানি ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় ভোগ্যপণ্যের দামও দ্রুত বৃদ্ধি পেতে পারে।

শিল্প ও উৎপাদন খাতে প্রভাব: শিল্পাঞ্চলে জ্বালানি খরচ বেড়ে উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি পাচ্ছে।

অর্থনৈতিক অস্থিরতা: বিনিয়োগকারীরা শেয়ার বিক্রি শুরু করেছেন, যা বাজারকে অস্থিতিশীল করছে।

মুদ্রাস্ফীতি ও বিনিয়োগ ঝুঁকি: তেলের মূল্যবৃদ্ধি এবং রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে বৈদেশিক বিনিয়োগ কমতে পারে।

বৈশ্বিক বিনিয়োগকারীদের প্রতিক্রিয়া : বিনিয়োগকারীরা দ্রুত প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছেন। আতঙ্কের মধ্যে তারা শেয়ার বিক্রি করছে। বিভিন্ন দেশ সার্কিট ব্রেকার ও লেনদেন স্থগিত রাখার ব্যবস্থা নিয়েছে। এই মুহূর্তে বাজারে অনিশ্চয়তার মাত্রা বেড়েছে, যা বিনিয়োগকারীদের জন্য দীর্ঘমেয়াদি ঝুঁকি তৈরি করছে।

বিশেষজ্ঞদের বিশ্লেষণ : আন্তর্জাতিক তেল বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই পরিস্থিতি ‘দীর্ঘমেয়াদি ব্যাঘাতের’ প্রারম্ভিক সংকেত। হরমুজ প্রণালীতে চলাচল বন্ধ থাকায় তেল সরবরাহের স্থায়ী ব্যাঘাত দেখা দিতে পারে। বাজারের অস্থিরতা শুধুমাত্র মধ্যপ্রাচ্য সীমাবদ্ধ থাকবে না; পৃথিবীর অন্যান্য অঞ্চলেও তেলের দাম বৃদ্ধির প্রভাব দেখা দিতে পারে।

সর্বোপরি, মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের সংঘাত এবং হরমুজ প্রণালীতে চলাচলের ব্যাঘাতের কারণে বিশ্ববাজারে তেলের দাম ১১০ ডলারের ওপরে উঠে গেছে। এ ঘটনায় শেয়ারবাজারে বিশাল পতন দেখা দিয়েছে এবং বিনিয়োগকারীরা আতঙ্কিত হয়ে শেয়ার বিক্রি শুরু করেছেন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সংকট দীর্ঘমেয়াদে আন্তর্জাতিক অর্থনীতি, তেলের বাজার ও বিনিয়োগকারীদের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। হরমুজ প্রণালী পুনরায় খোলা না হলে তেলের সরবরাহ সংকট আরো দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে।

বিনিয়োগকারীরা এবং সরকারগুলোকে সতর্ক থাকতে হবে, কারণ সংকটের প্রভাব শুধু মধ্যপ্রাচ্য সীমাবদ্ধ থাকবে না; তা বৈশ্বিক অর্থনীতি ও জ্বালানি নিরাপত্তাতেও দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে।

Link copied!