মো. নেয়ামত উল্যাহ
মার্চ ১৩, ২০২৬, ১২:২১ এএম
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হলো রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা ও সিদ্ধান্তের মাধ্যমে। নতুন সংসদে সদস্যরা দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন দেশের আইন প্রণয়ন, নীতি নির্ধারণ ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমে অংশ নেয়ার জন্য। অধিবেশনটি কেবল আইনসভা কার্যক্রমের সূচনা নয়, বরং দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে আরও শক্তিশালী করার এবং সরকারের পাশাপাশি বিরোধী দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার এক গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের নির্বাচনসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ সূচনামূলক কর্মকাণ্ড এ অধিবেশনের মূল আভিজাত্য বৃদ্ধি করেছে।
অধিবেশনের সূচনা ও প্রেক্ষাপট
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন গতকাল অনুষ্ঠিত হয়। জোহরের নামাজের বিরতির পর পুনরায় অধিবেশন শুরু হয় এবং স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ সভাপতিত্ব করেন। অধিবেশনের শুরুতেই স্পিকার দেশের জনগণের কাছে সংসদের গুরুত্ব ও গণতন্ত্রের প্রতীক হিসেবে সংসদের ভূমিকা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের জনগণ গণতন্ত্রের অতন্দ্র প্রহরী। সংসদ গণতন্ত্রের প্রতীক। আমাদের দায়িত্ব হলো দেশের জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষাকে প্রতিফলিত করা।’
নতুন স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন
ত্রয়োদশ সংসদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম হলো স্পিকার এবং ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন। এই অধিবেশনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য, ভোলা-৩ আসনের সাংসদ হাফিজ উদ্দিন আহমদ স্পিকার নির্বাচিত হন। ডেপুটি স্পিকার হিসেবে নির্বাচিত হন নেত্রকোণা-১ আসনের সংসদ সদস্য কায়সার কামাল। স্পিকার নির্বাচনের জন্য প্রধান হুইপ নুরুল ইসলাম মনি হাফিজ উদ্দিন আহমদের নাম প্রস্তাব করেন। হুইপ রাকিবুল ইসলাম প্রস্তাবকে সমর্থনকরেন। ডেপুটি স্পিকারের জন্য ভূমি প্রতিমন্ত্রী কায়সার কামালের নাম প্রস্তাবিত হয় এবং একমতভাবে সংসদ সদস্যরা তা অনুমোদন করেন। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারকে শপথ করান।
স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের নির্বাচন মূলত সাংসদদের মধ্যে সর্বসম্মতিক্রমে সম্পন্ন হয়, যা সংসদের ঐক্য ও স্থিতিশীলতার প্রতীক হিসেবে দেখা হয়। হাফিজ উদ্দিন আহমদ এর আগেও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী ও পানিসম্পদ মন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন। ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল বিএনপির আইনবিষয়ক সম্পাদক ও জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের মহাসচিব।
‘সবার আগে বাংলাদেশ’ -সংসদে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ এই মূলমন্ত্রে সবাইকে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, দেশের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সরকার ও বিরোধী দল উভয় পক্ষকেই একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
গতকাল বৃহস্পতিবার জোহরের নামাজের বিরতির পর পুনরায় শুরু হওয়া সংসদ অধিবেশনে সভাপতিত্ব করতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। স্পিকার বলেন, বাংলাদেশের জনগণ সবসময় গণতন্ত্রের প্রহরী হিসেবে ভূমিকা রেখেছে। জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে গঠিত সংসদই দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার অন্যতম প্রধান প্রতীক। তাই সংসদের কার্যক্রমে দেশের মানুষের প্রত্যাশা ও আস্থার প্রতিফলন ঘটানো প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন তিনি। বক্তব্যে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারণ করে হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, স্বাধীনতার পর বিভিন্ন সময়ে দেশে স্বৈরশাসনের আবির্ভাব ঘটেছে। তবে প্রতিবারই জনগণ সংগ্রামের মাধ্যমে সেই পরিস্থিতি মোকাবিলা করেছে এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।
তিনি সামপ্রতিক রাজনৈতিক আন্দোলনের কথাও উল্লেখ করেন। বিশেষ করে জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ টেনে স্পিকার বলেন, সেই আন্দোলনের মাধ্যমে জনগণ ফ্যাসিবাদকে প্রত্যাখ্যান করেছে। এই আন্দোলনে যারা শহীদ হয়েছেন তাদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান তিনি।
স্পিকার আরও বলেন, দেশের মানুষ এখন সংসদের কার্যক্রমের দিকে তাকিয়ে আছে। জনগণ চায় সংসদে জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে গঠনমূলক আলোচনা হোক এবং দেশের উন্নয়ন ও গণতন্ত্র শক্তিশালী করার জন্য কার্যকর ভূমিকা রাখা হোক। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সরকার ও বিরোধী দল উভয়েই দেশের বৃহত্তর স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে দায়িত্বশীল আচরণ করবে এবং জাতীয় স্বার্থে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবে।
হট্টগোলের মধ্যেও রাষ্ট্রপতির ভাষণ : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের ভাষণ শুরু হলেও বিরোধী দলের প্রবল প্রতিবাদের কারণে মুহূর্তে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদের আহ্বানে রাষ্ট্রপতি সংসদে প্রবেশ করেন। এ সময় বিরোধী দল জামায়াতের সংসদ সদস্যরা প্ল্যাকার্ড হাতে দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ জানান। প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল, ‘জুলাই নিয়ে গাদ্দারি চলবে না’, ‘জুলাইয়ের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা বন্ধ করা’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন। স্পিকার সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানান।
রাষ্ট্রপতি স্পিকারের পাশে বসার পরই সংসদে হইচই শুরু হয়। এই সময় রাষ্ট্রপতির ভাষণ শুরু হলেও বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা ওয়াক আউট করেন। ভাষণে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন উল্লেখ করেন, গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ফ্যাসিবাদী সরকারের পতন ঘটেছে এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থান ও জুলাই শহীদদের স্মরণে অন্তর্বর্তী সরকারের কার্যক্রম তুলে ধরেন। তিনি বলেন, এই আন্দোলন দেশের গণতান্ত্রিক ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।
রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, বর্তমান সরকার জনগণের কল্যাণে নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, মূল্যস্ফীতি, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ও কৃষি খাতের উন্নয়ন নিয়ে তিনি সংসদে বিস্তারিত তথ্য দেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপ দেশের মানুষের জীবনমান উন্নত করবে।
১৩৩ অধ্যাদেশ উপস্থাপন : প্রথম অধিবেশনের প্রথম দিনেই আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়কমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান সংবিধানের ৯৩(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সংসদে ১৩৩টি অধ্যাদেশ উপস্থাপন করেন।
বিগত দিনে সংসদ না থাকা অবস্থায় রাষ্ট্রের জরুরি প্রয়োজনে ও সংস্কারের অংশ হিসেবে রাষ্ট্রপতির সম্মতিক্রমে এসব অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছিল। সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা অনুযায়ী, নতুন সংসদ গঠিত হওয়ার পর প্রথম অধিবেশনেই এগুলো সংসদে উপস্থাপন করা হয়। সংসদের কার্যসূচি থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, আইনমন্ত্রীর উপস্থাপিত ১৩৩টি অধ্যাদেশের সম্পূর্ণ তালিকা নিচে দেওয়া হলো-
১. Bangladesh Bank (Amendment) Ordinance ২০২৪
২. জেলা পরিষদ (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৪
৩. উপজেলা পরিষদ (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৪
৪. স্থানীয় সরকার (সিটি কর্পোরেশন) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৪
৫. স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৪
৬. শেখ হাসিনা জাতীয় যুব উন্নয়ন ইনস্টিটিউট (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৪
৭. বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৪
৮. বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী (ঝঢ়বপরধষ ঝবপঁৎরঃু ঋড়ৎপব) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৪
৯. জাতির পিতার পরিবার-সদস্যগণের নিরাপত্তা (রহিতকরণ) অধ্যাদেশ, ২০২৪
১০. পানি সরবরাহ ও পয়ঃনিষ্কাশন কর্তৃপক্ষ (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৪
১১. সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, আধা-স্বায়ত্তশাসিত, সংবিধিবদ্ধ সরকারি কর্তৃপক্ষ, পাবলিক নন-ফাইন্যান্সিয়াল কর্পোরেশনসহ স্ব-শাসিত সংস্থাসমূহে সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ বয়সসীমা নির্ধারণ অধ্যাদেশ, ২০২৪
১২. জাতীয় সংসদ সচিবালয় (অন্তর্বর্তীকালীন বিশেষ বিধান) অধ্যাদেশ, ২০২৪
১৩. বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও অভিবাসী (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৪
১৪. International Crimes (Tribunals) (Amendment) Ordinance, ২০২৪
১৫. বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দ্রুত সরবরাহ বৃদ্ধি (বিশেষ বিধান) (রহিতকরণ) অধ্যাদেশ, ২০২৪
১৬. জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৪
১৭. Bangladesh Law Officers (Amendment) Ordinance, ২০২৪
১৮. মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৩
১৯. The Excises and Salt (Amendment) Ordinance, ২০২৫
২০. সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশ, ২০২৫
২১. International Crimes (Tribunals) (Amendment) Ordinance, ২০২৫
২২. বিশ্ববিদ্যালয় সংক্রান্ত কতিপয় আইন (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫
২৩. শেখ রাসেল পল্লী উন্নয়ন একাডেমি, রংপুর (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫
২৪. শেখ হাসিনা পল্লী উন্নয়ন একাডেমি, জামালপুর (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫
২৫. বঙ্গবন্ধু দারিদ্র্য বিমোচন ও পল্লী উন্নয়ন একাডেমি (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫
২৬. বঙ্গবন্ধু বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ফেলোশিপ ট্রাস্ট (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫
২৭. বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নভোথিয়েটার (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫
২৮. নারী ও শিশু নির্যাতন দমন (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫
২৯. বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫
৩০. শেখ হাসিনা মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা, (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫
৩১. বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেট (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫
৩২. পরিত্যক্ত বাড়ি (সম্পূরক বিধানাবলি) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫
৩৩. পাবলিক প্রকিউরমেন্ট (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫
৩৪. সরকারি হিসাব নিরীক্ষা অধ্যাদেশ, ২০২৫
৩৫. ঈড়ফব ড়ভ ঈরারষ চৎড়পবফঁৎব (অসবহফসবহঃ) ঙৎফরহধহপব, ২০২৫
৩৬. ব্যাংক রেজল্যুশন অধ্যাদেশ, ২০২৫
৩৭. International Crimes (Tribunals) (Second Amendment) Ordinance, ২০২৫
৩৮. সন্ত্রাস বিরোধী (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫
৩৯. গ্রামীণ ব্যাংক (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫
৪০. জাতীয় সংসদের নির্বাচনি এলাকার সীমানা নির্ধারণ (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫
৪১. রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা অধ্যাদেশ, ২০২৫
৪২. সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ, ২০২৫
৪৩. সরকারি চাকরি (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫
৪৪. বঙ্গবন্ধু ক্রীড়াসেবী কল্যাণ ফাউন্ডেশন (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫
৪৫. অর্থ অধ্যাদেশ, ২০২৫
৪৬. জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫
৪৭. জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ পরিবার এবং জুলাই যোদ্ধাদের কল্যাণ ও পুনর্বাসন অধ্যাদেশ, ২০২৫
৪৮. নির্দিষ্টকরণ (সম্পূরক) অধ্যাদেশ, ২০২৫
৪৯. নির্দিষ্টকরণ অধ্যাদেশ, ২০২৫
৫০. অর্থ সংক্রান্ত কতিপয় আইন (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫
৫১. Protection and Conservation of Fish (Amendment) Ordinance, ২০২৫
৫২. আইনগত সহায়তা প্রদান (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫
৫৩. Code of Criminal Procedure (Amendment) Ordinance, ২০২৫
৫৪. সরকারি চাকরি (দ্বিতীয় সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫
৫৫. মহেশখালী সমন্বিত উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ অধ্যাদেশ, ২০২৫
৫৬. ভোটার তালিকা (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫
৫৭. জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫
৫৮. Code of Criminal Procedure (Second Amendment) Ordinance, ২০২৫
৫৯. বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫
৬০. স্থানীয় সরকার (সিটি কর্পোরেশন) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫
৬১. স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫
৬২. স্থানীয় সরকার (সিটি কর্পোরেশন) (দ্বিতীয় সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫
৬৩. রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫
৬৪. স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫
৬৫. গাজীপুর ডিজিটাল ইউনিভার্সিটি (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫
৬৬. উপজেলা পরিষদ (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫
৬৭. নির্বাচন কমিশন সচিবালয় (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫
৬৮. নির্বাচন কর্মকর্তা (বিশেষ বিধান) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫
৬৯. অর্থ সংক্রান্ত কতিপয় আইন (দ্বিতীয় সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫
৭০. International Crimes (Tribunals) (Third Amendment) Ordinance, ২০২৫
৭১. সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫
৭২. Civil Courts (Amendment) Ordinaহপব, ২০২৫
৭৩. Representation of the People (Amendment) Ordinance, ২০২৫
৭৪. মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক (দ্বিতীয় সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫
৭৫. কাস্টমস (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫
৭৬. আয়কর (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫
৭৭. জাতীয় উপাত্ত ব্যবস্থাপনা অধ্যাদেশ, ২০২৫
৭৮. ব্যক্তিগত উপাত্ত সুরক্ষা অধ্যাদেশ, ২০২৫
৭৯. জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ, ২০২৫
৮০. জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর অধ্যাদেশ, ২০২৫
৮১. আমানত সুরক্ষা অধ্যাদেশ, ২০২৫
৮২. বাংলাদেশ শ্রম (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫
৮৩. মানবদেহে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংযোজন অধ্যাদেশ, ২০২৫
৮৪. গণভোট অধ্যাদেশ, ২০২৫
৮৫. বরিশাল উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ অধ্যাদেশ, ২০২৫
৮৬. ময়মনসিংহ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ অধ্যাদেশ, ২০২৫
৮৭. রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ অধ্যাদেশ, ২০২৫
৮৮. স্থানিক পরিকল্পনা অধ্যাদেশ, ২০২৫
৮৯. সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ, ২০২৫
৯০. গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ, ২০২৫
৯১. জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫
৯২. Representation of the People Order (Second Amendment) Ordinance, ২০২৫
৯৩. পুলিশ কমিশন অধ্যাদেশ, ২০২৫
৯৪. বৈদেশিক অনুদান (স্বেচ্ছাসেবামূলক কার্যক্রম) রেগুলেশন (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫
৯৫. সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, আধা-স্বায়ত্তশাসিত, সংবিধিবদ্ধ সরকারি কর্তৃপক্ষ, পাবলিক নন-ফাইন্যান্সিয়াল কর্পোরেশনসহ স্ব-শাসিত সংস্থাসমূহে সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ বয়সসীমা নির্ধারণ (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫
৯৬. দুর্নীতি দমন কমিশন (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫
৯৭. ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫
৯৮. বাণিজ্যিক আদালত অধ্যাদেশ, ২০২৬
৯৯. বেসামরিক বিমান চলাচল (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৬
১০০. বাংলাদেশ ট্রাভেল এজেন্সি (নিবন্ধন ও নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৬
১০১. Registration (Amendment) Ordinance, ২০২৬
১০২. মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন অধ্যাদেশ, ২০২৬
১০৩. গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৬
১০৪. আইনগত সহায়তা প্রদান (দ্বিতীয় সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৬
১০৫. বন ও বৃক্ষ সংরক্ষণ অধ্যাদেশ, ২০২৬
১০৬. বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) অধ্যাদেশ, ২০২৬
১০৭. বাংলাদেশ বিল্ডিং রেগুলেটরি কর্তৃপক্ষ অধ্যাদেশ, ২০২৬
১০৮. বাংলাদেশ হাওর ও জলাভূমি সংরক্ষণ অধ্যাদেশ, ২০২৬
১০৯. ভূমি ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ ও কৃষিজুমি সুরক্ষা অধ্যাদেশ, ২০২৬
১১০. রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ অধ্যাদেশ, ২০২৬
১১১. বরিশাল উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৬
১১২. ময়মনসিংহ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৬
১১৩. রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৬
১১৪. সুপ্রীম কোর্ট সচিবালয় (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৬
১১৫. জুলাই গণঅভ্যুত্থান (সুরক্ষা ও দায় নির্ধারণ) অধ্যাদেশ, ২০২৬
১১৬. মাইক্রোফাইন্যান্স ব্যাংক অধ্যাদেশ, ২০২৬
১১৭. বাংলাদেশ বেসরকারি রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (রহিতকরণ) অধ্যাদেশ, ২০২৬
১১৮. Protection and Conservation of Fish (Amendment) Ordinance, ২০২৬
১১৯. বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৬
১২০. ব্যক্তিগত উপাত্ত সুরক্ষা (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৬
১২১. Registration (Second Amendment) Ordinance, ২০২৬
১২২. বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৬
১২৩. ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি অধ্যাদেশ, ২০২৬
১২৪. বেসরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষক ও কর্মচারী অবসর সুবিধা (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৬
১২৫. বেসরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষক ও কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্ট (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৬
১২৬. জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৬
১২৭. তথ্য অধিকার (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৬
১২৮. বাংলাদেশ গ্যাস (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৬
১২৯. কুমিল্লা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ অধ্যাদেশ, ২০২৬
১৩০. নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ অধ্যাদেশ, ২০২৬
১৩১. Negotiable Instruments (Amendment) Ordinance, ২০২৬
১৩২. Bangladesh House Building Finance Corporation (Amendment) Ordinance, ২০২৬
১৩৩. বাংলাদেশ বনশিল্প উন্নয়ন কর্পোরেশন অধ্যাদেশ, ২০২৬
অধিবেশনের প্রশাসনিক ও সাংগঠনিক ব্যবস্থা : ত্রয়োদশ সংসদ অধিবেশনে কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য বেশ কিছু প্রশাসনিক ও সাংগঠনিক পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। স্পিকার অধিবেশনে শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য সদস্যদের প্রতি নির্দেশ প্রদান করেন। সংসদে আলোচনার সময় বিরোধী দলও অংশগ্রহণ করে, যাতে জাতীয় স্বার্থে সঠিক সিদ্ধান্ত নেয়া যায়।
অধিবেশনের সময় বিভিন্ন সংসদ সদস্য দেশের বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরেন। শিক্ষাব্যবস্থা, স্বাস্থ্যসেবা, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট, কৃষি ও রফতানিসহ অন্যান্য বিষয় আলোচনা হয়। স্পিকার সদস্যদের নির্দেশ দেন, সমস্ত আলোচনা দেশের বৃহত্তর স্বার্থকে কেন্দ্র করে হওয়া উচিত।
রাজনৈতিক ঐক্য ও জাতীয় স্বার্থ : স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ অধিবেশনে বারবার উল্লেখ করেন, রাজনৈতিক পার্থক্য থাকলেও দেশের স্বার্থে এক হওয়া জরুরি। তিনি বলেন, ‘সবার আগে বাংলাদেশ- এই মূলমন্ত্রের মাধ্যমে সংসদে কাজ করতে হবে। দেশপ্রেমের নামে কোনো বিভাজন থাকলে তা জনগণের ক্ষতি করবে।’ তিনি পূর্ববর্তী মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের উদাহরণ টেনে সংসদ সদস্যদের মনে করিয়ে দেন যে, সংগ্রামের মাধ্যমে জনগণ গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছে। স্পিকার বলেন, এ ঐতিহ্যকে শক্তিশালী করতে সংসদকে আরও কার্যকর ও দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে। সর্বোপরি, ত্রয়োদশ সংসদ অধিবেশন বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ইতিহাসে নতুন অধ্যায় সৃষ্টি করেছে। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অধিবেশন দেশের জনগণের প্রত্যাশা, গণতন্ত্রের শক্তি এবং জাতীয় স্বার্থকে কেন্দ্র করে পরিচালিত হচ্ছে। সংসদে সরকারি ও বিরোধী দলের মিলিত প্রচেষ্টা, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং সামাজিক নীতি প্রণয়ন দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।