ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Amar Sangbad

ইনস্টাগ্রাম

Amar Sangbad

এক্স

Amar Sangbad


লিংকডইন

Amar Sangbad

পিন্টারেস্ট

Amar Sangbad

গুগল নিউজ

Amar Sangbad


হোয়াটস অ্যাপ

Amar Sangbad

টেলিগ্রাম

Amar Sangbad

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Amar Sangbad


ফিড

Amar Sangbad

ঢাকা সোমবার, ২০ জুলাই, ২০২৬

পোশাক খাতে স্বস্তির ঈদ

নিজস্ব প্রতিবেদক

নিজস্ব প্রতিবেদক

মার্চ ২৮, ২০২৬, ১২:০৮ এএম

পোশাক খাতে স্বস্তির ঈদ

ঈদ মানেই আগে পোশাক শিল্পে এক ধরনের “উত্তেজনা” দেখা যেত। বেতন ও বোনাসের দাবিতে শ্রমিকরা রাস্তায় নামতেন, কারখানা বন্ধ করে বিক্ষোভ করতেন, মালিকরা নিখোঁজ হতেন, এবং সাধারণ মানুষ যানজটে পড়ে ভোগান্তির শিকার হতেন। কিন্তু এই ঈদে সেই দৃশ্য নেই। তৈরি পোশাক শিল্পের শ্রমিক ও মালিকরা স্বস্তিতে ঈদ উদযাপন করেছেন। বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের এক দশক ধরে চলা সমস্যা ঈদ বা অন্যান্য উৎসবের আগে বেতন ও বোনাস না পাওয়া, মালিকদের স্থগিত প্রণোদনা, আর্থিক সংকট, শ্রমিক অসন্তোষ সবকিছু এবারের ঈদে কার্যত দূর হয়েছে।

চার প্রধান কারণে স্বস্তির ঈদ: বিজিএমইএ এবং শ্রমিক সংগঠনের তথ্য অনুযায়ী, এবারের স্বস্তির পেছনে চারটি মূল কারণ কাজ করেছে:

বকেয়া প্রণোদনার পরিশোধ: সরকারের দীর্ঘদিন স্থগিত থাকা প্রণোদনা ঈদকে সামনে রেখে এককালীন ছাড়ে মালিকদের প্রদান করা হয়েছে। এর ফলে উদ্যোক্তাদের নগদ অর্থের সংকট দূর হয়েছে এবং তারা সহজেই শ্রমিকদের বেতন-ভাতা পরিশোধ করতে পেরেছেন।

সরকারি তত্ত্বাবধানে ঋণ সুবিধা: কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মাধ্যমে শ্রমিকদের এক মাসের বেতন-ভাতার সমপরিমাণ অর্থ সহজ শর্তে ঋণ হিসেবে দেয়া হয়েছে। তুলনামূলক দুর্বল কারখানাগুলোও এই সুবিধা পেয়ে শ্রমিকদের বেতন পরিশোধে সক্ষম হয়েছে।

ত্রিপক্ষীয় পরামর্শ পর্ষদের (টিসিসি) কার্যকর ভূমিকা: সরকারের প্রতিনিধি, মালিক ও শ্রমিক প্রতিনিধি মিলিত হয়ে কারখানার সমস্যা নিরীক্ষণ ও সমাধান নিশ্চিত করেছেন। বৈঠকে শ্রমিকদের ছাটাই না করা, নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা এবং বেতন-ভাতা সময়মতো প্রদানের বিষয়ে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

সরাসরি সমাধান ও শ্রমিক-উদ্যোক্তা আলোচনা: যারা কিছু কারণে বেতন-ভাতা পরিশোধ করতে পারেনি, তারা শ্রমিকদের সঙ্গে সরাসরি আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধান করেছেন। ফলে কোনো বড় অসন্তোষ বা রাস্তায় অবরোধের ঘটনা ঘটেনি।

ঈদের আগে বেতন ও বোনাস পরিশোধের পরিসংখ্যান: বিজিএমইএর তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারি মাসের বেতন ২,১২৭টি সচল কারখানায় পরিশোধ হয়েছে। ফেব্রুয়ারি মাসের বেতন ২,১২৫টি কারখানায় পরিশোধ হয়েছে।

ঈদ বোনাস ২,১২৩টি কারখানায় প্রদান করা হয়েছে। মার্চ মাসের বেতন থেকে অগ্রিম টাকা প্রদান করেছে ১,৩৬২টি কারখানা। যেসব কারখানা ঈদ বোনাস দিতে পারেনি, তারা শ্রমিকদের সঙ্গে সরাসরি আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি সমাধান করেছে।

শ্রমিকরা সড়ক অবরোধ থেকে বিরত: এই ঈদে শ্রমিকরা সড়ক অবরোধ বা বিক্ষোভে নামেননি। ফলস্বরূপ, সাধারণ মানুষের ঈদযাত্রা ব্যাহত হয়নি। মালিক ও শ্রমিক উভয় পক্ষই স্বস্তিতে ঈদ উদযাপন করতে পেরেছেন।

বিগত বছরের প্রেক্ষাপট: অতীতের ঈদে বেতন-ভাতার ঘাটতি সবসময় উত্তেজনার কারণ হয়ে এসেছে। বিশেষ করে গাজীপুর, আশুলিয়া, বোর্ডবাজার, চন্দ্রা এলাকা ও মাওনাতে শ্রমিকরা ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়ক অবরোধ করতেন। চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থান এবং সরকার পরিবর্তনের পরেও বহু কারখানা মালিক বিদেশে চলে গিয়েছেন, বকেয়া বেতন পরিশোধ হয়নি। ২০২৫ সালের ঈদুল ফিতরের সময়ও বিক্ষোভ দেখা গিয়েছিল।

সরকার এবং বিজিএমইএর উদ্যোগ: বিজিএমইএর পরিচালক আব্দুর রহিম ফিরোজ বলেন, “ঈদকে সামনে রেখে আমাদের প্রস্তুতি ছিল শ্রমিকদের বেতন-ভাতা নিশ্চিত করার। সরকারে দেওয়া প্রণোদনা পুরোপুরি ছাড়ের মাধ্যমে এই প্রস্তুতিকে সহায়তা করেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ঋণ ব্যবস্থার কারণে সকল ধরনের সমস্যার সমাধান সহজ হয়েছে। ফলে তুলনামূলক দুর্বল কারখানাগুলোও শ্রমিকদের বেতন পরিশোধে সক্ষম হয়েছে।” সরকারি বৈঠকগুলিতে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে মালিক ও শ্রমিকদের বক্তব্য গ্রহণ করে সমস্যা সমাধানে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করা হয়।

শ্রমিক নেতাদের মন্তব্য: বাংলাদেশ গার্মেন্টস ও সোয়েটার শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সাধারণ সম্পাদক কাজী রুহুল আমিন বলেন, “বর্তমান সরকার দায়িত্ব নিয়েই তৈরি পোশাক শিল্পের সমস্যাগুলো সমাধানে মনোনিবেশ করেছে। টিসিসি কার্যকর ভূমিকা পালন করছে। বৈঠকে শ্রমিকদের দাবিগুলো বেতন-ভাতা, ছাটাই থেকে বিরত থাকা, নিরাপদ কর্মপরিবেশ্তগ্রহণ করা হয়েছে। এই পদক্ষেপের ফলে এবারের ঈদ স্বস্তিতে উদযাপিত হয়েছে।” নারায়ণগঞ্জের শ্রমিক সূত্রও জানায়, অন্যান্য বছরে কারখানাগুলিতে সমস্যা হলেও এবার এমন কোনো খবর পাওয়া যায়নি। এমএ শাহিন, বাংলাদেশ গার্মেন্টস ও সোয়েটার শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের জেলা সভাপতি, বলেন, “ঈদ মানেই শ্রমিকরা সহায়তা কেন্দ্রে বেতন-ভাতা না পাওয়ার অভিযোগ নিয়ে আসত। এবার কোনো সমস্যা হয়নি। আমাদের সংস্থাও নিজেরা সমস্যা সমাধান করেছি।’

বিভিন্ন এলাকা থেকে তথ্য গাজীপুর: বোর্ডবাজার, কোনাবাড়ি, শ্রীপুরে সকল কারখানার বেতন-ভাতা সময়মতো পরিশোধ হয়েছে।

ময়মনসিংহ: ভালুকা অঞ্চলের কারখানাগুলোও স্বাভাবিকভাবে বেতন-ভাতা দিয়েছে।

টাঙ্গাইল: মির্জাপুরের কারখানাগুলোতে বেতন-ভাতা সঠিক সময়ে প্রদান করা হয়েছে। সাভার ও মিরপুর: পুরোপুরি শান্তিপূর্ণ; কোনো অসন্তোষের ঘটনা ঘটেনি।

আশুলিয়া: ঢাকার হটস্পট হলেও বেতন-ভাতা নিয়ে কোনো শ্রমিক অসন্তোষ দেখা যায়নি।

জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক জোটের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আশরাফুজ্জামান বলেন, “পুরোনো কারখানার শ্রমিকদের সঙ্গে সমস্যা হওয়ার সম্ভাবনা ছিল। কিন্তু আলোচনার মাধ্যমে সবকিছু সমাধান হয়েছে। নতুন করে বেতন-ভাতা নিয়ে কোনো ঝামেলা হয়নি।”

সবমিলিয়ে, সরাসরি মালিক-শ্রমিক-সরকার সমন্বয়ের ফলে তৈরি পোশাক শিল্পে বিরতিহীন ঈদ উদযাপন সম্ভব হয়েছে। এটি পূর্ববর্তী বছরের তুলনায় শিল্প খাতের জন্য এক বড় সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

Link copied!