মো. নেয়ামত উল্যাহ
এপ্রিল ১৪, ২০২৬, ১২:৪০ এএম
গত কয়েক দশক ধরে হাম বা মিজেলস ছিল একটি সুপরিচিত এবং প্রতিরোধযোগ্য রোগ, যার গতিপ্রকৃতি সম্পর্কে চিকিৎসকদের স্পষ্ট ধারণা ছিল। কিন্তু সামপ্রতিক সময়ে বাংলাদেশে হামের প্রাদুর্ভাব এক রহস্যময় ও উদ্বেগজনক মোড় নিয়েছে। সাধারণত ৯ মাস বয়সের পর শিশুদের হামের টিকা দেয়া হলেও বর্তমানে দেখা যাচ্ছে ৬ মাসের কম বয়সি শিশুরাও এই ভাইরাসে আক্রান্ত হচ্ছে, যা চিকিৎসাবিজ্ঞানের প্রচলিত ধারাকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে। চলতি বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত দেশজুড়ে ১৮ হাজারের বেশি শিশু আক্রান্ত হয়েছে এবং প্রাণ হারিয়েছে ১৮৯ জন।
ভাইরাসের এই চারিত্রিক পরিবর্তন এবং টিকা দেয়ার আগের বয়সেই শিশুদের আক্রান্ত হওয়া জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। এটি কি ভাইরাসের কোনো নতুন স্ট্রেইন, নাকি মানুষের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতায় বড় কোনো পরিবর্তন সেই উত্তর খুঁজছেন গবেষকরা। উৎসবের এই মৌসুমে জনসমাগম যখন তুঙ্গে, তখন হামের এই অচেনা ও ভয়ংকর রূপ মোকাবিলা করা এখন সময়ের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
হাসপাতালে উপচেপড়া ভিড়, শিশুদের ঝুঁকি বাড়ছে : রাজধানীর সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালসহ বিভিন্ন শিশু হাসপাতালে হামে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ধারণক্ষমতা ছাড়িয়ে গেছে। উদ্বেগের বিষয় হলো, হাসপাতালে ভর্তি হওয়া শিশুদের একটি বড় অংশই অত্যন্ত অল্পবয়সী।
শিশু সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. মীর্জা মো. জিয়াউল ইসলাম এক ভয়াবহ তথ্য তুলে ধরেছেন। তিনি জানান, চলতি বছর এখন পর্যন্ত ৬০ জন শিশু পাওয়া গেছে যাদের বয়স ৬ মাসেরও কম। ৬ থেকে ৯ মাস বয়সি শিশু পাওয়া গেছে আরও ৬৫ জন। অথচ বিগত বছরগুলোতে এই বয়সসীমায় আক্রান্তের সংখ্যা ছিল প্রায় শূন্য।
চিকিৎসকদের মতে, চিকিৎসা বিজ্ঞানের পাঠ্যবই অনুযায়ী এই বয়সি শিশুদের মায়ের শরীর থেকে পাওয়া রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতার কারণে হাম হওয়ার কথা নয়। এই অস্বাভাবিক পরিবর্তনকে তারা ‘৩৬০ ডিগ্রি বদল’ হিসেবে আখ্যায়িত করছেন।
এটি কি ভাইরাসের নতুন কোনো ধরন : হামের এই চরিত্র বদল কি নতুন কোনো ‘স্ট্রেইন’ বা ধরনের কারণে? এ নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠলেও বিশেষজ্ঞরা এখনই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে নারাজ। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. মুশতাক হোসেন জানান, ‘হামের এই অস্বাভাবিক আচরণ কেবল বাংলাদেশে নয়, অন্যান্য দেশেও দেখা যাচ্ছে। এটি নতুন কোনো ধরন কি-না, তা নিশ্চিত হতে আইইডিসিআর ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো গবেষণা শুরু করেছে। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, বর্তমানে প্রচলিত হামের টিকা এখনও কার্যকর রয়েছে।’ গবেষণার চূড়ান্ত ফলাফল পেতে আরও অন্তত ৬ মাস সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
মৃত্যু ও আক্রান্তের পরিসংখ্যান : স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে ১২ এপ্রিল পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে ১৫১ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় হাম নিশ্চিত হওয়া মৃত্যুর সংখ্যা ২৮ জন। এই পরিসংখ্যানই বলে দিচ্ছে পরিস্থিতি কতটা গুরুতর।
সরকারের জরুরি পদক্ষেপ, দেশব্যাপী টিকাদান কর্মসূচি : হামের প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে সরকার দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। গত রোববার (১২ এপ্রিল) থেকে ঢাকার দুই সিটি ভিউ:প্রতিটি ঘর থেকে মুম্বাইয়ের দিগন্তজোড়া আরব সাগর দেখা যায়। ২. অত্যাধুনিক ফিটনেস সেন্টার: গায়িকা এবং তার পরিবারের জন্য রয়েছে আলাদা জিম এবং যোগব্যায়াম করার জায়গা। ৩. সুরক্ষা ব্যবস্থা: ভবনটিতে ২৪ ঘণ্টা কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং অত্যাধুনিক সিসিটিভি নজরদারি রয়েছে। ৪. অটোমেটেড পার্কিং: বিশাল গাড়ি রাখার জায়গার পাশাপাশি এখানে সেন্সর-ভিত্তিক পার্কিং ব্যবস্থা বিদ্যমান।
সংগীত থেকে রিয়েল এস্টেট, এক সফল যাত্রা : শ্রেয়া ঘোষালের এই বিপুল অংকের বিনিয়োগ কেবল তার আর্থিক সমৃদ্ধির পরিচয় দেয় না, বরং একজন শিল্পী হিসেবে তার দীর্ঘদিনের পরিশ্রম এবং সাফল্যের স্বাক্ষর বহন করে। ২০০২ সালে সঞ্জয় লীলা বনশালির ‘দেবদাস’ সিনেমা দিয়ে বলিউডে যাত্রা শুরু করা শ্রেয়া আজ ভারতের সর্বোচ্চ পারিশ্রমিক পাওয়া সংগীতশিল্পীদের একজন। কেবল গান গেয়েই নয়, স্টেজ পারফরম্যান্স, রিয়ালিটি শোর বিচারক এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মেও তার জনপ্রিয়তা তুঙ্গে।
দীর্ঘ দুই দশকের ক্যারিয়ারে তিনি অসংখ্য জাতীয় পুরস্কার ও ফিল্মফেয়ার অ্যাওয়ার্ড জিতেছেন। সমপ্রতি তার গাওয়া বেশ কিছু গান আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও সমাদৃত হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, উপার্জিত অর্থ সঠিক জায়গায় বিনিয়োগ করার ক্ষেত্রে শ্রেয়া অত্যন্ত বিচক্ষণতার পরিচয় দিয়েছেন। মুম্বাইয়ের মতো জায়গায় সম্পত্তির মূল্য প্রতি বছরই লাফিয়ে বাড়ছে, তাই এই ধরনের হাই-এন্ড অ্যাপার্টমেন্টে বিনিয়োগকে একটি দীর্ঘমেয়াদি এবং নিরাপদ অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ব্যক্তিগত জীবন ও নতুন স্বপ্নের ঠিকানা : শ্রেয়া ঘোষাল তার ব্যক্তিগত জীবন এবং কাজকে অত্যন্ত ভারসাম্যপূর্ণভাবে পরিচালনা করেন। ২০১৫ সালে তিনি তার দীর্ঘদিনের বন্ধু শিলাদিত্য মুখোপাধ্যায়কে বিয়ে করেন এবং ২০২১ সালে তাদের পুত্র সন্তান দেবিয়ান জন্ম নেয়।
ঘনিষ্ঠ মহলের মতে, বর্ধিত পরিবারের প্রয়োজনীয়তা এবং স্বাচ্ছন্দ্যের কথা মাথায় রেখেই তিনি এই বড় আয়তনের অ্যাপার্টমেন্ট দুটি বেছে নিয়েছেন। বর্তমানে তিনি মুম্বাইয়ের অন্য একটি অভিজাত এলাকায় বাস করলেও খুব শিগগিরই নতুন বাড়িতে শিফট করার পরিকল্পনা করছেন।
মুম্বাইয়ের তারকাদের পাল্লা দিয়ে বিনিয়োগ : গত এক বছরে বলিউডের অনেক তারকাই মুম্বাইয়ের বিভিন্ন এলাকায় রিয়েল এস্টেটে বড় বিনিয়োগ করেছেন। সমপ্রতি অভিনেতা অমিতাভ বচ্চন, দীপিকা পাড়ুকোন এবং জাহ্নবী কাপুরও কয়েকশ কোটি টাকার সম্পত্তি কিনেছেন। তবে শ্রেয়া ঘোষালের মতো একজন ক্ল্যাসিক্যালি ট্রেইনড গায়িকার এই বিশাল বিনিয়োগ প্রমাণ করে যে, বর্তমানে সংগীত জগতের শীর্ষ পর্যায়ের শিল্পীরাও বলিউডের প্রথম সারির অভিনেতাদের সমান গুরুত্ব এবং পারিশ্রমিক পাচ্ছেন।
শ্রেয়া ঘোষাল মানেই মাধুর্য, শ্রেয়া ঘোষাল মানেই শ্রেষ্ঠত্ব। তার কণ্ঠ যেমন সাধারণের মনে প্রশান্তি আনে, তার এই সাফল্য তরুণ প্রজন্মের শিল্পীদের জন্য এক বড় অনুপ্রেরণা।
মুম্বাইয়ের ওরলিতে তার এই নতুন ঠিকানা কেবল ইটের দালান নয়, বরং তার দীর্ঘদিনের সাধনা ও পরিশ্রমের ফসল। সংগীতের সুরে যেমন তিনি এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছেছেন, তেমনি ব্যক্তিগত জীবনেও তার এই রাজকীয় পদযাত্রা অব্যাহত থাকুন্ডএমনটাই প্রত্যাশা করেন তার ভক্ত অনুরাগীরা।