ফেনী প্রতিনিধি
জুন ১, ২০২৪, ০৯:১১ পিএম
ফেনীর ৩ উপজেলায় জামানত হারিয়েছেন ৫ চেয়ারম্যান ও ৩ ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী। নিয়মানুযায়ী নির্বাচনে প্রদত্ত ভোটের ১৫ শতাংশ না পাওয়ায় জামানত হারান ফেনী সদর ১ চেয়ারম্যান ও ১ ভাইস চেয়ারম্যান, সোনাগাজীতে ৩ চেয়ারম্যান ও ১ ভাইস চেয়ারম্যান এবং দাগনভূঞায় ১ চেয়ারম্যান ও ১ ভাইস চেয়ারম্যানসহ মোট ৮ জন প্রার্থী উপজেলা নির্বাচনে অংশ নিয়ে বিপুল ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হয়ে জামানত হারিয়েছেন।
গত বুধবার (২৯ মে) সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্য়ালয় থেকে ঘোষিত ফলাফল পর্যালোচনা দেখা যায়, এর মধ্যে ফেনী সদর উপজেলা নিঅবাচনে ৪ লাখ ১৫ হাজার ৯৯৪ জন ভোটারের মধ্যে চেয়ারম্যান পদে ২ লাখ ২৪ হাজার ৩৪৩ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন।
ঘোষিত ফলাফলে, ২ লাখ ১৩ হাজার ৮৯৩ ভোট পেয়ে দোয়াত-কলম প্রতীকের প্রার্থী সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শুসেন চন্দ্র শীল দ্বিতীয়বারের মতো চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। তার একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বি মোটরসাইকেল প্রতীকের প্রার্থী অ্যাডভোকেট মনজুর আলম পেয়েছেন মাত্র ৭ হাজার ৩০৯ ভোট। জামানত ফিরে পেতে তাকে অন্তত ১৪ হাজার ৯৫৬ ভোটের বেশি পাওয়ার প্রয়োজন ছিল। তা না পাওয়ায় চেয়ারম্যান প্রার্থী মনজুর আলমের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়ে যায়।
এছাড়া একই উপজেলায় ভাইস চেয়ারম্যান পদে ২ লাখ ২৪ হাজার ২০৭ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। ঘোষিত ফলাফলে, এ উপজেলায় ভাইস চেয়ারম্যান পদে ২ লাখ ৩ হাজার ৮০৪ ভোট পেয়ে টিউবওয়েল প্রতীকের প্রার্থী জেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক একে শহীদ উল্ল্যাহ খোন্দকার নির্বাচিত হয়েছেন। তার একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বি গোলাম কিবরিয়া উড়োজাহাজ প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন মাত্র ১৪ হাজার ৮৯৫ ভোট। জামানত ফিরে পেতে তাকে অন্তত ১৪ হাজার ৯৪৭ ভোটের বেশি পাওয়ার প্রয়োজন ছিল। তা না পাওয়ায় ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী গোলাম কিবরিয়ার জামানত বাজেয়াপ্ত হয়ে যায়।
এ উপজেলায় মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ২ লাখ ২৪ হাজার ৩৫২ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। এরমধ্যে ২ লাখ ২ হাজার ৮৬৬ ভোট পেয়ে কলস প্রতীকের প্রার্থী মুর্শিদা আক্তার নির্বাচিত হয়েছেন। তার একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বি আরজুমান আক্তার প্রজাপতি প্রতীক নিয়ে ১৬ হাজার ৩৪৫ ভোট পেয়ে পরাজিত হন।
এদিকে সোনাগাজী উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ২ লাখ ৪৪ হাজার ৮৮৮ জন ভোটারের মধ্যে ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন ৮৯ হাজার ২৩৭ জন ভোটার। ঘোষিত ফলাফলে ৮৬ হাজার ১৭১ ভোট পেয়ে দোয়াত-কলম প্রতীকের প্রার্থী জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জহির উদ্দিন মাহমুদ লিপটন দ্বিতীয়বারের মতো চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি লাঙল প্রতীকের প্রার্থী মো. মুজিবুল হক পেয়েছেন মাত্র ৭০৯ ভোট।
এছাড়া এ উপজেলায় চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী আনারস প্রতীকের প্রার্থী মহি উদ্দিন ৪২০ ভোট এবং ঘোড়া প্রতীকের প্রার্থী নুর আলম মিস্টার পেয়েছেন মাত্র ৩৫৬ ভোট। অথচ, জামানত ফিরে পেতে এসব পরাজিত প্রার্থীর অন্তত ৫ হাজার ৯৪৯ ভোটের বেশি পাওয়ার প্রয়োজন ছিল। তা না পাওয়ায় পরাজিত এ তিন চেয়ারম্যানপ্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়ে যায়।
এ উপজেলায় ভাইস চেয়ারম্যান পদে টিউবওয়েল প্রতীকের প্রার্থী সাখাওয়াতুল হক বিটু ৮৩ হাজার ২৫৪ ভোট পেয়ে ফের ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। তার একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বি উড়োজাহাজ প্রতীকের প্রার্থী হায়দার আলী পেয়েছেন মাত্র ৩ হাজার ২০০ ভোট। তা না পাওয়ায় ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী হায়দার আলীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়ে যায়। তাছাড়া একক প্রার্থী হওয়ায় এ উপজেলায় পূর্বেই মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের খোদেজা খানম।
অপরদিকে দাগনভূঞা উপজেলায় ২ লাখ ৩৯ হাজার ১২২ জন ভোটারের মধ্যে ১ লাখ ২২ হাজার ১৩৬ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। এরমধ্যে ঘোষিত ফলাফলে ১ লাখ ১৭ হাজার ১৫৮ ভোট পেয়ে দোয়াত-কলম প্রতীকের প্রার্থী জেলা আওয়ামী যুবলীগের সভাপতি দিদারুল কবির রতন চতুর্থবারের মতো চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।
তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি চিংড়ি মাছ প্রতীকের প্রার্থী বিজন ভৌমিক পেয়েছেন মাত্র ৩ হাজার ১৬৬ ভোট। ফলে জামানত ফিরে পেতে তাকে অন্তত ৮ হাজার ১৪২ ভোটের বেশি পাওয়ার প্রয়োজন ছিল। এ পরিমাণ ভোট না পাওয়ায় বিজন ভৌমিকের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়ে যায়।
এ উপজেলায় ভাইস চেয়ারম্যান পদে টিউবওয়েল প্রতীকের প্রার্থী মোহাম্মদ মহিউদ্দিন হায়দার ১ লাখ ৮ হাজার ৮২০ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থী উড়োজাহাজ প্রতীকের মোহাম্মদ ইউছুপ আলী পেয়েছেন মাত্র ৯ হাজার ১৫৪ ভোট। এ উপজেলায় একক প্রার্থী হওয়ায় মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের রাবেয়া আক্তার।
৬ষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও অতিরিক্ত আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা (কুমিল্লা অঞ্চল) মুহাম্মদ নাজিম উদ্দিন বলেন, এবারের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে সংশোধিত বিধিমালা অনুযায়ী চেয়ারম্যান পদের জন্য একজন প্রার্থীকে নির্বাচন কমিশনের অনুকূলে এক লাখ টাকা জমা দিতে হয়েছে। আর ভাইস চেয়ারম্যান ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদের জন্য ৭৫ হাজার টাকা। বিধি অনুযায়ী প্রার্থীর নির্বাচনী এলাকার প্রদত্ত ভোটের ১৫ শতাংশ ভোট না পাওয়ায় তাদের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে।
ইএইচ