মাগুরা প্রতিনিধি:
জুন ১৪, ২০২৫, ১২:৫২ পিএম
মাগুরা শহরের শিবরামপুর শেখপাড়া এলাকায় অবস্থিত নড়িহাটি সেতুর বর্তমান অবস্থা যেন এক নিঃশব্দ মৃত্যুফাঁদ। প্রতিদিন শত শত পথচারী, শিক্ষার্থী ও যানবাহন এই সেতু ব্যবহার করলেও নেই কোনো রেলিং, নেই নিরাপত্তা ব্যবস্থাও। বর্ষায় সেতুর দুই প্রান্তে তৈরি হয়েছে গভীর গর্ত, যা এখন প্রাণঘাতী দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি করেছে।
শনিবার (১৪ জুন) দুপুরে সরেজমিনে দেখা গেছে, সেতুর মাঝখানে সামান্য একটি অংশে রেলিং থাকলেও উভয় পাশে খোলা। দুই পাশে রয়েছে প্রায় চার থেকে পাঁচ ফুট দীর্ঘ ও গভীর গর্ত, যা ঘাস ও ঝোপঝাড়ে আচ্ছাদিত। ভেজা অবস্থায় ওই স্থান আরও পিচ্ছিল হয়ে যায়। সামান্য অসাবধানতায় যে কেউ ৪০ ফুট নিচে খালের পানিতে পড়ে যেতে পারেন।
স্থানীয় বাসিন্দা শহিদুল ইসলাম বলেন, এই সেতু দিয়ে প্রতিদিন আমাদের বাচ্চারা স্কুলে যায়। এমন ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থা মেনে নেওয়া যায় না। একটু অসাবধান হলেই বড় দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে।
পথচারী জুবায়ের শেখ বলেন, কদিন আগে এক শিশু পা পিছলে প্রায় পড়ে যাচ্ছিল। ভাগ্য ভালো, সঙ্গে থাকা একজন ধরে ফেলেছিল। নইলে কী হতো কে জানে!
নড়িহাটি সেতু দিয়ে শেখপাড়া, শিবরামপুর, নড়িহাটি ও আশপাশের গ্রামের মানুষ জেলা শহরে চলাচল করেন। এটি স্থানীয়দের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সংযোগপথ। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে সেতুটি ভয়াবহ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
এ বিষয়ে জেলা বিএনপির সদস্য বাবুল শেখ বলেন, রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে দীর্ঘদিন ধরে সেতুর অবস্থা এমন হয়ে উঠেছে। অথচ এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ চলাচলের পথ হিসেবে পরিচিত।
জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক দুর্লভ শেখ বলেন, একটা ছোট ভুলেই জীবন শেষ হয়ে যেতে পারে। আমরা চাই দ্রুত এই সেতুর রেলিং বসানো হোক এবং গর্তগুলো সংস্কার করা হোক। বড় কোনো দুর্ঘটনা না ঘটার আগেই ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
এছাড়া মাগুরা সদর উপজেলার স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) প্রকৌশলী আবদুল্লাহ আল কবির বলেন, বিষয়টি আমাদের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। সেতুর রেলিং ও সংযোগপথের গর্ত নিয়ে প্রাথমিক প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে। দ্রুত সংস্কার কাজ শুরুর বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
বিআরইউ