মো. সাজ্জাদ হোসেন, গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী)
জুলাই ১৮, ২০২৬, ১১:৫১ এএম
নিতাইগঞ্জের শীতলক্ষ্যা নদীর ফায়ার ঘাট এলাকায় পন্টুনের সামনে পানিতে ডুবে মারা যাওয়া রাষ্ট্রীয় পদকপ্রাপ্ত ডুবুরি সাদিকের দ্বিতীয় জানাজা শেষে দাফন সম্পন্ন হয়েছে।
শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে কুমড়াকান্দি ঈদগাহ ময়দানে জানাজা শেষে গোয়ালন্দ কেন্দ্রীয় পৌর কবরস্থানে দাফন করা হয়।
নিহত সাদিক রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কুমড়াকান্দি গ্রামের মো. আশরাফ আলী শেখের ছেলে। দুই ভাই, দুই বোনের মধ্যে সাদিক ছিলেন মেজো। তিনি সেরা ডুবুরি হিসেবে রাষ্ট্রীয়ভাবে ফায়ার সার্ভিস পদক পেয়েছিলেন। পাশাপাশি সাদিক চমৎকার ফুটবল খেলতেন। গোলরক্ষক হিসেবে গোয়ালন্দে সাদিকের পরিচিতি ছিল ব্যাপক।
জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সন্ধ্যা ৭টার দিকে নারায়ণগঞ্জ কেরোসিন ঘাট এলাকা থেকে নিখোঁজ হওয়ার ৮ ঘণ্টা পর নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের সদস্যরা সাদিকের মরদেহ উদ্ধার করেন। এর আগে বেলা ১১টার দিকে নগরীর নিতাইগঞ্জের শীতলক্ষ্যা নদীর ফায়ার ঘাট এলাকায় পন্টুনের সামনে কচুরিপানা পরিষ্কার করতে গিয়ে স্পিডবোট থেকে পড়ে নিখোঁজ হন সাদিক হোসেন শুভ (২৬)। সাদিক নারায়ণগঞ্জ নদী ফায়ার স্টেশনের একজন প্রশিক্ষিত ডুবুরি ছিলেন। পানিতে ডুবে নিখোঁজ ব্যক্তিদের উদ্ধার করাই ছিল তাঁর কাজ। এজন্য তিনি রাষ্ট্রীয় পদক পান।
নিহত সাদিকের চাচা ও পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর মো. ফজলুল হক জানান, আমরা জেনেছি সাদিক নারায়ণগঞ্জ নদী ফায়ার স্টেশনের জেটির সামনে কচুরিপানা পরিষ্কারের কাজ করছিলেন। তাঁর সঙ্গে আরও তিনজন সদস্য ছিলেন। স্পিডবোটের সামনের দিকে থাকা ডুবুরি সাদিক ঢেউয়ের কারণে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নদীতে পড়ে নিখোঁজ হন। দীর্ঘ ৮ ঘণ্টা তল্লাশির পর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঢাকা ফায়ার সার্ভিসের প্রধান কার্যালয়ে জুমার নামাজ শেষে প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে দুপুরে মরদেহ বাড়িতে আনা হলে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে কুমড়াকান্দি ঈদগাহ ময়দানে দ্বিতীয় জানাজা শেষে গোয়ালন্দ কেন্দ্রীয় পৌর কবরস্থানে দাফন করা হয়।
জানাজার আগে রাজবাড়ী ও গোয়ালন্দ ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের মধ্যে নেমে আসে শোকের ছায়া। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে শুরু করে ফায়ার সার্ভিসের মাঠপর্যায়ের কর্মীরা ডুবুরি সাদিকের মরদেহের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
এএন