তারিক লিটু, কয়রা (খুলনা)
সেপ্টেম্বর ১, ২০২৫, ০৬:০৭ পিএম
নিষেধাজ্ঞা শেষে আবারও উন্মুক্ত হয়েছে বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবন।
সোমবার সকাল থেকে বনবিভাগের পাশ-পরমিট সংগ্রহ করে নৌকা ভরে মাছ ও কাঁকড়া ধরতে বনে প্রবেশ করেছেন হাজারো জেলে। দীর্ঘ তিন মাস বিরতির পর জীবিকার এই সুযোগ পেয়ে জেলেরা কিছুটা স্বস্তি পেলেও কাঙ্ক্ষিত মাছ না পাওয়ার শঙ্কা এবং বনদস্যুদের উৎপাত তাদের উৎকণ্ঠা কমাতে পারছে না।
খুলনার কয়রা উপজেলার কাটকাটা এলাকার জেলে আল আমিন বলেন, “সুন্দরবনে যাচ্ছি, কিন্তু বনদস্যুদের ভয়ে বুক কাঁপছে। পাশাপাশি কিছু অসাধু ব্যক্তি পাস নিয়ে হরিণ শিকার বা বিষ দিয়ে মাছ ধরে। তাদের অপরাধের দায়ও এসে পড়ে আমাদের ঘাড়ে। আমরা চাই, কর্তৃপক্ষ নিরপেক্ষভাবে ব্যবস্থা নিক।”
নিষেধাজ্ঞার তিন মাস জেলেদের জন্য দুর্ভোগের সময় ছিল। সংসার চালাতে তারা স্থানীয় মহাজন, দাদন ব্যবসায়ী বা এনজিও থেকে ঋণ নিয়েছেন। এখন মাছ ও কাঁকড়ার আশানুরূপ ফল না মেলে সেই ঋণের বোঝা আরও ভারী হয়ে যাবে।
দক্ষিণ বেদকাশি এলাকার জেলে মফিজুল ইসলাম বলেন, “পরিবারের খাওয়া থেকে শুরু করে চিকিৎসা ও শিক্ষার খরচ সুন্দরবনের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু বছরে বারবার বনে প্রবেশ বন্ধ থাকায় ঋণের বোঝা বাড়ছে। এখন ডাকাত আতঙ্ক এবং কোম্পানির আধিপত্য—সব মিলিয়ে আমরা দিশেহারা।”
পশ্চিম সুন্দরবন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) এ জেড এম হাসানুর রহমান বলেন, “সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় প্রতি বছরের মতো এবারও তিন মাস নিষেধাজ্ঞা ছিল। এতে মাছ ও অন্যান্য প্রজাতির প্রজনন বেড়েছে। আমরা নিরপেক্ষভাবে কাজ করছি। কোনো সিন্ডিকেট বা বিশেষ গোষ্ঠীর কাছে বিক্রি হওয়ার সুযোগ নেই। ডাকাত ও চোরা শিকারিদের দমনেও টহল জোরদার রয়েছে।”
জেলেরা অভিযোগ করেন, বনের ভেতরে নিরাপত্তার ঘাটতির কারণে প্রায়ই তারা হামলা ও লুটপাটের শিকার হন।
তারা দাবি করেন, সুন্দরবনে নির্ভরশীল লাখো মানুষের জীবনযাত্রা টিকে রাখতে সহজ শর্তে ঋণপ্রাপ্তি, বিকল্প কর্মসংস্থান ও বনকর্মীদের নিরপেক্ষ ভূমিকা নিশ্চিত করতে হবে।
জেলেরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, এসব দাবি পূরণ না হলে বনদস্যু, চোরা শিকারি এবং দাদন ব্যবসায়ীর দাপটে সুন্দরবনের ওপর নির্ভরশীল মানুষের জীবন আরও দুর্বিষহ হয়ে উঠবে।
ইএইচ