বরগুনা প্রতিনিধি
সেপ্টেম্বর ৭, ২০২৫, ০৩:৪৮ পিএম
বরগুনা সদর উপজেলার দক্ষিণ ইটবাড়িয়ার মোল্লা বাড়ি থেকে রহস্যজনকভাবে স্বামী-স্ত্রীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
রোববার সকালে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ জানায়, নিহতরা হলেন- ওই গ্রামের দিনমজুর স্বপন মোল্লা (৩২) ও তার স্ত্রী আকলিমা (২৭)। তাদের সংসারে দুটি কন্যাসন্তান রয়েছে—বড় মেয়ে সাদিয়া (৬) ও ছোট মেয়ে আফসানা (১)।
ঘটনার পর ছোট্ট মেয়েটি কিছুই বুঝতে না পারলেও বড় মেয়ে মায়ের লাশের পাশে বসে কান্না করছিল এবং বলছিল, “মা, তুমি ওঠো না কেন?”
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সকালে সাদিয়া স্বপনের চাচাতো বোন রাজিয়া বেগমকে ডেকে আনে। রাজিয়া ঘরে গিয়ে দেখতে পান, মেঝেতে আকলিমার গলাকাটা মরদেহ পড়ে আছে। পরে ঘরের আড়ার সঙ্গে স্বপনের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দুজনের লাশ উদ্ধার করে।
স্বপনের চাচাতো বোন রাজিয়া বেগম বলেন, “ভোরে সাদিয়া দৌড়ে এসে জানায় মা কথা বলছে না, বাবাকেও দেখা যাচ্ছে না। আমি গিয়ে দেখি আকলিমার মরদেহ পড়ে আছে। এরপর স্বপনকে দেখি আড়ার সঙ্গে ঝুলছে।”
স্বপনের বড় ভাই কবির মোল্লা বলেন, “স্বপন নিয়মিত কাজ না করায় স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া হতো। আমার জানা মতে তার কোনো শত্রু ছিল না। তারপরও আমরা সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি করছি।”
আকলিমার বাবা আব্বাস মৃধা বলেন, “ওদের সংসারে ঝগড়াঝাটির খবর প্রায়ই শুনতাম। কিন্তু এবার কী হলো বুঝতে পারছি না। এখন আমার দুই নাতনির কী হবে?”
স্থানীয় সজিব নামের এক ব্যক্তি বলেন, “এই ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। কিন্তু সবচেয়ে বড় ক্ষতি হয়েছে তাদের ফুটফুটে দুই শিশুর, যাদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে গেল।”
বরগুনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইয়াকুব হোসাইন বলেন, “আমরা আকলিমাকে গলাকাটা অবস্থায় এবং স্বপনকে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করেছি। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে পারিবারিক কলহের জেরেই এ ঘটনা ঘটেছে। তবে এটি হত্যা নাকি হত্যার পর আত্মহত্যা—তা ময়নাতদন্তের পর জানা যাবে।”
বরগুনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) জহিরুল ইসলাম হাওলাদার বলেন, “খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করেছে। সিআইডি ও পিবিআই টিমও তদন্ত শুরু করেছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ইএইচ