মুক্তাদির আহমেদ, গোদাগাড়ী (রাজশাহী)
সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৫, ০২:০০ পিএম
রাজশাহীর গোদাগাড়ীর চরের পদ্মা নদীর ভাঙনে দুই সপ্তাহের ব্যবধানে ১৬০ পরিবার ও ফসলী জমি নদীর গর্ভে বিলীন হয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছে মানুষ।
উপজেলার আষাড়িয়াদহ ইউনিয়নের চরের ভূখণ্ড প্রতিবছর নদী ভাঙনের কারণে কমছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, পদ্মা নদী লাগোয়া হঠাৎপাড়া, চর বয়ারমারি, কামারপাড়া, জামাইপাড়া ও আমতলা খাসমহল গ্রামে ভাঙন চলছে।
জামাইপাড়া গ্রামের সাইদুর রহমান জানান, তার বাড়ির অর্ধেক নদীতে ভেঙে গেছে, বাকি অংশ নৌকায় তুলছেন।
তিনি বলেন, “পদ্মার ভাঙনে এর আগে দুইবার বাড়ি সরিয়েছি। এবার আর চরে থাকার জায়গা নেই। তাই বাড়িঘর ভেঙে ভাইয়ের বাড়িতে চলে যাচ্ছি।”
জহুরুল ইসলাম জানান, “পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে ভাঙন আরও বেড়ে গেছে। এই কয়েকদিনে কমপক্ষে চার রশি ভূমি নদীতে নেমেছে। প্রায় ১৫০ পরিবার ইতিমধ্যেই এপারে চলে এসেছে, আরও অনেকে আসার প্রস্তুতি নিচ্ছে।”
বয়রামারি গ্রামের গৃহবধূ তাহেরা খাতুন বলেন, “ছ’বছর আগে একবার বাড়ি ভেঙেছিল। এখন আর অন্য কোথাও থাকবার জায়গা নেই। জন্মের থেকেই চরে থাকি, আর থাকতে পারছি না। এপারের কানাইডাঙ্গা গ্রামে ভাসুরের বাড়িতে গিয়ে থাকব।”
চর আষাড়িয়াদহ এলাকায় পদ্মার পানির বিপৎসীমা নির্দিষ্ট নয়। রাজশাহী শহর সংলগ্ন এলাকায় বিপৎসীমা ১৮.০৫ মিটার। শনিবার দুপুরে পানির উচ্চতা ছিল ১৬.৮৫ মিটার, যদিও চরের অনেক জায়গা এখনও তলিয়ে আছে।
চর আষাড়িয়াদহ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আশরাফুল ইসলাম বলেন, “আমরা চরের মানুষ খুবই অসহায়। এখনো তেমন সাহায্য-সহায়তা পাইনি। সরকারি সাহায্য হিসেবে মাত্র ১০ কেজি করে চাল দেওয়া হয়েছে, যা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের জন্য যথেষ্ট নয়। সরকারকে এদের পাশে দাঁড়াতে হবে এবং চর রক্ষার ব্যবস্থা করতে হবে, না হলে একসময় এটি মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাবে।”
গোদাগাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফয়সাল আহমেদ জানান, “পানি বৃদ্ধির শুরুতে ২০টি পরিবার ভাঙনের কবলে পড়ে চর ছাড়ে। পানি কমার সময় এ সংখ্যা বেড়ে ৯০। বর্তমানে মোট ১১০টি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা প্রণয়ন করা হচ্ছে এবং সরকার থেকে ঢেউটিন সহায়তা দেওয়া হবে।”
ইএইচ