এম এম নুর আলম, আশাশুনি (সাতক্ষীরা)
সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৫, ০১:০৫ পিএম
সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার ঐতিহ্যবাহী বুধহাটা বাজারের সরিষা ভাঙানো বিভিন্ন মিলে তৈরি হচ্ছে ভেজাল সরিষার তেল। বেশ কিছু অসাধু ব্যবসায়ী স্বল্প সময়ে অধিক মুনাফার আশায় সাধারণ মানুষের ক্ষতি করে চলেছে। রীতিমতো গোডাউন খুলে প্রকাশ্যেই চলছে ভেজালের এই কারবার।
স্থানীয়রা জানান, প্রতিদিন এসব মিল ও গোডাউন থেকে কয়েকশো লিটার ভেজাল সরিষার তেল উৎপাদন হচ্ছে, যা আশাশুনি উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলসহ আশপাশের বিভিন্ন উপজেলার হাট-বাজারে ছড়িয়ে পড়ছে।
তারা আরও জানান, কম দামের নিম্নমানের তেল ও পামওয়েল জাতীয় তেলের মধ্যে সরিষার তেলের রং আনতে এসব মিলে ব্যবহার করা হচ্ছে এক ধরনের ক্ষতিকর রাসায়নিক তরল পদার্থ। এক টিন সাদা বা পাম তেলে মাত্র এক ড্রপার বা কয়েক মিলিলিটার রাসায়নিক মিশালেই তেলটি সরিষার তেলের রং ধারণ করছে। কোথাও কোথাও এই মিশ্রণে সামান্য খাঁটি সরিষার তেলও মেশানো হচ্ছে।
অপরদিকে, এক টিন তেলে খাঁটি সরিষার তেলের মতো ঝাঁঝ আনতে ব্যবহার করা হচ্ছে আরেক ধরনের বিষাক্ত ও দমবন্ধ করা ঝাঁঝযুক্ত তরল পদার্থ। মাত্র এক ফোঁটা এই তরল মেশালেই সাদা পামওয়েল ঝাঁঝযুক্ত হয়ে উঠছে, যা সাধারণ মানুষের পক্ষে চেনা কঠিন হয়ে পড়েছে যে এটি খাঁটি তেল না ভেজাল।
খাঁটি সরিষার তেলের চেহারায় তৈরি এই ভেজাল তেল সাধারণ মানুষ নিজেদের অজান্তেই কিনে নিচ্ছে। শহর ও গ্রামাঞ্চলের হাট-বাজারের দোকানদাররা যে দামে বলছেন, সেই দামের টিন বা বোতলেই তৈরি করে দিচ্ছেন এইসব অসাধু মিল মালিকেরা। পরে এই তেল ‘খাঁটি সরিষার তেল’ বলে বেশি দামে বিক্রি করছেন ব্যবসায়ীরা। ফলে এই বিষাক্ত তেল শহর থেকে গ্রামে, এমনকি প্রতিটি বাড়িতে পৌঁছে যাচ্ছে।
ফলে বিষাক্ত রাসায়নিক শরীরে ঢুকে ছাত্র-ছাত্রী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ পর্যন্ত ধীরে ধীরে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছে। এতে খাদ্যে বিষক্রিয়ার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ভেজাল সরিষার তেল কারবারি জানান, বিভিন্ন মহলকে উৎকোচ দিয়েই এই ব্যবসা নির্বিঘ্নে চলছে। কাদেরকে উৎকোচ দেওয়া হয় জানতে চাওয়া হলে, তিনি প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে চুপ থাকেন।
সচেতন মহলের প্রশ্ন, নিজেদের লাভের জন্য যারা শিশুদের শরীরেও বিষ ঢুকিয়ে দিচ্ছে, তারা কি আদৌ শাস্তি পাবে? নাকি বুধহাটার ভেজাল তেলের কারবার এভাবেই চলতে থাকবে?
তারা আরও বলেন, বাজারে যখন মোবাইল কোর্ট পরিচালনা হয়, তখন এক শ্রেণির দোকানদার ও তেল মিল মালিকেরা অফিসারদের আগমন সংবাদ পেয়ে আগে থেকেই গোডাউনের মূল ফটকে তালা দিয়ে কার্যক্রম বন্ধ রাখেন। মোবাইল কোর্ট চলে গেলে আবার শুরু হয় ভেজাল তৈরির উৎসব।
তাদের দাবি, এমনভাবে আকস্মিক অভিযান পরিচালনা করা হোক যাতে মিল মালিকেরা আগেই পালাতে বা তালা লাগাতে না পারেন। তবেই এ সমস্যার সমাধান সম্ভব।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার কৃষ্ণা রায় বলেন, এটা আমার জানা ছিল না। খোঁজখবর নিচ্ছি। সেরকম কিছু পেলে অবশ্যই ওইসব মিলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
জেএইচআর