ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Amar Sangbad

ইনস্টাগ্রাম

Amar Sangbad

এক্স

Amar Sangbad


লিংকডইন

Amar Sangbad

পিন্টারেস্ট

Amar Sangbad

গুগল নিউজ

Amar Sangbad


হোয়াটস অ্যাপ

Amar Sangbad

টেলিগ্রাম

Amar Sangbad

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Amar Sangbad


ফিড

Amar Sangbad

ঢাকা সোমবার, ২০ জুলাই, ২০২৬

ঢাকার দোহারে দাম্পত্য কলহে প্রাণ গেল স্বামী-স্ত্রীর

দোহার (নবাবগঞ্জ) প্রতিনিধি

দোহার (নবাবগঞ্জ) প্রতিনিধি

সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৫, ০৭:৪৮ পিএম

ঢাকার দোহারে দাম্পত্য কলহে প্রাণ গেল স্বামী-স্ত্রীর

ঢাকার দোহারে পারিবারিক কলহের জেরে স্ত্রীকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করার পর স্বামীও মৃত্যুবরণ করেছেন।

বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলার বিলাসপুর ইউনিয়নের কুতুবপুর এলাকার আলম খার চক গ্রামে এ হৃদয়বিদারক ঘটনাটি ঘটে। 

নিহতরা হলেন জয়গুন বেগম (৪০) ও তার স্বামী আয়ুব আলী হাওলাদার (৫৫)।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে তাদের দাম্পত্য জীবনে অশান্তি চলছিল। বৃহস্পতিবার দুপুরে এ নিয়ে পুনরায় ঝগড়ার এক পর্যায়ে ক্ষিপ্ত হয়ে আয়ুব আলী হাতে থাকা ছুরি দিয়ে জয়গুনকে এলোপাতাড়ি আঘাত করেন। জীবন বাঁচাতে জয়গুন ধস্তাধস্তি করলেও শেষ পর্যন্ত প্রাণে বাঁচতে পারেননি। স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় দুজনকেই উদ্ধার করে হাসপাতালে নেন।

দোহার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্তব্যরত চিকিৎসক জয়গুনকে মৃত ঘোষণা করেন। আয়ুব আলীর অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে ঢাকায় নেওয়া হচ্ছিল, কিন্তু পথেই মৃত্যু হয়।

নিহত জয়গুনের ছোট ভাই মো. সেলিম বেপারী জানান, ক্লিনিকে চাকরি থেকে পাওয়া টাকাপয়সা নিয়ে সকাল থেকে তাদের মধ্যে মনোমালিন্য চলছিল। 

তিনি বলেন, “আমার বোন অনেক কষ্টে কিছু টাকা সঞ্চয় করেছিল। সেই টাকা নিয়েই ঝগড়ার সূত্রপাত হয়।”

অন্যদিকে জয়গুনের বোন রুমা বলেন, “আমার বোন ছিলেন আয়ুব আলীর দ্বিতীয় স্ত্রী। জায়গাজমি ও টাকা-পয়সা নিয়েই প্রায়ই ঝগড়া হতো। কিন্তু আমরা ভাবিনি, সেই ঝগড়াই একদিন প্রাণ কেড়ে নেবে।”

প্রতিবেশীরা জানান, ঘটনার পর এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। প্রতিবেশী রহিমা খাতুন কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “ওদের ঝগড়াঝাঁটি নতুন কিছু ছিল না। কিন্তু এভাবে দুজনের জীবন শেষ হয়ে যাবে, সেটা কল্পনাও করিনি। বাচ্চাগুলো এখন কীভাবে বড় হবে?”

আরেক প্রতিবেশী আব্দুল জলিল বলেন, “আমরা অনেকবার তাদের মিলিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছি। কিন্তু সংসারে শান্তি ফিরল না। শেষে কলহই তাদের শেষ করে দিল।”

দোহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসান আলী বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। প্রাথমিকভাবে পারিবারিক কলহকেই ঘটনার মূল কারণ হিসেবে ধরা হচ্ছে। তবে তদন্ত চলছে।

ঢাকা জেলা মানবাধিকার কমিশনের সভাপতি হাজী নাসির উদ্দিন পল্লব বলেন, “পরিবারে সমস্যা হলে মানুষ এখন কথা বলার পরিবর্তে সহিংসতার দিকে যাচ্ছে। এটা আমাদের সামাজিক ব্যর্থতা। পরিবারে সমঝোতার পরিবেশ তৈরি না হলে এ ধরনের ঘটনা কমবে না।”

গ্রামীণ সমাজে পারিবারিক কলহ থেকে সহিংস ঘটনার নজির নতুন নয়। দাম্পত্য সম্পর্কে পারস্পরিক বোঝাপড়া, আর্থিক স্থিতি ও আস্থার অভাবই এ ধরনের ট্র্যাজেডির বড় কারণ। আয়ুব ও জয়গুনের সংসার ভেঙে গেল চরম পরিণতিতে। অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যু প্রতিরোধে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রকেই একসঙ্গে উদ্যোগ নিতে হবে।

ইএইচ

Link copied!