মৌলভীবাজার প্রতিনিধি
অক্টোবর ৫, ২০২৫, ০৩:৫৭ পিএম
জুলাই গণঅভ্যুত্থান ২০২৪-এর শহীদ ও আহত জুলাই যোদ্ধাদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি, আইনি সুরক্ষা, পুনর্বাসন ও ন্যায্য দাবি বাস্তবায়নের দাবিতে জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে।
রোববার দুপুরে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ পরিবার ও আহত সকল বীর জুলাই যোদ্ধাদের পক্ষে এ স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাপ্পি মিয়া, জহির মিয়া, জিহাদ আহমেদ, রেবা আক্তার, জুয়েল আহমদ, জসিম মিয়াসহ প্রমুখ।

স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট মাসে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ধারাবাহিক সংগ্রামের মাধ্যমে বাংলাদেশের স্বৈরাচারী সরকারের পতন হয়। ৩৬ দিনব্যাপী এই ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থান শহীদ, আহত ও হাজারো মানুষের ত্যাগের বিনিময়ে সফল হয়। কিন্তু আন্দোলন-পরবর্তী সময়ে গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এখনো শহীদ ও আহতদের রাষ্ট্রীয় মর্যাদা, আহতদের সঠিক চিকিৎসা, পুনর্বাসন ও পূর্ণাঙ্গ স্বীকৃতি প্রদান করতে ব্যর্থ হয়েছে। অতএব, জাতির পক্ষ থেকে আমাদের নিম্নলিখিত দাবিসমূহ সরকারকে অবিলম্বে ঘোষণা পত্রে এবং স্থায়ী সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করে কার্যকর করার আহ্বান জানাচ্ছি।
১. রাষ্ট্রীয়ভাবে জুলাই শহীদ ও আহত যোদ্ধাদের “বীর জুলাই যোদ্ধা” উপাধিতে ভূষিত করা।
২. স্বাধীনতা দিবস ও বিজয় দিবসসহ জাতীয় দিবসে জুলাই যোদ্ধাদের সম্মাননা প্রদান করা।
৩. গণহত্যাকারী, ফ্যাসিস্ট সরকারের রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ-এর সকল সাংগঠনিক কার্যক্রম আজীবনের জন্য নিষিদ্ধ ঘোষণা করে গণহত্যার সাথে সম্পৃক্ত আওয়ামী লীগের সকল নেতা-কর্মীকে আইনের আওতায় এনে অতি দ্রুত বিচারিক কার্যক্রম সম্পন্ন করা।
৪. জুলাই যোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের পূর্ণ আইনি সুরক্ষা প্রদান করা, যাতে ভবিষ্যতে জুলাই বিপ্লবকে দাঙ্গা হিসেবে অবহিত করে বা জঙ্গি তকমা দিয়ে আন্দোলনকারীদের রাষ্ট্রীয় স্থাপনা ধ্বংস, রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক ক্ষতি, বিপ্লবী আন্দোলন দমনকারীর অনুগত্য ও প্রশাসনের কিছু সদস্যের অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুর দায় দিয়ে বিচারিক কার্যের মুখোমুখি করা অথবা মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করা সহ কোনো রাজনৈতিক প্রতিশোধমূলক মামলা থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকা।
অধিকার ও সুবিধাসমূহ
১. শহীদ পরিবারের ও আহত জুলাই যোদ্ধাদের মাসিক সম্মানী ভাতা ও প্রতিষ্ঠিত সকল সুযোগ-সুবিধা প্রথম প্রজন্ম পর্যন্ত বহাল রাখা।
২. আজীবন সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত হাসপাতালে বিনামূল্যে চিকিৎসা ও ওষুধ সরবরাহ, প্রয়োজনে বিদেশে উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা।
৩. মৃত্যুর পর সরকারি ব্যবস্থাপনায় রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন, কবর সংরক্ষণ ও পরিচিতি চিহ্ন স্থাপন করা।
স্মারকলিপিতে আরও উল্লেখ করা হয়, জুলাই গণঅভ্যুত্থান এই জাতির ইতিহাসের অমর অধ্যায়। শহীদ, আহত ও সকল অংশগ্রহণকারী যোদ্ধাদের ন্যায্য স্বীকৃতি, আইনি সুরক্ষা ও অধিকার প্রতিষ্ঠা জাতির সম্মিলিত প্রাপ্য। আমরা আশা করি, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার অবিলম্বে এসব দাবি বাস্তবায়ন করে ইতিহাসের দায়িত্ব পালন করবে।
ইএইচ