ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Amar Sangbad

ইনস্টাগ্রাম

Amar Sangbad

এক্স

Amar Sangbad


লিংকডইন

Amar Sangbad

পিন্টারেস্ট

Amar Sangbad

গুগল নিউজ

Amar Sangbad


হোয়াটস অ্যাপ

Amar Sangbad

টেলিগ্রাম

Amar Sangbad

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Amar Sangbad


ফিড

Amar Sangbad

ঢাকা রবিবার, ১৯ জুলাই, ২০২৬

‘ভাড়াটে লোক দিয়ে নিজেই লুটের নাটক সাজান দোকান মালিক’

বি.এম খোরশেদ, মানিকগঞ্জ

বি.এম খোরশেদ, মানিকগঞ্জ

অক্টোবর ৬, ২০২৫, ০৭:৪৫ পিএম

‘ভাড়াটে লোক দিয়ে নিজেই লুটের নাটক সাজান দোকান মালিক’

মানিকগঞ্জে ফিল্মি কায়দায় সাজানো স্বর্ণের দোকান লুটের ঘটনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। তদন্তে বেরিয়ে এসেছে, দোকান মালিক নিজেই ভাড়া করা লোক দিয়ে লুটের নাটক সাজান। উদ্দেশ্য ছিল গ্রাহকদের গচ্ছিত স্বর্ণ আত্মসাৎ করা। এ ঘটনায় দোকান মালিকসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— দোকান মালিক শুভ দাস (৩৫), আমানত হোসেন রানা (২৭), সোহান মিয়া (২১), মো. শরীফ খান (২২) এবং মো. সবুজ মিয়া (২৭)।

পুলিশ জানায়, শহরের স্বর্ণকারপট্টি এলাকায় ৪ অক্টোবর মধ্যরাতে ‘অভি অলংকার’ নামে জুয়েলারি দোকানে সোনা লুটের ঘটনা ঘটে। এ সময় ছুরিকাঘাতে আহত হন দোকান মালিক শুভ দাস। তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তখন ধারণা করা হচ্ছিল এটি একটি পরিকল্পিত সোনা লুটের ঘটনা।

তবে তদন্তে নেমে পুলিশের হাতে আসে ভিন্ন তথ্য। সিসিটিভি ফুটেজ, কললিস্ট ও জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, দোকান মালিক নিজেই এই ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী। তিনি পাঁচ লাখ টাকার বিনিময়ে কয়েকজন যুবককে ভাড়া করে লুটের নাটক সাজান।

সোমবার সন্ধ্যায় মানিকগঞ্জ সদর থানায় এক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার (এসপি) মোছা. ইয়াছমিন খাতুন জানান, দোকান মালিক গ্রাহকদের গচ্ছিত স্বর্ণ আত্মসাৎ করার উদ্দেশ্যে পুরো ঘটনাটি পরিকল্পনা করেন। 

তিনি বলেন, “ঘটনার পর থেকেই বিষয়টি আমাদের কাছে সন্দেহজনক মনে হয়। পরে প্রযুক্তির সহায়তায় আমরা নিশ্চিত হই এটি সাজানো লুটের ঘটনা। দোকান মালিকসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।”

পুলিশ সুপার আরও জানান, শুভ দাস নিজেই তার কাছে বিভিন্ন মানুষের রক্ষিত স্বর্ণ আত্মসাৎ করার লক্ষ্যে ডাকাতির নাটকটি সাজানোর পরিকল্পনা করেন। শুভ দাসের পূর্বপরিচিত মানিকগঞ্জ বাসস্ট্যান্ডের মোটরসাইকেল মেকানিক আমানত রানার সঙ্গে এ বিষয়ে পরিকল্পনা করেন তিনি। পরিকল্পনা অনুযায়ী আমানত, সোহান ও শরিফকে সঙ্গে নেন। এ কাজের জন্য তাদের ৫ লাখ টাকায় চুক্তি করা হয়।

পরিকল্পনা অনুযায়ী ৫ অক্টোবর রাতে আমানত তার এলাকার ছোট ভাই সোহানের মোটরসাইকেল যোগে ওই দুইজনকে পাঠান। শুভ দাসের সিগন্যাল অনুযায়ী তারা দোকানে প্রবেশ করে স্বর্ণ লুটের নাটক বাস্তবায়ন করে।

ইয়াছমিন আক্তার দাবি করেন, স্বর্ণ লুট এবং শুভ দাসের পিঠে ছুরিকাঘাত—সবই শুভ দাসের পরিকল্পনা ও নির্দেশনায় হয়েছে।

শুভ দাসের বাড়ি ও দোকানে অভিযান চালিয়ে ৩৯ ভরি স্বর্ণালংকার উদ্ধারসহ ঘটনায় ব্যবহৃত চাকু, মোটরসাইকেল ও পোশাক জব্দ করা হয়েছে।

এদিকে স্থানীয় স্বর্ণ ব্যবসায়ীরা এ ঘটনায় হতবাক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। 

তাদের দাবি, এমন ঘটনার কারণে ব্যবসায়ী সমাজের সুনাম ও গ্রাহকদের আস্থা দুটোই ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

এক ব্যবসায়ী বলেন, “নিজের দোকান লুটের নাটক সাজানো—এটা ভাবতেই কষ্ট হচ্ছে। এতে আমাদের পুরো পেশাটাই প্রশ্নবিদ্ধ হলো।”

পুলিশ জানায়, এ ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। তদন্ত শেষে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হবে।

ইএইচ

Link copied!