নাসিরনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি
অক্টোবর ১৯, ২০২৫, ০৫:০৫ পিএম
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার বুড়িশ্বর ইউনিয়নের লক্ষীপুর মৌজায় খাস পুকুর ইজারা নিয়ে প্রতিপক্ষের ওপর হামলা ও ছিনতাইয়ের অভিযোগে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন এলাকাবাসী।
রোববার দুপুরে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ের সামনে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় বিভিন্ন ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে শতাধিক মানুষ অংশ নেন।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, লক্ষীপুর মৌজার ৯৫০ ও ৯৬৩ দাগের দুটি খাস পুকুর বহু বছর ধরে লক্ষীপুর দারুল কোরআন মাদ্রাসা, মসজিদ ও কবরস্থানের নামে ইজারা নিয়ে এলাকার উন্নয়নমূলক কাজে ব্যবহার হয়ে আসছিল। কিন্তু আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি সংগ্রামের ঘনিষ্ঠজন ও বর্তমান ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা এনসিপি নেতা আসাদ খোকন ওই দুটি খাস পুকুর অবৈধভাবে দখলের চেষ্টা করছেন।
বক্তারা আরও জানান, উপজেলা ভূমি অফিস বিষয়টি জানার পর স্থানীয়দের অংশগ্রহণে উন্মুক্ত ইজারার সিদ্ধান্ত নেয়। খবর পেয়ে আসাদ খোকন স্থানীয়দের ইজারায় অংশ নিতে বাধা দেন। পরে সহকারী কমিশনার (ভূমি) এর সহযোগিতায় লক্ষীপুর গ্রামের চারজন ব্যক্তি অফিসে ইজারার জন্য গেলে অফিসের সামনেই তাদের ওপর হামলা চালানো হয়।
পুলিশের সহায়তায় পরিস্থিতি সাময়িকভাবে শান্ত হলেও অফিস থেকে প্রায় ১০০ মিটার দূরে আবারও হামলার ঘটনা ঘটে। এ সময় পথচারীরাও আক্রান্ত হন। ঘটনাস্থলে অন্তত পাঁচজন আহত হন।
আহতরা হলেন মনির মিয়া, নাইম মিয়া, উজ্জল মিয়া ও মাসুক মিয়া লক্ষীপুর গ্রামের এবং পথচারী রুকন মিয়া ও বলু মিয়া নাসিরনগর সদর ইউনিয়নের।
ভুক্তভোগী মনির মিয়া অভিযোগ করে বলেন, গত বুধবার রাতে এনসিপি নেতা আসাদ খোকন আমাকে মোবাইলে ফোন দিয়ে হুমকি দেন।
আরেক ভুক্তভোগী মাসুক মিয়া জানান, ভূমি অফিসে ইজারার নথি জমা দিতে গেলে আসাদ খোকন ও তাঁর অনুসারীরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। এ সময় আমাদের কাছ থেকে প্রায় আড়াই লাখ টাকা ও দুটি মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা এনসিপি নেতা আসাদ খোকন বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। আমি এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত নই। আমাকে রাজনৈতিকভাবে বেকায়দায় ফেলতে কিছু কুচক্রী মহল স্থানীয়দের ব্যবহার করে প্রোপাগান্ডা ছড়াচ্ছে।
বুড়িশ্বর ইউনিয়নের ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তা মো. হারুন মিয়া বলেন, গত বছর আসাদ খোকন এই পুকুর ইজারা নিয়েছিলেন। এ বছর একাধিক ব্যক্তি আগ্রহ প্রকাশ করায় এসিল্যান্ড অফিস থেকে উন্মুক্ত ইজারার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সবাই অফিসে আসার পর বাইরে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
নাসিরনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাকসুদ আহম্মদ বলেন, আমরা অভিযোগ পেয়েছি। ভুক্তভোগী মনির মিয়া নয়জনের নাম উল্লেখ করে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জেএইচআর