মিরাজ আহমেদ, মাগুরা
জুলাই ১৯, ২০২৬, ০৭:৪৪ পিএম
আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট মো. আসাদুজ্জামান এমপি বলেছেন, দেশে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার পথে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল বিচারব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থার সংকট। অতীতে রাজনৈতিক প্রভাব, মিথ্যা মামলা ও বিচারিক প্রক্রিয়ার অপব্যবহারের কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে যে হতাশা তৈরি হয়েছিল, তা দূর করে একটি স্বাধীন, জবাবদিহিমূলক ও জনমুখী বিচারব্যবস্থা গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে।
রোববার বিকেলে মাগুরা জেলা আইনজীবী সমিতির উদ্যোগে জেলা আইনজীবী সমিতি মিলনায়তনে আয়োজিত মতবিনিময় ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আইনমন্ত্রী বলেন, “বিচারের নামে প্রহসনের যুগ শেষ করতে চাই। বাংলাদেশের মানুষ এমন একটি বিচারব্যবস্থা চায়, যেখানে কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি হয়রানির শিকার হবে না এবং প্রকৃত অপরাধী আইনের আওতার বাইরে থাকতে পারবে না।”
আইনজীবীদের বিভিন্ন প্রস্তাবের জবাবে মন্ত্রী বলেন, বিচারক নিয়োগের আগে পাঁচ বছর আইন পেশায় প্র্যাকটিস বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাবটি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা যেতে পারে। তবে বর্তমানে জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশনের মাধ্যমে দেশের সবচেয়ে মেধাবী তরুণেরা বিচার বিভাগে যুক্ত হচ্ছেন এবং তাঁদের উন্নত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সারা দেশের প্রায় ৮০ হাজার নবীন আইনজীবীকে ধাপে ধাপে বাধ্যতামূলক প্রশিক্ষণের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে আইন পেশার মানোন্নয়ন হবে এবং বিচারপ্রার্থীরা আরও কার্যকর সেবা পাবেন।
মিথ্যা মামলা প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেন, “ক্ষমতার পরিবর্তন হলেই যেন নিরীহ মানুষ মিথ্যা মামলার শিকার না হয়, সে জন্য আইনগত সুরক্ষা জোরদার করা হয়েছে। কেউ যদি মনে করেন কোনো মামলায় অন্যায়ভাবে তাঁর নাম যুক্ত হয়েছে, তাহলে তদন্তের মাধ্যমে তা যাচাইয়ের সুযোগ রাখা হয়েছে।”
বিচার বিভাগের অবকাঠামোগত সংকটের কথাও তুলে ধরেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, দেশের অনেক আদালতে প্রয়োজনীয় জনবল ও অবকাঠামোর ঘাটতি রয়েছে। এসব সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে বিচারপ্রক্রিয়া আরও গতিশীল করতে সরকার কাজ করছে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেন বলেন, মাদক ও জুয়া সামাজিক অবক্ষয়ের বড় কারণ। নতুন জুয়া প্রতিরোধ আইন কার্যকর বাস্তবায়নে জেলা পুলিশ জিরো টলারেন্স নীতিতে কাজ করছে। তিনি বলেন, মাদক ও জুয়ার কারণে পারিবারিক অস্থিরতা, সহিংসতা ও বিবাহবিচ্ছেদের ঘটনাও বাড়ছে।
জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোতাকাব্বীর আহমেদ বলেন, শুধু আইন প্রণয়ন করলেই সমাজ পরিবর্তন সম্ভব নয়। পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। তিনি বলেন, “সন্তান কোথায় যাচ্ছে, কার সঙ্গে মিশছে, সেটি পরিবারকেই সবচেয়ে বেশি নজরদারি করতে হবে।”
চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, বিচার বিভাগের আধুনিকায়ন ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় আইনমন্ত্রীর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর নেতৃত্বে বিচারপ্রক্রিয়া আরও যুগোপযোগী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সভায় সভাপতিত্ব করেন মাগুরা জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ মিজানুর রহমান মিজান। সঞ্চালনা করেন সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট শাহেদ হাসান টগর।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন মাগুরা-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. মনোয়ার হোসেন খান, জেলা পরিষদ প্রশাসক ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আলী আহমেদ, সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মো. মিজানুর রহমানসহ জেলার বিচারক, আইনজীবী ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
অনুষ্ঠান শেষে আইনমন্ত্রীকে জেলা আইনজীবী সমিতির পক্ষ থেকে সংবর্ধনা ও সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়।
এএন