ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Amar Sangbad

ইনস্টাগ্রাম

Amar Sangbad

এক্স

Amar Sangbad


লিংকডইন

Amar Sangbad

পিন্টারেস্ট

Amar Sangbad

গুগল নিউজ

Amar Sangbad


হোয়াটস অ্যাপ

Amar Sangbad

টেলিগ্রাম

Amar Sangbad

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Amar Sangbad


ফিড

Amar Sangbad

ঢাকা শনিবার, ১৮ জুলাই, ২০২৬

বরগুনায় স্কুল শিক্ষককে অপহরণ করে বর্বর নির্যাতন

বরগুনা প্রতিনিধি

বরগুনা প্রতিনিধি

অক্টোবর ২৮, ২০২৫, ০৭:০৫ পিএম

বরগুনায় স্কুল শিক্ষককে অপহরণ করে বর্বর নির্যাতন

বরগুনার আমতলী উপজেলার চরকগাছিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. রফিকুল ইসলামকে অপহরণ করে বর্বর নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় মিজানুর রহমান ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে। 

ভুক্তভোগী শিক্ষক দাবি করেছেন, নির্যাতনের সময় তিনি পানি চাইলে সন্ত্রাসীরা তাকে প্রস্রাব খেতে বাধ্য করে। এছাড়া তার সোনালী ব্যাংক হিসাব থেকে এটিএম কার্ড ব্যবহার করে ৮০ হাজার টাকা তুলে নেয়া হয়।

ঘটনাটি ঘটে ২১ অক্টোবর রাতে, আর ঘটনার ৭ দিন পর সোমবার রাতে রফিকুল ইসলাম আমতলী থানায় মামলা দায়ের করেন। 

মঙ্গলবার দুপুরে পুলিশ তার ব্যবহৃত মোটরসাইকেল উদ্ধার করেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বরগুনা সদর উপজেলার ধুপতী গ্রামের ইউনুস আলী মীরের ছেলে রফিকুল ইসলাম ২০১৫ সালে চরকগাছিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে যোগ দেন। বিদ্যালয়ে যোগদানের পর থেকে স্থানীয় যুবলীগ নেতা মিজানুর রহমান তার কাছে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। টাকা দিতে অস্বীকার করায় মিজান দীর্ঘদিন ধরে তাকে বিভিন্নভাবে হয়রানি করে আসছিলেন।

২১ অক্টোবর রাতে মিজানুর রহমান, আবুল কালাম আজাদ ওরফে নয়া তালুকদারসহ কয়েকজন সন্ত্রাসী বিদ্যালয় হোস্টেল থেকে রফিকুল ইসলামকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে নিয়ে যায়। তারা ঘোপখালী এলাকার নয়া মিয়ার কলা বাগানে নিয়ে লোহার রড দিয়ে রাতভর অমানবিক নির্যাতন চালায়।

নির্যাতনের একপর্যায়ে শিক্ষক পানি চাইলে তারা তাকে প্রস্রাব খাইয়ে দেয় বলে অভিযোগ করেন রফিকুল ইসলাম। এরপর তাকে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। টাকা দিতে অস্বীকার করায় পুনরায় নির্যাতন চালানো হয়। অবশেষে তিনি তার সোনালী ব্যাংক হিসাবের ৮১ হাজার টাকার কথা জানালে সন্ত্রাসীরা তার এটিএম কার্ড ও পিন নম্বর নিয়ে যায়।

নির্যাতনে তার কান, মুখমণ্ডল ও চোখে রক্তাক্ত জখম হয়। পরে অচেতন অবস্থায় তাকে বিদ্যালয়ের হোস্টেল এলাকায় ফেলে রেখে যায় সন্ত্রাসীরা। তারা তার ল্যাপটপ ও মোটরসাইকেল লুট করে নিয়ে যায় এবং হুমকি দেয়, বিষয়টি প্রকাশ করলে তাকে হত্যা করে পায়রা নদীতে ফেলে দেওয়া হবে।

পরদিন বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ রফিকুল ইসলামকে উদ্ধার করে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে, পরে তাকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

শিক্ষক রফিকুল ইসলাম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন,“আমি দুই লাখ টাকা চাঁদা দিতে রাজি না হওয়ায় মিজানুর রহমান আমাকে দীর্ঘদিন ধরে হয়রানি করছিল। ২১ অক্টোবর রাতে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে নিয়ে গিয়ে রড দিয়ে পেটানো হয়। আমি পানি চাইলে তারা আমাকে প্রস্রাব খাইয়ে দেয়। এরপর আমার ব্যাংক হিসাবের টাকা তুলে নেয়। এখনো তারা আমাকে হত্যার হুমকি দিচ্ছে।”

চরকগাছিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. হুমায়ুন কবির বলেন,“আমাদের সহকারী শিক্ষককে অপহরণ করে অমানবিক নির্যাতন করা হয়েছে। আমরা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।”

আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. রাশেদ মাহমুদ রোকনুজ্জামান বলেন,“আহত শিক্ষকের চোখ, মুখমণ্ডলসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে রক্তাক্ত জখমের চিহ্ন রয়েছে। তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।”

আমতলী থানার অফিসার ইনচার্জ দেওয়ান জগলুল হাসান বলেন,“এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। শিক্ষকের ব্যবহৃত মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।”

মামলায় মিজানুর রহমানকে প্রধান আসামি করে চারজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। অন্য আসামিরা হলেন, আবুল কালাম আজাদ ওরফে নয়া মিয়া, তোতা তালুকদার ও সেলিম তালুকদার।

স্থানীয়রা জানান, আসামিদের বিরুদ্ধে আমতলী ও তালতলী থানাসহ বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। মামলা হওয়ার পর তারা এলাকা ছেড়ে পালিয়েছে।

ইএইচ

Link copied!