এন কে বি নয়ন, ফরিদপুর
নভেম্বর ৭, ২০২৫, ০৮:৪৫ পিএম
ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে ৭ নভেম্বর বিপ্লবী ও সংহতি দিবসে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় উপজেলা বিএনপির একাংশের কার্যালয়ে ভাঙচুরসহ আগুন দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ১৫টি মোটরসাইকেল ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়।
এ সময় আশপাশের ১০ থেকে ১২টি দোকানপাটও ভাঙচুরের শিকার হয়। তবে এখনও দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ও থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
শুক্রবার বিকেল ৫টার দিকে উপজেলা সদরের ওয়াবদা মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এক পর্যায়ে এক ঘন্টার পর সেনাবাহিনী ও পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
এতে আহতরা হলেন, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মিনাজুর রহমান লিপন, লিয়াকত মোল্লা, রফিকুল ইসলাম, টিটু, জব্বার, ইমদাদুল হক, লাভলুসহ অন্তত ২৫ জন। আহতদের বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
স্থানীয় ও দলীয় সূত্রে জানা গেছে, রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সাবেক সংসদ সদস্য ও কৃষকদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহ-সভাপতি খন্দকার নাসিরুল ইসলাম ও উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি ও সাবেক যুগ্ম সম্পাদক শামসুদ্দিন মিয়া ঝুনু গ্রুপের মধ্যে বিরোধ চলে আসছে। সম্প্রতি বিএনপির মনোনয়ন ও উপজেলা বিএনপির কমিটি গঠন নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনায় ৭ নভেম্বর বিপ্লবী ও সংহতি দিবস উপলক্ষে দুই গ্রুপ পৃথক সমাবেশ ও র্যালীর আয়োজন করে।
সরেজমিনে দেখা যায়, বোয়ালমারীর ওয়াবদা মোড়ে হারুন শফিং কমপ্লেক্সে অবস্থিত উপজেলা বিএনপির একাংশের কার্যালয়ের সামনে কর্মসূচির আয়োজন করেন শামসুদ্দিন মিয়া ঝুনু গ্রুপ। অপরদিকে চৌরাস্তা এলাকায় একই কর্মসূচি আয়োজন করে নাসিরুল ইসলাম গ্রুপ। বিকেলে দুই পক্ষের লোকজন বোয়ালমারী বাজারে জড়ো হওয়ার কারণে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
বিকাল সাড়ে চারটার দিকে খন্দকার নাসিরুল ইসলামের পক্ষের শতশত মানুষ লাঠি, ইট, পাটকেল ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে বোয়ালমারী বাজারের ওয়াবদা এলাকায় ঝুনু সমর্থিতদের অফিসে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। এ সময় আশেপাশের অন্তত ৮ থেকে ১০টি দোকানপাটেও হামলা চালানো হয়। অন্তত ১৫টি মোটরসাইকেলে আগুন ধরানো হয়। প্রায় এক ঘন্টা সময় ধরে ধ্বংসযজ্ঞ চলতে থাকে। এ সময় ভেতরে অবরুদ্ধ হন অনেকে এবং অন্যরা দ্রুত স্থান ত্যাগ করে।
খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা আগুন নেভাতে গেলে বিক্ষুব্ধদের মুখে পড়ে ফিরে যান। পরে সন্ধ্যা সাড়ে পাঁচটার দিকে সেনাবাহিনী ও পুলিশের যৌথ দল পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
বোয়ালমারী উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক ও নবগঠিত কমিটির সহসভাপতি শামসুদ্দিন মিয়া ঝুনু বলেন, “নাসির গ্রুপ সমর্থিত নেতাকর্মীরা বহিরাগত লোকজন এনে আমাদের নেতাকর্মী ও অফিসে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে।”
বোয়ালমারী উপজেলা বিএনপির নব গঠিত কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলাম বলেন, “ঝুনু মিয়ার সমর্থকরা উস্কানি দিয়ে আমাদের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালিয়েছে। তারা বিভিন্ন স্থান থেকে লোক ভাড়া করে এনে আমাদের ওপর হামলা চালিয়েছে।”
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত মেডিকেল অফিসার আব্দুল্লা আল মাসুম জানান, হাসপাতালে সাত জন আহত অবস্থায় আসেন। এর মধ্যে তিন জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাদের ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে বোয়ালমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল হাসান বলেন, “পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হচ্ছে।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তানভীর হাসান চৌধুরী বলেন, “বিষয়টি খুবই দুঃখজনক। এরকম বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টি হবে, তা আমরা কল্পনাও করিনি।”
ইএইচ