পঞ্চগড় প্রতিনিধি
নভেম্বর ১৮, ২০২৫, ০২:০৮ পিএম
উত্তরের জেলা পঞ্চগড়ে নতুন জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে যোগ দিয়েছেন গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সাবেক উপসচিব কাজী সায়েমুজ্জামান।
যোগদানের আগে এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে তিনি লিখেছেন, জেলা প্রশাসক হিসেবে আগামী নির্বাচনে রিটার্নিং অফিসারের দায়িত্ব পালন করাটাই তার এই মুহূর্তের প্রধান লক্ষ্য। নির্বাচনের মতো চ্যালেঞ্জিং একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব নিতে হবে। তিনি বিশ্বাস করেন, ভোটরক্ষা মানে দেশরক্ষা।
সোমবার সন্ধ্যায় তার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে দেওয়া আবেগঘন পোস্টে তিনি আরও লিখেছেন, “ভোটরক্ষা করা আমার উপর অর্পিত পবিত্র আমানত। আমি ব্যক্তিগতভাবে কখনো কারো আমানদারিতা নষ্ট করিনি। জীবনেও কারো কাছ থেকে এক টাকাও ধার করিনি। এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের ঋণ নেই। এক টাকাও হারাম খাইনি। আমি আরাম আয়েশী জীবনযাপন করি না। নিজে আয় করে লেখাপড়া করেছি। সরকারি চাকরিতে এসেও কাউকে কোনোদিন নিজের বদলির বা পোস্টিংয়ের জন্য তদবির করিনি। যেখানে পোস্টিং দিয়েছে সেখানে গিয়ে কাজ করেছি। মানুষের মন জয় করেছি। এবারও আমার উপর অর্পিত দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করতে বদ্ধপরিকর। কোনো রাগ-অনুরাগ-বিরাগের বা লোভের বশবর্তী হয়ে আমার পথ থেকে পিছপা হব না। আমি একজন প্রফেশনাল ক্যারিয়ার ব্যুরোক্র্যাট। আপনারা আমার ওপর ভরসা করতে পারেন।”
পঞ্চগড়বাসীর উদ্দেশ্যে তিনি লিখেছেন, “গত ৯ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে আমাকে পঞ্চগড়ের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে। পঞ্চগড়ে পদায়নের পর আপনারা নজিরবিহীনভাবে স্বাগত জানিয়েছেন, অভিনন্দন জানিয়েছে। অনেকেই সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট দিয়েছেন। আপনাদের ভালোবাসায় অভিভূত হয়েছি। আমি আপনাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। আমার পদায়নে সাবেক সহকর্মী সাংবাদিকরা যেভাবে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন, তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। আমার বর্তমান সহকর্মীরাও যেভাবে অভিনন্দন জানিয়েছেন, তা অভূতপূর্ব। এই অভিনন্দনের জোয়ারে যোগ দিতে গিয়ে অনেকটা প্রত্যাশার চাপ অনুভব করছি। আমার দায়িত্ব বেড়ে গেছে। কাজ দিয়ে এই চাপ মুক্ত হওয়ার চেষ্টা করব।”
দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আমি অনেক দিন ধরে প্রশিক্ষক হিসেবে সরকারি কর্মচারীদের প্রশিক্ষণ দিয়েছি। বিনা হয়রানিতে, ঝামেলামুক্তভাবে, কম খরচে সেবাপ্রার্থীরা যাতে সরকারি সেবা পেতে পারেন, সেই ম্যাসেজ দিতে দেশের এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে ছুটে গেছি। যেখানে সুযোগ পেয়েছি সেটা বাস্তবায়ন করেছি। ফেসবুকে অসংখ্য ইতিবাচক মন্তব্য এর সাক্ষী। এবার বড় পরিসরে তা বাস্তবায়নের পালা। আমি চাকরি জীবনের শুরু থেকেই দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতিতে চলেছি। নিজে দুর্নীতি করিনা, অন্যকে করতে দেইনা। পঞ্চগড়ে একটি লাগেজ আর কিছু ব্যাগ নিয়ে যাচ্ছি। সেই একটি লাগেজ আর আপনাদের ভালোবাসা নিয়েই ফেরত আসবো, ইনশাআল্লাহ।”
নবাগত এই জেলা প্রশাসক আরও লিখেছেন, “পঞ্চগড়ে আমার অনেক শুভাকাঙ্খী রয়েছেন। আপনাদেরকে আমার অফিসে স্বাগতম। সেবার জন্য আসবেন, দেখা করতে আসবেন, শুভেচ্ছা জানাতেও আসতে পারেন। তবে আপনাদের প্রতি আমার বিনীত অনুরোধ থাকবে—দয়া করে কেউ ফুল বা ফুলের তোড়া আনবেন না। গিফট অপছন্দ করি। যশোরে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট থাকাকালে ফেসবুক ব্যবহার বন্ধ রেখেছিলাম। এর একটি কারণ দেশ-বিদেশ থেকে প্রচুর গিফট আসে। কোনো গিফটের জিনিসপত্র আমি ব্যবহার করিনা। দোয়াই আমার জন্য যথেষ্ট। সবার দোয়া চাইছি। সবার সহযোগিতা চাই। সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন।”
এর আগে, ৯ নভেম্বর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের মাঠ প্রশাসন-২ শাখা থেকে জারি করা উপসচিব আমিনুল ইসলাম স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে কাজী মো. সায়েমুজ্জামানকে পঞ্চগড়ের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে পদায়ন করা হয়।
বিসিএস (প্রশাসন) ক্যাডারের ২৮তম ব্যাচের এই কর্মকর্তা পূর্বে দুদকের পরিচালক, যশোরের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এবং চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে সহকারী কমিশনারের দায়িত্ব পালন করেছেন।
ইএইচ