দৌলতপুর (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি
নভেম্বর ২৩, ২০২৫, ০১:৪৫ পিএম
শীতকাল এলেই কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে বাঁধাকপি ও ফুলকপির চাষে কৃষকরা ব্যাপক সাফল্য অর্জন করেছে। উর্বর মাটির কারণে এ অঞ্চলে কপিচাষ বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। স্থানীয় বাজারের চাহিদা মিটিয়েও এখানকার কপি যাচ্ছে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। ফলে কৃষকেরা প্রতি বিঘায় প্রায় ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত লাভ করছেন।
চাষীদের হিসাব অনুযায়ী, প্রতি বিঘা জমিতে কপি উৎপাদনে খরচ পড়ছে প্রায় ৩০ হাজার টাকা। আর সেই জমির কপি বিক্রি হচ্ছে ৭০-৮০ হাজার টাকায়। বাজারে চাহিদা বেশি থাকায় দামও তুলনামূলকভাবে ভালো যা কৃষকদের মুনাফা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
শশীধরপুর গ্রামের কৃষক রহিম জানান, তিনি ৭ বিঘা জমিতে আগাম জাতের বাঁধাকপি ও ফুলকপি আবাদ করেছেন। এর মধ্যে ২ বিঘা কপি আগেই ১ লাখ ৬০ হাজার টাকায় বিক্রি করেছেন। বাকি ৫ বিঘার কপি এখনো বিক্রয়যোগ্য হয়নি। তার ভাষায়, বিঘাপ্রতি খরচ ৩০ হাজার, আর লাভ প্রায় ৫০ হাজার টাকা।
একই গ্রামের আরেক চাষি জুলফিকার আলী বলেন, ৭ বিঘা জমিতে কপি লাগিয়েছিলাম। বিঘাপ্রতি খরচ ৩০ হাজার টাকা। ইতোমধ্যে সাড়ে ৩ বিঘা বিক্রি করেছি ২ লাখ ৮০ হাজার টাকায়। আরও সাড়ে ৩ বিঘা কপি আছে বাজার ভালো থাকায় আরও বেশি দাম পাব বলে আশা করি।
তামাক চাষ থেকে সরে এসে কপিচাষে সফল হয়েছেন সামিরুল ইসলাম। তিনি জানান, ২ বিঘা জমিতে কপি লাগিয়েছি। ১ বিঘা বিক্রি করেছি ৮০ হাজার টাকায়। আড়াই থেকে তিন মাসের এই আবাদ শীতকালেই সবচেয়ে ভালো হয়।
ধর্মদহ গ্রামের ওবাইদুল ইসলাম জানান, তিনি ৩ বিঘা ফুলকপি লাগিয়েছেন। এতে খরচ হয়েছে প্রায় ১ লাখ টাকা। বর্তমান বাজারদরে প্রতি বিঘা প্রায় ৩৫ হাজার টাকা লাভের সম্ভাবনা রয়েছে।
দৌলতপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রেহানা পারভীন জানান, এ বছর শীতকালীন কপিচাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩৪২ হেক্টর জমি, যার মধ্যে বাস্তবে আবাদ হয়েছে ২৬০ হেক্টরে। কৃষকদের উৎসাহিত করতে ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিতে কৃষি বিভাগ সার্বিক সহযোগিতা করছে বলেও জানান তিনি। তার মতে, দৌলতপুরে প্রতিবছর সবজি আবাদ বাড়ছে এবং এর সুফল পাচ্ছেন এখানকার কৃষকেরা।
জেএইচআর