ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Amar Sangbad

ইনস্টাগ্রাম

Amar Sangbad

এক্স

Amar Sangbad


লিংকডইন

Amar Sangbad

পিন্টারেস্ট

Amar Sangbad

গুগল নিউজ

Amar Sangbad


হোয়াটস অ্যাপ

Amar Sangbad

টেলিগ্রাম

Amar Sangbad

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Amar Sangbad


ফিড

Amar Sangbad

ঢাকা শনিবার, ১৮ জুলাই, ২০২৬

যশোর আইনজীবী সমিতির নির্বাচন: ‘আওয়ামী ভোট’ নিয়েই চূড়ান্ত সমীকরণ

যশোর প্রতিনিধি

যশোর প্রতিনিধি

নভেম্বর ২৭, ২০২৫, ১১:৫৬ পিএম

যশোর আইনজীবী সমিতির নির্বাচন: ‘আওয়ামী ভোট’ নিয়েই চূড়ান্ত সমীকরণ

যশোর জেলা আইনজীবী সমিতির বার্ষিক নির্বাচনকে ঘিরে সমিতি চত্বরে এখন উৎসবমুখর পরিবেশ। শুক্রবার অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রার্থীরা শেষ মুহূর্তের প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। 

কিন্তু এবারের নির্বাচনে সবচেয়ে আলোচিত বিষয় আওয়ামীপন্থি আইনজীবীদের বিপুল ভোটসংখ্যা থাকলেও তাদের পক্ষে আনুষ্ঠানিক কোনো প্যানেল নেই। ফলে কে কোন প্যানেলকে সমর্থন দেবেন, তার ওপরই নির্ভর করছে পুরো নির্বাচনের চূড়ান্ত ফল। ভোট সকাল ১০টা থেকে, বিরতি থাকবে জুমার সময় আগামীকাল সকাল ১০টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত টানা ভোটগ্রহণ চলবে। দুপুর ১টা থেকে আড়াইটা পর্যন্ত জুমার নামাজের বিরতি থাকবে। 

এবারের নির্বাচনে মোট ভোটার ৫৩৬ জন। তিনটি প্রধান রাজনৈতিক ধারার পাশাপাশি স্বতন্ত্র প্রার্থীরা মিলিয়ে ২২ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ১৩টি পদে। আইনজীবী সমিতির প্রাঙ্গণে ব্যানার, পোস্টার ও লিফলেটের পাশাপাশি প্রার্থীদের ব্যক্তিগত যোগাযোগে সৃষ্টি হয়েছে নির্বাচনী আমেজ।

সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে কোন প্যানেল কতটা শক্ত অবস্থানে—এ নিয়েই এখন বেশি আলোচনায় ব্যস্ত ভোটাররা। আওয়ামী আইনজীবীদের প্যানেল না থাকলেও ‘ভোট’ তাদের হাতে বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদ সাধারণত প্রতি বছরই প্যানেল দিয়ে মাঠে থাকে। কিন্তু এবার দলীয় নেতৃত্বের ঘাটতি ও সাংগঠনিক সমস্যা কারণে তারা প্রার্থী ঘোষণা করেনি। এতে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। কারণ সমিতির বড় অংশই আওয়ামী মনোভাবাপন্ন ভোটার, আর এই বিপুল ভোটব্যাংক নির্বাচনের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে। 

সাবেক সভাপতি শরীফ নূর মোহাম্মদ আলী রেজা বলেন, আমাদের সংগঠনে এবার কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব নেই। তবু এত বড় একটি ভোটব্যাংক যেকোনো প্যানেলকে জয়ী করতে পারে। যে প্যানেলকে সমর্থন দেওয়া হবে, তারাই শেষ পর্যন্ত নেতৃত্বে আসবে এটাই বাস্তবতা। 

জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম সবচেয়ে বড় প্যানেল যশোর জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট সাবেরুল হক সাবুর নেতৃত্বে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম প্রথমে ১১টি পদে প্রার্থী দেয়। পরে বাম গণতান্ত্রিক আইনজীবী সমিতির দুই প্রার্থী—বাসুদেব বিশ্বাস (সহসভাপতি) ও আশরাফুল আলম (সহকারী সম্পাদক)—যোগ দেওয়ায় প্যানেলটি আরও পরিপূর্ণ ও শক্তিশালী হয়। ফলে এবারের নির্বাচনে জাতীয়তাবাদী ফোরামকে সবচেয়ে সুসংগঠিত প্যানেল হিসেবেই দেখছেন সদস্যরা। 

জামায়াতপন্থিদের প্যানেলে ‘চমক’: আবু মোর্তজার প্রত্যাবর্তন জামায়াত সমর্থিত লইয়ার্স কাউন্সিল প্রথমে আটটি পদে প্রার্থী ঘোষণা করে। সাধারণ সম্পাদক মনিরুল ইসলাম ব্যক্তিগত কারণে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালে প্যানেলটি দুর্বল হয়ে পড়ে। ঠিক তখনই নাটকীয় মোড়—পূর্বে বিএনপিপন্থি ও সমিতির বহিষ্কৃত আইনজীবী আবু মোর্তজা ছোটকে সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী ঘোষণার মাধ্যমে ‘লতিফ-ছোট ঐক্য পরিষদ’ নতুন করে আত্মপ্রকাশ করে। শেষ মুহূর্তের এই চমকে নির্বাচনের হিসাব-নিকাশ পাল্টে গেছে। আবু মোর্তজার নিজস্ব ভোটব্যাংক রয়েছে এবং জামায়াতপন্থিদের সমর্থন যোগ হওয়ায় তার অবস্থান আরও শক্ত হয়েছে। 

সাধারণ সম্পাদক পদে তিন দিক থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা এ পদের লড়াইকে ঘিরে সবচেয়ে বড় উত্তেজনা। তিন প্রতিদ্বন্দ্বী— ১. আবু মোর্তজা ছোট – জামায়াত সমর্থিত প্যানেলের চমকপ্রদ প্রার্থী ২. কাজী রেফাত রেজওয়ান সেতু – স্বতন্ত্র প্রার্থী, প্রথমবার অংশ নিচ্ছেন ৩. জাতীয়তাবাদী ফোরামের প্রার্থী (নাম অনুসন্ধানের ভিত্তিতে) – সংগঠনের শক্তিশালী প্রার্থী ব্যারিস্টার কাজী রেফাত রেজওয়ান সেতু তরুণ হলেও পরিবারের সামাজিক অবস্থান তার বড় শক্তি। তার বাবা আব্দুস শহীদ লাল—সমিতির সাবেক সভাপতি এবং মুক্তিযুদ্ধের আদর্শের অনুসারী—ফলে আওয়ামী মনোভাবাপন্ন বড় অংশ তাকে সমর্থন করতে পারে বলে ধারণা করছে সহকর্মীরা। সভাপতি পদে দুই প্যানেলই সমান শক্তিতে মাঠে আছে। বক্তৃতা, ব্যক্তিগত যোগাযোগ, পুরোনো সম্পর্ক—সবই কাজে লাগাচ্ছেন প্রার্থীরা।

সমিতির জ্যেষ্ঠ সদস্যরা বলছেন, এই দুটি প্যানেলের যেকোনোটি জিততে পারে। শেষ পর্যন্ত আওয়ামী ভোটারদের ঝোঁক কোনদিকে যায় সেটিই মূল নির্ধারক। সমিতি চত্বরে প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত প্রার্থীরা সমর্থক নিয়ে ভোটারদের কাছে ছুটছেন। ব্যানার-পোস্টারে ছেয়ে গেছে আদালত ভবনের আশপাশ। ভোটাররা বলছেন, এক দশকের মধ্যে এবারের নির্বাচন সবচেয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। 

এক সিনিয়র আইনজীবী বলেন, গোটা নির্বাচন এখন দাঁড়িয়ে আছে একটি প্রশ্নে—আওয়ামীপন্থি আইনজীবীরা কোন দিকে ভোট দেবেন? যার প্রতি তারা ঝুঁকবেন, সেই প্যানেলই বিজয়ী হবে।

নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মোহসীন আলী জানান, ভোটগ্রহণের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন। নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে স্বেচ্ছাসেবক ও দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্যরা সার্বক্ষণিক নজরদারিতে থাকবেন। তিনি বলেন, ভোট যথাসময়ে শুরু হবে। আমরা নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করব। আওয়ামী আইনজীবীরা আনুষ্ঠানিক প্যানেল না দিলেও তাদের ভোটই যে ফল নির্ধারণ করবে এ বিষয়ে সকলের মত এক। আর সাধারণ সম্পাদক পদে ত্রিমুখী লড়াইয়ে উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে নির্বাচনে। শেষ পর্যন্ত কোন প্যানেল আওয়ামী সমর্থন টানতে পারে, সেটিই নির্ধারণ করবে যশোর আইনজীবী সমিতির আগামী নেতৃত্ব।

Link copied!