মিরাজ আহমেদ, মাগুরা
ডিসেম্বর ৪, ২০২৫, ১০:২৭ এএম
সহকারী শিক্ষকদের কর্মবিরতি ও পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণায় যখন সারাদেশের শিক্ষাপরিবেশ চাপের মুখে, ঠিক তখনই মাগুরায় শিক্ষাকার্য স্বাভাবিক রাখতে দৃঢ় ভূমিকা নিয়েছে জেলা প্রশাসন। প্রাথমিক থেকে মাধ্যমিক দু’স্তরেই শিক্ষা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে জেলা প্রশাসক মো. আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ মাঠে নেমে কঠোর নির্দেশনা দেন।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে সহকারী শিক্ষকদের কর্মবিরতি প্রত্যাহারের পরপরই জেলা প্রশাসক তা বাস্তবায়নে তৎপর হন। তিনি স্পষ্টভাবে জানান, শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ কোনোভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত হতে দেওয়া হবে না। শ্রেণিকক্ষে ফিরতে হবে সরকারি নির্দেশ অমান্য করলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দাবির যৌক্তিকতা থাকতে পারে, কিন্তু দাবি আদায়ের নামে পরীক্ষা বিঘ্নিত করা যাবে না বলেও সতর্ক করেন তিনি।
জেলায় সব ইউনিয়নে উপজেলা প্রশাসন, প্রাথমিক শিক্ষা অফিস ও জেলা প্রশাসনের সমন্বয়ে মনিটরিং দল গঠন করা হয়েছে। এর ফলে বুধবার দুপুর থেকেই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর তৃতীয় প্রান্তিক পরীক্ষার পরিবেশ স্বাভাবিক হতে শুরু করে।
এদিকে চার দফা দাবিতে ১ ডিসেম্বর থেকে সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতেও শুরু হয় কর্মবিরতি। এতে মাগুরা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় ও সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় অংশ নিতে এসে ফিরে যায়। পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা প্রশাসক দ্রুত শিক্ষা অফিস এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের মাঠে নামার নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের পরীক্ষায় বিঘ্ন কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
জেলা প্রশাসনের তৎপরতায় অনেক মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক আলোচনায় বসেছেন এবং পরীক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে মনিটরিং জোরদার করা হয়েছে। মাঠপর্যায়ে সক্রিয় ভূমিকার ফলে শিক্ষার্থীদের পড়ালেখা ব্যাহত হয়নি যা অভিভাবকদের কাছে অত্যন্ত ইতিবাচক উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
জেলা প্রশাসক জানান, সহকারী শিক্ষকদের দাবি নিয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ও জাতীয় বেতন কমিশনে ইতোমধ্যে প্রক্রিয়া চলমান। তাই কর্মবিরতির যৌক্তিকতা নেই বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
সার্বিকভাবে, মাগুরায় শিক্ষাঙ্গনের সংকট মোকাবিলায় জেলা প্রশাসকের দ্রুত, কঠোর ও বাস্তবমুখী পদক্ষেপ জেলার শিক্ষাকার্য স্বাভাবিক রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
জেএইচআর