মিজানুর রহমান মিজান, লালমনিরহাট
জানুয়ারি ৩, ২০২৬, ০২:১৮ পিএম
উত্তরের জেলা লালমনিরহাটে তীব্র শীতের দাপটে জবুথুবু অবস্থায় পড়েছে নিম্ন আয়ের মানুষ, শিশু ও বয়স্করা। হিমেল হাওয়ায় বিপর্যস্ত হয়ে হাসপাতালগুলোতে বাড়ছে ঠান্ডাজনিত রোগী।
কয়েকদিন ধরে রাত থেকে সকাল পর্যন্ত চলে ঘন কুয়াশার দাপট। ঘন কুয়াশা ও হিমেল বাতাসে কাবু হয়ে পড়ছে সব বয়সি মানুষ। বেলা বাড়ার সাথে সাথে কুয়াশা কিছুটা কমলেও কনকনে ঠান্ডায় স্থবির হয়ে পড়েছে জনজীবন। তীব্র শীতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়ছেন ছিন্নমূল ও নিম্ন আয়ের মানুষ। অনেকে খর-কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারনেরও চেষ্টা করছেন।
আবহাওয়া অফিসের দেওয়া তথ্যমতে, লালমনিরহাটে শনিবার সকালে ১০.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়।
কয়েকদিন ধরে লালমনিরহাটে শীতের তীব্রতায় বেড়েছে ঠান্ডাজনিত রোগের প্রকোপ। শীতের দাপট বেড়ে যাওয়ায় প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হচ্ছে না কেউই। এতে কর্মহীন হয়ে পড়ছে শ্রমজীবী মানুষ।
আবহাওয়া অফিস রংপুরের তথ্যমতে, গত এক সপ্তাহে সর্বনিম্ন ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ও সর্বোচ্চ ২২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়।
তাই ক্রমেই নানা রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়ছে শিশু ও বয়স্করা। টানা তিনদিন থেকে সূর্যের দেখা না মেলায় জনজীবনে দেখা দিয়েছে চরম দুর্ভোগ। দিনের বেলায়ও হেডলাইট জ্বালিয়ে গাড়ি চালাচ্ছেন ড্রাইভাররা। কর্মহীন হয়ে পড়ায় পরিবার নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে খেটে খাওয়া নিম্ন আয়ের মানুষ।
জেলা সদর হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায় ইনডোর ও আউটডোরে রোগীদের উপচে পড়া ভিড়। ঠান্ডাজনিত কারণে শিশুদের ডাইরিয়া, জ্বর, সর্দি, কাশি ও বয়স্করা নিউমোনিয়া, এ্যাজমা, ব্যথাসহ নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, ইনডোর ও আউটডোরে ক্রমে রোগী সংখ্যা বেড়ে চলছে। তবে শীতকালে স্পেশাল নজর রাখা হয়েছে যেন শিশু ও বয়স্করা নিয়মিত ঔষধ পান।
উল্লেখ্য, শীতের দুর্ভোগ কমাতে সরকারি হাসপাতালগুলোতে সেবার মান বাড়ানো ও সরকারের কাছে পর্যাপ্ত শীতবস্ত্র বিতরণের দাবি জানিয়েছেন জেলাবাসী।
এএন