বরগুনা প্রতিনিধি
জানুয়ারি ১১, ২০২৬, ০৬:৩০ পিএম
জলবায়ু ও দুর্যোগ সহনশীল ক্ষুদ্রাকার পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রকল্পের মতবিনিময় সভায় মাস্ক পরিহিত সন্ত্রাসীরা হামলা করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে নারী ও প্রকল্প কর্মকর্তাসহ সাতজন আহত হয়েছেন। আহত ডালিম ও মঈনকে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটেছে শনিবার সন্ধ্যায় আমতলী উপজেলার চাওড়া চালিতাবুনিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। এর ফলে জলবায়ু প্রকল্পের কয়েক কোটি টাকার খাল খনন কাজ বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে।
জানা গেছে, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের উদ্যোগে জলবায়ু ও দুর্যোগ সহনশীল ক্ষুদ্রাকার পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রকল্পের অধীনে আমতলী উপজেলার চাওড়া ইউনিয়নের পাতাকাটা এলাকার খাল খননে একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে শনিবার বিকেলে মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়।
সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন প্রকল্প পরিচালক মো. এনামুল কবির। সভাপতিত্ব করেন বরগুনা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মেহেদী হাসান। সভায় আমতলী উপজেলা প্রকৌশলী ইদ্রিস আলীসহ দুই শতাধিক নারী-পুরুষ অংশগ্রহণ করেন।
অভিযোগ রয়েছে, সভা শুরু হওয়ার ঘণ্টাখানেক পরেই সোহাগ, নাশির, অসীম ও মিরাজের নেতৃত্বে মাস্ক পরিহিত ৩০-৩৫ জন সন্ত্রাসী সভায় অতর্কিত হামলা করে এবং প্রকল্প পরিচালকসহ এলজিইডির কর্মকর্তাদের লাঞ্ছিত করেছে। সন্ত্রাসীদের হামলায় প্রকল্প কর্মকর্তা ও নারীসহ সাতজন আহত হন। এতে সভা পণ্ড হয়ে যায়। সন্ত্রাসীরা শাসিয়ে যায় যে, এ নিয়ে বাড়াবাড়ি করলে প্রাণে মেরে ফেলবে। তাদের ভয়ে প্রকল্প পরিচালকসহ এলজিইডির কর্মকর্তারা জনৈক এক বাড়িতে আশ্রয় নেন। এ ঘটনায় আহত ডালিমকে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে এবং মঈনকে বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে পাঠানো হয়। অপর আহতরা সন্ত্রাসীদের ভয়ে চিকিৎসা নিতে পারেননি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন নারী বলেন, মাস্ক পরিহিত সন্ত্রাসীরা অনুষ্ঠানে এসেই বলে যে, যুবদল নেতা রাকিবকে দাওয়াত না দিয়ে প্রকল্প করবে আর তা মেনে নেবে, তা হবে না। এ কথা বলেই মারধর শুরু করে। তাদের তাণ্ডব ও মারধরে অনেক নারী আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। তারা আরও জানান বেশ কয়েকজন নারীসহ পুরুষ আহত হয়েছেন এবং স্যারদের লাঞ্ছিত করা হয়েছে।
আহত ডালিম বলেন, কিছু বুঝে ওঠার আগেই সোহাগ, নাশির, অসীম ও মিরাজের নেতৃত্বে সন্ত্রাসীরা সভায় হামলা করেছে। আমাকেসহ বেশ কয়েকজন নারী ও অতিথিদের মারধর করেছেন।
আমতলী উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মেহেদী জামান রাকিব বলেন, আমি চাওড়া ইউনিয়নে নির্বাচন করব, সে সুবাদে এলাকায় কিছু ঘটলে আমার নলেজে আসে।
তিনি আরও বলেন, ওখানে কিছু যুবলীগ নেতাকর্মী সভা করছিল তাই এলাকার মানুষ গিয়ে বন্ধ করে দিয়েছেন।
আমতলী উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশলী মো. ইদ্রিস আলী বলেন, সন্ত্রাসীরা কেন হামলা করেছে তা আমি জানি না। প্রকল্প পরিচালকের সামনে এমন একটি ঘটনা খুবই দুঃখজনক। তিনি আরও বলেন, যে ঘটনা ঘটেছে লোকলজ্জায় তা বলতে পারব না। আমার অফিসের একজনকে মারধর করেছে। এতে এলাকারই ক্ষতি হলো।
আমতলী থানার ওসি মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, অভিযোগ পেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. রাশেদ মাহমুদ রোকনুজ্জামান বলেন, আহত একজনকে যথাযথ চিকিৎসা দিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আমতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ জাফর আরিফ চৌধুরী বলেন, বিষয়টি আমি শুনেছি। ভালোভাবে জেনেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এলজিইডির বরগুনা নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মেহেদী হাসান বলেন, সন্ত্রাসীদের তাণ্ডবে সভা শেষ না করে চলে এসেছি। তিনি আরও বলেন, প্রকল্প পরিচালকের সামনে এমন ঘটনায় এলাকার উন্নয়ন বঞ্চিত হবে। প্রকল্প পরিচালক মো. এনামুল কবির বলেন, এমন ঘটনায় এলাকার জলবায়ু প্রকল্পের খাল খনন কাজ বন্ধ হয়ে যাবে। এলাকার এমন ক্ষতি কোনো ভদ্র মানুষ করে না।
ইএইচ