ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Amar Sangbad

ইনস্টাগ্রাম

Amar Sangbad

এক্স

Amar Sangbad


লিংকডইন

Amar Sangbad

পিন্টারেস্ট

Amar Sangbad

গুগল নিউজ

Amar Sangbad


হোয়াটস অ্যাপ

Amar Sangbad

টেলিগ্রাম

Amar Sangbad

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Amar Sangbad


ফিড

Amar Sangbad

ঢাকা রবিবার, ১৯ জুলাই, ২০২৬
স্বামী উধাও

নাগেশ্বরীতে গৃহবধূর বীভৎস মরদেহ উদ্ধার

আমার সংবাদ ডেস্ক

আমার সংবাদ ডেস্ক

জানুয়ারি ১২, ২০২৬, ০৪:০৫ পিএম

নাগেশ্বরীতে গৃহবধূর বীভৎস মরদেহ উদ্ধার

কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলায় এক গৃহবধূর রক্তাক্ত ও ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহতের নাম মহিমা বেগম, যিনি উপজেলার ভিতরবন্দ ইউনিয়নের দিগদারি এলাকার বাবলু মিয়ার স্ত্রী। ঘটনার পর থেকেই বাবলু মিয়া নিখোঁজ রয়েছেন, যা এই হত্যাকাণ্ডকে ঘিরে একাধিক প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড নাকি এর পেছনে অন্য কোনো রহস্য রয়েছে, তা খতিয়ে দেখছে প্রশাসন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বাবলু মিয়া দীর্ঘদিন ধরে ঢাকায় বসবাস করেন। সেখানে তিনি রিকশার গ্যারেজ এবং মেস পরিচালনার ব্যবসা করেন। তাঁর দুই ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। প্রায় দুই সপ্তাহ আগে তিনি সপরিবারে ঢাকা থেকে গ্রামের বাড়িতে বেড়াতে আসেন। পরিবারের সদস্যরা জানান, রোববার তাদের আবারও ঢাকায় ফিরে যাওয়ার কথা ছিল।

কিন্তু কোনো এক অজ্ঞাত কারণে তারা ওইদিন ঢাকা যাননি। এরপর রোববার দিবাগত রাতের কোনো এক সময় এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। সোমবার ভোরে বাবলুর মা ঘুম থেকে উঠে দেখতে পান, বাবলু ও মহিমার ঘরের দরজা বাইরে থেকে লাগানো। এতে তাঁর সন্দেহ হলে তিনি চিৎকার শুরু করেন। পরিবারের অন্য সদস্যরা এসে দেখেন, বাড়ির প্রায় সব কটি ঘরের দরজাই বাইরে থেকে আটকানো।

ঘরের দরজা খোলার পর ভেতরে মহিমা বেগমের নিথর ও ক্ষতবিক্ষত দেহ বিছানায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। মরদেহের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন ছিল, যা দেখে উপস্থিত সবাই শিউরে ওঠেন। তবে ঘরে মহিমার মরদেহ থাকলেও তাঁর স্বামী বাবলু মিয়ার কোনো হদিস পাওয়া যায়নি। ঘর থেকে বাবলুর মোবাইল ও প্রয়োজনীয় কিছু জিনিসপত্রও নিখোঁজ রয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে এই ঘটনা নিয়ে দুই ধরনের ধারণা কাজ করছে। কেউ কেউ মনে করছেন, পারিবারিক কোনো বিরোধের জেরে বাবলু মিয়া নিজেই স্ত্রীকে হত্যা করে পালিয়ে গেছেন। বিশেষ করে ঢাকায় ফেরার দিনে না গিয়ে বাড়িতে থেকে যাওয়া এবং সব ঘরের দরজা বাইরে থেকে আটকে রাখা এই আলামতগুলো বাবলুর দিকেই সন্দেহের আঙুল তুলছে।

অন্যদিকে স্বজনদের একাংশের দাবি, বাবলু মিয়াকে অপহরণ করা হয়ে থাকতে পারে। কোনো দুর্বৃত্ত দল মহিমাকে হত্যা করে বাবলুকে তুলে নিয়ে গেছে কি না, সেই সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছে না পুলিশ। খবর পেয়ে নাগেশ্বরী থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।

নাগেশ্বরী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ হিল জামান সংবাদমাধ্যমকে বলেন, প্রাথমিকভাবে আলামত দেখে এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলেই মনে হচ্ছে। মরদেহে ধারালো অস্ত্রের একাধিক আঘাত রয়েছে। নিহতের স্বামী নিখোঁজ থাকায় বিষয়টি আরও গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। আমরা বাবলু মিয়াকে খুঁজে বের করার চেষ্টা করছি, তাকে পাওয়া গেলেই হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ জানা সম্ভব হবে।

শীতের ভোরে এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়লে দিগদারি এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। স্থানীয় ইউপি সদস্য জানান, বাবলু ও মহিমার মধ্যে আগে কখনো বড় ধরনের ঝগড়া হয়েছে বলে তারা শোনেননি। সুখে শান্তিতেই তারা ঢাকায় থাকতেন। এমন পরিস্থিতিতে এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্য কারণ উদঘাটন এবং অপরাধীদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

গৃহবধূ মহিমা বেগমের এই নৃশংস মৃত্যু আবারও পারিবারিক ও সামাজিক নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। বাবলু মিয়াকে খুঁজে বের করাই এখন তদন্তের প্রধান চ্যালেঞ্জ। তিনি যদি খুনি হন তবে কেন তিনি এই পথ বেছে নিলেন, আর যদি তিনি নির্দোষ হন তবে তাকে খুঁজে পাওয়াই এখন প্রশাসনের মূল লক্ষ্য।

জেএইচআর

Link copied!