মিজানুর রহমান মিজান, লালমনিরহাট
জানুয়ারি ১৩, ২০২৬, ০৪:০৩ পিএম
লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলায় রত্নাই নদীর ওপর নির্মিত তিন দশকের পুরোনো একটি সরু সেতু এখন স্থানীয়দের জন্য মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। সংস্কারের অভাবে রেলিং ও পিলার ভেঙে পড়া এই জরাজীর্ণ সেতু দিয়েই প্রতিদিন জীবন ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হচ্ছে দুর্গাপুর ও ভেলাবাড়ি ইউনিয়নের হাজারো মানুষ।
কৃষিনির্ভর এই অঞ্চলের মানুষের উৎপাদিত পণ্য ধান, চাল, ভুট্টা ও সবজি জেলা শহরে নেওয়ার একমাত্র মাধ্যম দুর্গাপুর–ভেলাবাড়ি সড়ক। ১৯৯৩ সালে নির্মিত এই সেতুটি অত্যন্ত সরু হওয়ায় একটি বড় গাড়ি উঠলে অন্য প্রান্তের যানবাহনগুলোকে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়। বর্তমানে সেতুর অবস্থা এতটাই শোচনীয় যে, যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন চালক ও পথচারীরা।
স্থানীয় শিক্ষার্থীরা জানায়, প্রতিদিন স্কুল-কলেজে যাওয়ার সময় এই ভাঙা সেতু দিয়ে অত্যন্ত ভয়ের মধ্যে পার হতে হয়।
কৃষিপণ্য পরিবহনে নিয়োজিত ট্রাক ও পিকআপ চালকরা জানান, সেতুর রেলিং না থাকায় এবং পিলারে ফাটল ধরায় ভারি মালামাল নিয়ে যাতায়াত করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। এটি দ্রুত পুনর্নির্মাণ করা না হলে এই অঞ্চলের কৃষি অর্থনীতি থমকে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী কাওছার আলম বলেন, সেতুটি বর্তমানে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। আমরা এটি পুনর্নির্মাণের জন্য চলমান গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পে প্রস্তাব পাঠিয়েছি। ইতোমধ্যে নকশার কাজ প্রায় সম্পন্ন হয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে দরপত্র আহ্বান করে নতুন সেতু নির্মাণের কাজ শুরু হবে।
উল্লেখ্য, সেতুটি প্রশস্ত করে দ্রুত নির্মাণ করা হলে দুই ইউনিয়নের মানুষের যাতায়াত ভোগান্তি কমবে এবং স্থানীয় কৃষিপণ্য দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সহজে রপ্তানি করা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।
ইএইচ