গোলাম কিবরিয়া সোহেল, নেত্রকোণা
জানুয়ারি ১৮, ২০২৬, ০৮:৫৪ পিএম
২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত গত ১ বছরে নেত্রকোণা জেলায় ২০৭টি অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বেশিরভাগ অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে সড়ক দুর্ঘটনায়। সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর মিছিল ক্রমশ বৃদ্ধি পাওয়ায় জনমনে চরম উদ্বেগ উৎকণ্ঠা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
এছাড়াও অস্বাভাবিক মৃত্যুর মধ্যে রয়েছে হত্যা, গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা, বিষপানে আত্মহত্যা, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যু ও পানিতে ডুবে মৃত্যু।
সচেতন বিশ্লেষকদের মতে, অস্বাভাবিক মৃত্যুর সংখ্যা সরকারি হিসেবের চেয়েও অনেক বেশি। কারণ অনেক সময় নিভৃতপল্লী এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনা, পানিতে ডুবে মৃত্যু ও বিদ্যুৎস্পৃষ্টতে মারা গেলে পুলিশি হয়রানি কিংবা ময়নাতদন্তে কাঁটাছেড়ার ভয়ে প্রশাসনকে না জানিয়ে অথবা জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের অনুমতি সাপেক্ষে লাশ দাফনের ব্যবস্থা করায় সরকারি হিসেবে নথিভুক্ত হয় না।
নেত্রকোণা আধুনিক সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার আরএমও সূত্রে জানা যায়, নেত্রকোণা জেলায় ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাসে ১৩টি, ফেব্রুয়ারি মাসে ১৪টি, মার্চ মাসে ১৮টি, এপ্রিল মাসে ২০টি, মে মাসে ২০টি, জুন মাসে ১৮টি, জুলাই মাসে ২২টি, আগস্ট মাসে ২৫টি, সেপ্টেম্বর মাসে ১৬টি, অক্টোবর মাসে ১২টি, নভেম্বর মাসে ১৭টি ও ডিসেম্বর মাসে ১২টিসহ মোট ২০৭টি অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।
নিরাপদ সড়কের দাবিতে সোচ্চার সচেতন নাগরিক সমাজের সভাপতি সানাউল হক মাসুম বলেন, সড়ক দুর্ঘটনা রোধ করতে হলে সবার আগে বিআরটিএ কর্তৃপক্ষ, জেলা পরিবহন মালিক সমিতি ও জেলা মোটরযান শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়নের উদ্যোগে সব ধরণের যানবাহন চালকদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ গাড়ি চালক তৈরি করার পাশাপাশি রাস্তায় কিভাবে গাড়ি চালাতে হয়, সে সব নিয়মকানুন সম্পর্কে তাদের সচেতন করতে হবে।
অপ্রাপ্তবয়স্ক, অদক্ষ এবং মাদকাসক্ত অবস্থায় কেউ যেন গাড়ি না চালায় এবং ট্রাফিক আইন যাতে সবাই মেনে চলে তার জন্য ট্রাফিক বিভাগকে আরও সততা ও আন্তরিকতার সহিত কাজ করতে হবে।
নেত্রকোণা বিআরটিএ সহকারী পরিচালক জি এম নাদির হোসেন বলেন, সড়ক দুর্ঘটনা রোধকল্পে আমরা বাস, ট্রাক, পিক-আপ ভ্যান ও অন্যান্য যানবাহন চালকদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাসহ চালক হেলপার ও পথচারীদের স্ব স্ব স্থান থেকে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য কাজ করে যাচ্ছি।
পুলিশ সুপার মো. তরিকুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি আমার সংবাদের প্রতিনিধিকে জানান, সড়ক দুর্ঘটনা রোধকল্পে নিরাপদ সড়ক আইন বাস্তবায়নে আমরা পুলিশ বিভাগের পক্ষ থেকে কাজ করে যাচ্ছি।
এছাড়াও পুলিশ বিভাগের পক্ষ থেকে সড়ক দুর্ঘটনা রোধ ও ট্রাফিক আইন মেনে চলতে চালক, হেলপার ও পথচারীদের মাঝে ব্যাপক জনসচেতনতা বৃদ্ধিমূলক কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। পুলিশ বিভাগের পক্ষ থেকে হেলমেট বিতরণ করাসহ নানা ধরনের উদ্বুদ্ধকরণ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
সড়ক দুর্ঘটনার পরপরই মামলা নেওয়াসহ অভিযুক্ত চালকদের আইনের আওতায় এনে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো পর্যন্ত পুলিশ বিভাগ কাজ করে যাচ্ছে।
ইএইচ