আমার সংবাদ ডেস্ক
জানুয়ারি ২১, ২০২৬, ০৫:১৫ পিএম
নোয়াখালীর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের হাজতখানায় বসেছিল রাজকীয় খানাপিনার আসর। আইনত যেখানে কড়াকড়ি থাকার কথা, সেখানে দুই প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতার জন্য আয়োজন করা হয় বিশেষ বেয়াইখানা বা বর ও কনের বাবার ভূরিভোজ।
পুলিশের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় সংরক্ষিত নারী হাজতখানায় এই আয়োজনের ভিডিও ফাঁসের পর তোলপাড় শুরু হয়েছে। ঘটনার প্রাথমিক সত্যতা পেয়ে ৫ পুলিশ সদস্যকে তাৎক্ষণিক বদলি করা হয়েছে এবং উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
বিয়ের উৎসব যখন আদালতের হাজতখানায় গত ৩০ ডিসেম্বর কারাগারে থাকা অবস্থায় কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা যুবলীগের সভাপতি আ জ ম পাশা চৌধুরীর মেয়ে ফালিহা আজমের সঙ্গে হাতিয়া পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি ছাইফ উদ্দিন আহমদের ছেলে ছাইম উদ্দিনের বিয়ে হয়। দুই পিতাই হত্যা ও নাশকতাসহ একাধিক মামলায় কারাগারে রয়েছেন।
গত সোমবার ১৯ জানুয়ারি তাঁদের আদালতে হাজিরার দিন ছিল। এই সুযোগে দুই পরিবার পুলিশের যোগসাজশে হাজতখানায় বিশেষ খাবারের আয়োজন করেন। ভিডিওতে দেখা যায় আ জ ম পাশা ও ছাইফ উদ্দিন রাজকীয় ভঙ্গিতে খাবার খাচ্ছেন এবং পরিবারের সদস্যরা তাঁদের খাবার পরিবেশন করছেন।
পুলিশের ৫ সদস্যের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা এই অনিয়মের ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর ৫ পুলিশ সদস্যকে নোয়াখালীর দুর্গম এলাকা হাতিয়ার বিভিন্ন পুলিশ ফাঁড়িতে বদলি করা হয়েছে। বদলি হওয়া সদস্যরা হলেন এটিএসআই জাহেদুল ইসলাম, এটিএসআই কবির আহম্মদ ভূঁইয়া, কনস্টেবল বিল্লাল হোসেন, কনস্টেবল মো. হাসান এবং কনস্টেবল সাইফুল ইসলাম।
জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার প্রশাসন ও অর্থ আবু তৈয়ব মো. আরিফ হোসেন জানান, তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে তাঁদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হতে পারে।
উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবু তৈয়ব মো. আরিফ হোসেনকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার লিয়াকত আকবর এবং পরিদর্শক মো. শাহ আলম। কমিটিকে আগামী সাত কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আইনজ্ঞ ও সাধারণ মানুষের প্রতিক্রিয়া জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আবদুর রহমান বলেন, এটি কেবল নিয়মভঙ্গ নয় বরং নিরাপত্তার জন্য চরম হুমকি। পরীক্ষা ছাড়া বাইরের খাবার এবং পরিবারের সদস্যদের প্রবেশের সুযোগ দেওয়া গুরুতর অপরাধ। সাধারণ মানুষের মাঝেও এই ঘটনায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
আসামিদের অপরাধের খতিয়ান আ জ ম পাশা চৌধুরীর বিরুদ্ধে ছাত্রশিবিরের সাত কর্মীকে গুলি করে হত্যার মামলাসহ একাধিক সহিংসতার অভিযোগ রয়েছে। ছাইফ উদ্দিন আহমদ হাতিয়া ও চরজব্বর থানায় বিস্ফোরক দ্রব্য আইনসহ অন্তত পাঁচটি মামলার আসামি।
৫ আগস্টের পর নিষিদ্ধ বা কার্যক্রম স্থগিত থাকা দলের নেতাদের এমন সুযোগ দেওয়ার পেছনে পুলিশের ভেতরে অন্য কোনো মহলের যোগসাজশ আছে কি না, তা নিয়েও তদন্ত শুরু হয়েছে।
জেএইচআর