মিজানুর রহমান মিজান, লালমনিরহাট
জানুয়ারি ২৫, ২০২৬, ০৮:১৪ পিএম
লালমনিরহাটে চলতি বোরো মৌসুমে আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে ট্রেতে উৎপাদিত ধানের চারা রাইস ট্রান্সপ্লান্টারের মাধ্যমে রোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে।
রোববার বিকেলে লালমনিরহাট সদর উপজেলার পঞ্চগ্রাম ইউনিয়নের সিন্ধুরমতি এলাকায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, লালমনিরহাট সদর উপজেলা কার্যালয়ের উদ্যোগে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
এদিন ২ হাজার ৫০০টি ট্রেতে উৎপাদিত চারা ব্যবহার করে রাইস ট্রান্সপ্লান্টারের মাধ্যমে ধান রোপণ করা হয়।
অনুষ্ঠানে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা খন্দকার সোহায়েল আহমেদের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, লালমনিরহাটের অতিরিক্ত উপপরিচালক (শস্য) মো. মতিউল আলম।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, লালমনিরহাট সদর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. নুরুজ্জামান রনি। এ ছাড়া বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) এর লালমনিরহাট জেলা সংবাদদাতা মো. বিপুল ইসলাম, সংশ্লিষ্ট ব্লকের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাসহ কৃষি বিভাগের অন্যান্য কর্মকর্তা ও স্থানীয় কৃষকরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মো. মতিউল আলম বলেন, ট্রেতে উৎপাদিত চারা রাইস ট্রান্সপ্লান্টারের মাধ্যমে রোপণ বোরো মৌসুমে একটি যুগান্তকারী প্রযুক্তি। এ পদ্ধতিতে চারা তোলা ও রোপণের খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসে। একই সাথে চারার শিকড় অক্ষত থাকায় দ্রুত বৃদ্ধি পায় এবং স্বল্প সময়ে এক দিনে প্রায় ১৫ বিঘা জমিতে ধান রোপণ করা সম্ভব হয়।
তিনি আরও বলেন, কুয়াশা ও শীতের সময় চারা সুস্থ রাখতে এবং যান্ত্রিক কৃষি ব্যবস্থায় কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করতে মাঠপর্যায়ে কৃষি বিভাগ নিয়মিত সহায়তা ও প্রশিক্ষণ প্রদান করছে।
সভাপতির বক্তব্যে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা খন্দকার সোহায়েল আহমেদ বলেন, রাইস ট্রান্সপ্লান্টার ব্যবহারে শ্রম ও সময় উভয়ই সাশ্রয় হয়। ট্রেতে বীজ বপনের ফলে চারার শিকড় ক্ষতিগ্রস্ত হয় না এবং দ্রুত মাটি থেকে পুষ্টি গ্রহণ করতে পারে। মাদুরের মতো চারা হওয়ায় রোপণ প্রক্রিয়াও সহজ হয়।
তিনি জানান, শীত ও প্রতিকূল আবহাওয়ায় ট্রেতে উৎপাদিত চারা তুলনামূলকভাবে বেশি স্বাস্থ্যকর থাকে এবং ২০ থেকে ২৫ দিন বয়সী চারা রাইস ট্রান্সপ্লান্টারের মাধ্যমে রোপণের জন্য সবচেয়ে উপযোগী।
তিনি আরও বলেন, উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা ফেরদৌস ইসলাম ও জাহাঙ্গীর আলম কর্মসূচি বাস্তবায়নে নিরলস পরিশ্রম করেছেন এবং কৃষকদের উদ্বুদ্ধকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।
অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া কৃষকরা আধুনিক এ প্রযুক্তি ব্যবহারে আগ্রহ প্রকাশ করেন এবং ভবিষ্যতে যান্ত্রিক পদ্ধতিতে ধান চাষে এগিয়ে আসার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
ইএইচ