হাতীবান্ধা (লালমনিরহাট) প্রতিনিধি
জানুয়ারি ২৬, ২০২৬, ০৮:১৪ পিএম
নির্বাচনি প্রচারকে কেন্দ্র করে লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় বিএনপি ও জামায়াত নেতাকর্মীদের মাঝে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। রোববার বিকেল ৩টার দিকে টংভাঙ্গা ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের কাসাইটারি এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। পরে রাতে আবারও দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। এতে উভয় দলের অন্তত ২৫ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন।
আহতরা স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। পরে লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক ও জেলা পুলিশ সুপার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলেও সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বিএনপি ও জামায়াত নেতাকর্মীরা পাল্টাপাল্টি দোষারোপ করছেন।
সোমবার সকালে জামায়াতের নারী সংগঠনের জেলা সেক্রেটারি তামান্না বেগম এবং বেলা ১২টার দিকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর হাতীবান্ধা উপজেলা শাখার আমির রফিকুল ইসলাম নির্বাচনি কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন।
এতে তিনি অভিযোগ করেন, ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী আনোয়ারুল ইসলাম রাজুর নারী কর্মীরা টংভাঙ্গা ইউনিয়নে ভোট চাইতে গেলে বিএনপির মহিলা দলের নেতাকর্মীরা তাদের হিজাব খুলে দেখার চেষ্টা করেন। পরে বিএনপির আরও নেতাকর্মীরা এসে হামলা চালান। এ সময় বাড়িঘরসহ বেশ কয়েকটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়। এতে তাদের ১০ জন নেতাকর্মী হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, ভোটারদের স্বাধীনভাবে ভোট চাইতে দেওয়া হচ্ছে না এবং সাধারণ ভোটারদের বাড়িতে গিয়ে হুমকি দেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, যে দলের নেতাকর্মীদের কাছে মা-বোনদের পর্দা ও ইজ্জত নিরাপদ নয়, সেই দল রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসলে জাতি কতটুকু নিরাপদ থাকবে।
অন্যদিকে বিকেল ৩টায় উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মোশারফ হোসেন দলীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, জামায়াতের নারী কর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারদের বলছেন যে, একমাত্র দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিলে জান্নাতে যেতে পারবেন; স্বামী-সন্তান জান্নাতে নিতে পারবে না।

তিনি আরও বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নষ্টের জন্য জামায়াত-শিবির পরিকল্পিতভাবে হামলা ও ভাঙচুর করে জনমনে ভীতিকর পরিস্থিতি তৈরি করছে। হিজাব খুলে নেওয়ার ঘটনাটি সম্পূর্ণ গুজব ও ভিত্তিহীন বলে তিনি দাবি করেন।
এর আগে, রোববার ভোট চাওয়া ও হিজাব খোলাকে কেন্দ্র করে দফায় দফায় সংঘর্ষে সাংবাদিকসহ অন্তত ৩০ জন আহত হন। এর মধ্যে তিনজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
হাতীবান্ধা থানার অফিসার ইনচার্জ শাহীন মো. আমানুল্যাহ বলেন, সংঘর্ষের পর বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। ভবিষ্যতে যাতে আর কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সেজন্য অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
ইএইচ