ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Amar Sangbad

ইনস্টাগ্রাম

Amar Sangbad

এক্স

Amar Sangbad


লিংকডইন

Amar Sangbad

পিন্টারেস্ট

Amar Sangbad

গুগল নিউজ

Amar Sangbad


হোয়াটস অ্যাপ

Amar Sangbad

টেলিগ্রাম

Amar Sangbad

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Amar Sangbad


ফিড

Amar Sangbad

ঢাকা রবিবার, ১৯ জুলাই, ২০২৬

মহেশপুরে বেকারত্বের জাল ছিঁড়ে গাড়ল খামারে স্বাবলম্বী ওয়াসিম

সাইফুল ইসলাম, মহেশপুর (ঝিনাইদহ)

সাইফুল ইসলাম, মহেশপুর (ঝিনাইদহ)

জানুয়ারি ২৮, ২০২৬, ০৩:১৫ পিএম

মহেশপুরে বেকারত্বের জাল ছিঁড়ে গাড়ল খামারে স্বাবলম্বী ওয়াসিম

ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার নস্তি গ্রামের তরুণ মো. ওয়াসিম মণ্ডল (২৫) বেকারত্বের হতাশা কাটিয়ে আজ এলাকায় একজন পরিচিত ও সফল খামারি হিসেবে আলোচনায়। 

লেখাপড়া শেষ করে চাকরির পেছনে না ছুটে নিজের মাটিতে কিছু করার স্বপ্ন থেকেই শুরু তার গাড়ল ও ভেড়া খামারের পথচলা। কৃষিপ্রধান এ অঞ্চলে যেখানে অনেক তরুণ কাজের অভাবে দিশেহারা, সেখানে ওয়াসিম নিজ উদ্যোগে উন্নত জাতের গাড়ল এনে খামার গড়ে তুলে স্বাবলম্বী হয়েছেন।

পিতা মো. রবিউল মণ্ডলের একমাত্র সন্তান ওয়াসিম প্রথমে ভারতের রাজস্থান অঞ্চলের গাড়ল সম্পর্কে জানতে পারেন। পরে চুয়াডাঙ্গার শিয়ালমারি হাট থেকে পাঁচটি গাড়ল কিনে খামার শুরু করেন। সময়ের সাথে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে গাড়ল সংগ্রহ করে খামার বড় করেন তিনি। বর্তমানে তার খামারে প্রায় ২৪টি ছোট-বড় গাড়ল রয়েছে। 

প্রকারভেদে এসব গাড়ল ১৫ হাজার থেকে ৪০ হাজার টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। পূর্ণবয়স্ক গাড়লের দাম ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত এবং ৩ থেকে ৪ মাস বয়সী বাচ্চার দাম ৫ থেকে ৮ হাজার টাকা।

স্থানীয় লোকজন ও আশপাশের ব্যবসায়ীরা সরাসরি খামার থেকেই গাড়ল ও ভেড়া কিনে নিয়ে যাচ্ছেন, বিশেষ করে কোরবানির মৌসুমে চাহিদা বেশি থাকে। ওয়াসিম জানান, গাড়লের মাংস ভেড়া বা ছাগলের তুলনায় বেশি সুস্বাদু এবং একটি গাড়ল থেকে ৩০ থেকে ৪০ কেজি পর্যন্ত মাংস পাওয়া যায়। 

তার খামার দেখে এলাকায় অনেক বেকার যুবক এখন ভেড়া ও গাড়ল পালনে আগ্রহী হচ্ছেন। ইতোমধ্যে স্থানীয় খামারি মো. সজীব মোল্লা ও আলী হোসেনও এ খাতে যুক্ত হয়েছেন।

ওয়াসিমের বাবা মো. রবিউল মণ্ডল বলেন, ছেলে পরের পেছনে না ছুটে নিজে কিছু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলেই আজ এ সাফল্য এসেছে। 

মহেশপুর বাজারের পশু চিকিৎসক জানান, নিয়মিত কৃমিনাশক ও পিপিআর টিকা দিলে ভেড়া ও গাড়ল সহজেই সুস্থ থাকে এবং উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিস থেকেও বিনামূল্যে টিকা দেওয়া হয়।

উপজেলা মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ দপ্তরের কর্মকর্তা ডা. মো. নুর আলম বলেন, কম খরচে ও কম ঝুঁকিতে গাড়ল পালন একটি সম্ভাবনাময় উদ্যোগ। বর্তমানে ওয়াসিম নিজে, তার স্ত্রী ও বাবা খামারের দেখাশোনা করছেন এবং শ্রমিকও কাজ করছে। ঘাস, লতাপাতা, খড় ও ভুসি প্রধান খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করা হয়। 

আসন্ন কোরবানির মৌসুমে ভালো লাভের আশায় ওয়াসিম ভবিষ্যতে দুম্বা পালনের পরিকল্পনার কথাও জানান। তার এ সাফল্য মহেশপুর জুড়ে নতুন করে ভেড়া ও গাড়ল খামারের সম্ভাবনা দেখাচ্ছে এবং গ্রামের তরুণদের নিজের পায়ে দাঁড়ানোর স্বপ্ন জাগাচ্ছে।

ইএইচ

Link copied!