সিদ্ধিরগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি
ফেব্রুয়ারি ৮, ২০২৬, ০২:২৮ পিএম
নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁ-সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনে নির্বাচনী প্রচারণা ক্রমে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। ভোটের দিন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই জটিল হচ্ছে মাঠের সমীকরণ।
বিএনপি প্রার্থীর বিপরীতে একই দলের প্রভাবশালী স্বতন্ত্র প্রার্থী, জামায়াতে ইসলামী ও হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থীরা মাঠে থাকায় এ আসনে বহুমুখী লড়াইয়ের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।
সোনারগাঁ ও সিদ্ধিরগঞ্জ দুই ভিন্ন বাস্তবতার ভোটব্যাংকের ওপর ভর করে কেউই এখনো নিশ্চিন্ত হতে পারছেন না।
ভোটার ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাংগঠনিক শক্তি নিয়ে এগিয়ে থাকা বিএনপি প্রার্থীর সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে নিজ দলের বিদ্রোহী ও জোটের মিত্ররা।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, এ আসনে মোট ভোটার ৫ লাখ ৮৬ হাজার ৭৬৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৯৭ হাজার ৬০ জন, নারী ২ লাখ ৮৯ হাজার ৬৯৯ জন এবং হিজড়া ভোটার ৪ জন। মোট ২০৮টি কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ করা হবে।
সিদ্ধিরগঞ্জ অংশে ইপিজেড ও গার্মেন্টসসহ শিল্পাঞ্চলভিত্তিক শ্রমজীবী ভোটারদের আধিক্য বেশি। অন্যদিকে সোনারগাঁ অংশে কৃষিনির্ভর ও প্রবাসী পরিবারের ভোটার তুলনামূলক বেশি।
এ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী আজহারুল ইসলাম মান্নান। তিনি দলটির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও সোনারগাঁ উপজেলা বিএনপির সভাপতি। সাবেক এ উপজেলা চেয়ারম্যান বিগত নির্বাচনেও অংশ নিয়েছিলেন। সোনারগাঁয়ে তার অবস্থান বেশ শক্ত হলেও এবার সিদ্ধিরগঞ্জ অংশ যুক্ত হওয়ায় ভোট ভাগ হওয়ার শঙ্কা রয়েছে। কারণ তার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড দীর্ঘদিন ধরেই সোনারগাঁ কেন্দ্রিক। এ শঙ্কা কাটাতে তিনি সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকায় বর্তমানে বিশেষ প্রচারণা চালাচ্ছেন।
এদিকে নানা সমীকরণে ভোটের মাঠে আনুষ্ঠানিকভাবে ফিরেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মাওলানা মো. ইকবাল হোসেন ভূঁইয়া। তার দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের পক্ষে নেতা-কর্মীদের সক্রিয়তা সাধারণ ভোটারদের মধ্যে নতুন করে আলোচনার সৃষ্টি করেছে। তার প্রত্যাবর্তনে ১১ দলীয় জোটের একাংশকে প্রকাশ্যে প্রচারণায় দেখা যাচ্ছে। এ আসনের ভোটের সমীকরণে জামায়াত বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
মান্নানের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে দাঁড়িয়েছেন দলটির বহিষ্কৃত সাবেক সংসদ সদস্য মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন। তিনি বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও জেলা কমিটির সাবেক সভাপতি ছিলেন। দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ায় সম্প্রতি তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
সিদ্ধিরগঞ্জকে গিয়াস উদ্দিনের শক্তিশালী ঘাঁটি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। দল থেকে বহিষ্কৃত হলেও তার নিজস্ব কর্মী ও সমর্থকেরা মাঠে রয়েছেন। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে তিনি দলীয় প্রার্থী মান্নানকে কঠোর চ্যালেঞ্জ দিচ্ছেন।
এ আসনে বিএনপির আরেক বহিষ্কৃত নেতা ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী রেজাউল করিমও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন। সোনারগাঁর প্রভাবশালী এ নেতার তৎপরতা মাঠে কিছুটা কম হলেও তার পক্ষে প্রচারণা চালানোর অভিযোগে উপজেলার বেশ কয়েকজন বিএনপি নেতাকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
সোনারগাঁয়ে ইসলামপন্থীদের একটি বড় ভোটব্যাংক রয়েছে। জোটের পক্ষ থেকে প্রথমে খেলাফত মজলিসের মাওলানা মো. শাহজাহান শিবলীকে প্রার্থী করা হয়েছিল। তবে জামায়াত প্রার্থী ইকবাল হোসেন ভূঁইয়া পুনরায় সক্রিয় হওয়ায় সমীকরণ বদলে গেছে।
অন্যদিকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী গোলাম মসীহ স্বতন্ত্র ভোটব্যাংক নিয়ে মাঠে আছেন। তিনি সাবেক রাষ্ট্রদূত এবং তার ব্যক্তিগত ভাবমূর্তি এলাকায় বেশ উজ্জ্বল।
এ ছাড়া এ আসনে গণঅধিকার পরিষদের মো. ওয়াহিদুর রহমান মিল্কী, গণসংহতি আন্দোলনের অঞ্জন দাস, আমার বাংলাদেশ পার্টির মো. আরিফুল ইসলামসহ মোট ১১ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা মূল লড়াইয়ে না থাকলেও বড় প্রার্থীদের ভোট বিভক্তির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন।
ইএইচ