আল-আমিন, নীলফামারী
ফেব্রুয়ারি ১৩, ২০২৬, ০৫:২২ পিএম
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নীলফামারী জেলার চারটি সংসদীয় আসনেই জামায়াত মনোনীত প্রার্থীরা বিশাল জয় পেয়েছেন। তবে তাঁদের নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে প্রতিটি আসনেই বিএনপি ও বিএনপি জোটের প্রার্থীরা শক্ত অবস্থানে ছিলেন।
বৃহস্পতিবার রাতে ভোট গণনা শেষে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান এই ফলাফল ঘোষণা করেন।
নীলফামারী ১ (ডোমার-ডিমলা) আসনে ১৫৪টি কেন্দ্রের ফলাফলে ১ লাখ ৪৯ হাজার ২১৪ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন জামায়াত প্রার্থী মাওলানা আব্দুস সাত্তার। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি জোটের খেজুর গাছ প্রতীকের প্রার্থী মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী পেয়েছেন ১ লাখ ১৮ হাজার ১৬০ ভোট। দুই প্রার্থীর মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই শেষে জামায়াত প্রার্থী জয়ী হন।
নীলফামারী ২ (সদর) আসনে ১৩৪টি কেন্দ্রের ফলাফলে ১ লাখ ৪৫ হাজার ২০২ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন জামায়াত প্রার্থী আলফারুক আব্দুল লতিফ। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি প্রার্থী শাহরিন ইসলাম চৌধুরী তুহিন ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ১ লাখ ৩৪ হাজার ৫৭৯ ভোট। সদরের এই আসনে ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ লক্ষ্য করা গেছে।
নীলফামারী ৩ (জলঢাকা) আসনে ১০৫টি কেন্দ্রের ফলাফলে ১ লাখ ৮ হাজার ৫৬০ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন জামায়াত প্রার্থী মাওলানা ওবায়দুল্লাহ সালাফী। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি প্রার্থী সৈয়দ আলী পেয়েছেন ৮৯ হাজার ১০২ ভোট। বড় ব্যবধানে জয় নিশ্চিত হওয়ার পর এলাকায় জামায়াত নেতা-কর্মীদের মধ্যে উৎসবের আমেজ দেখা দেয়।
নীলফামারী ৪ (সৈয়দপুর-কিশোরগঞ্জ) আসনে ১৬৯টি কেন্দ্রের ফলাফলে ১ লাখ ২৪ হাজার ৮৬৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন জামায়াত প্রার্থী হাফেজ আব্দুল মুনতাকিম। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি প্রার্থী আব্দুল গফুর সরকার পেয়েছেন ৮১ হাজার ৫২৬ ভোট। এই জয়ের মাধ্যমে জেলার সবকটি আসনেই জামায়াতের আধিপত্য নিশ্চিত হলো।
বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হওয়ার পর সকল ভোটার ও সমর্থকদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন বিজয়ী প্রার্থীরা। তাঁরা উন্নয়ন ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। এদিকে জামায়াত প্রার্থীদের বিজয়ে নীলফামারীর প্রতিটি উপজেলায় নেতা-কর্মীরা দফায় দফায় আনন্দ মিছিল ও মিষ্টি বিতরণ করেছেন।
জেএইচআর