আমার সংবাদ ডেস্ক
ফেব্রুয়ারি ২০, ২০২৬, ০৫:৩৮ পিএম
বন্দরনগরী চট্টগ্রামে ঝটিকা মিছিল বের করার চেষ্টাকালে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ ও তার সহযোগী সংগঠন যুবলীগের আটজন নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে কোতোয়ালি থানা পুলিশ।
শুক্রবার বিকেলে নগরীর রাইফেল ক্লাব এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়। এ সময় পুলিশ তাদের কাছ থেকে একটি সাংগঠনিক ব্যানার জব্দ করেছে।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, আজ শুক্রবার বিকেলে কোতোয়ালি থানার রাইফেল ক্লাবের সামনে হঠাৎ একদল যুবক ব্যানার নিয়ে জড়ো হওয়ার চেষ্টা করে এবং ঝটিকা মিছিল বের করে। রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ থাকায় খবর পাওয়া মাত্রই পুলিশ দ্রুত অভিযান চালায়।
মিছিলটি বড় হওয়ার আগেই পুলিশ আটজনকে চারপাশ থেকে ঘিরে ফেলে এবং হেফাজতে নেয়। এ সময় বাকিরা ছত্রভঙ্গ হয়ে পালিয়ে যায়।
কোতোয়ালি থানা পুলিশ গ্রেপ্তারকৃতদের নাম, পরিচয় প্রকাশ করেছে। আটককৃতরা হলেন মো. তুষার, আবদুল্লাহ আল নোমান, মো. রাকিব, ইব্রাহীম হোসেন, শরীফ হোসেন, মাসুদুর রহমান, রিয়াদ হোসেন এবং সৈয়দ হামিদ মিয়াজী। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে পুলিশের কাছে স্বীকার করেছে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আফতাব উদ্দিন বলেন, কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়া সত্ত্বেও আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের ব্যানারে ঝটিকা মিছিল বের করার চেষ্টা করছিল একদল যুবক। আমরা ঘটনাস্থল থেকে আটজনকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করেছি এবং একটি ব্যানার জব্দ করা হয়েছে।
ওসি আরও জানান, নিষিদ্ধ সংগঠনের নামে মিছিল বের করার অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইন ও সংশ্লিষ্ট ধারায় থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের কাল শনিবার আদালতে সোপর্দ করা হবে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
উল্লেখ্য যে, ছাত্র, জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক কার্যক্রম বর্তমানে নিষিদ্ধ অবস্থায় রয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে কঠোর নির্দেশনা রয়েছে যে, নিষিদ্ধ কোনো দল বা সংগঠনের ব্যানারে কোনো ধরনের সভা, সমাবেশ বা মিছিল করা যাবে না। তারেক রহমান সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকেও দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে পুলিশকে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
চট্টগ্রামের আজকের এই গ্রেপ্তার অভিযান সেই কঠোর অবস্থানেরই বহিঃপ্রকাশ বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। বিকেলে এই ঘটনার পর কোতোয়ালি ও এর আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে। সাধারণ মানুষের যাতায়াত স্বাভাবিক রাখতে এবং কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
জেএইচআর