মোহনগঞ্জ (নেত্রকোণা) প্রতিনিধি
ফেব্রুয়ারি ২২, ২০২৬, ০২:৪১ পিএম
নেত্রকোণার মোহনগঞ্জে মসজিদ ও মন্দিরের নিকট থেকে ইজারা নেওয়া জলমহাল অবৈধভাবে লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে।
নদীর ইজারাকৃত জলমহালে মাছ ধরার লুটপাটে নিষেধ করায় জলমহালের মালিক আলিম উদ্দিনের উপর হামলা হয়েছে বলে জানা যায়।
গত বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) মোহনগঞ্জ উপজেলার ৬নং ইউনিয়নের ভাটিয়া, নারাইছ গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
উপজেলার ৬ নং সুয়াইর ইউনিয়নের নারাইছ গ্রামে নদীর জলমহালের মালিক আলিম উদ্দিনের উপর হামলা করে নারাইছ গ্রামের স্বপন সরকার, সুজিত সরকার, সজল সরকার, রঞ্জন সরকার, নান্টু সরকার, সুকুমার সরকার, নৃপেন্দ্র সরকার, সজিব সরকার, অনিক সরকার ও সুমন সরকার।
স্থানীয় বাসিন্দা, মসজিদ ও মন্দির কমিটির সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ভাটিয়া নারাইছ এই দুই গ্রামের মসজিদ ও মন্দির কমিটির কাছ থেকে জলমহালটি এবার ৫ লাখ ৫০ হাজার টাকায় এক বছরের জন্য ইজারা নেন ভাটিয়া গ্রামের আলিম উদ্দিন। ইজারা নেওয়ার পর জলমহালের রক্ষণাবেক্ষণ অন্যান্য ব্যবস্থাপনায় করে আসছিলেন। জলমহালের মাছ লুটের বিষয়ে আলিম উদ্দিন এবং স্বপন সরকার মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। পরে সুবীরের দোকানে আলিম উদ্দিন গেলে স্বপন সরকারের ভাতিজা তর্কাতর্কির এক পর্যায়ে আলিম উদ্দিনের উপর হামলা করেন।
এ ঘটনায় মোহনগঞ্জ থানায় অভিযোগ করা হয়েছে। আসামি হলেন, স্বপন সরকার (৬০), সুজিত সরকার (৩৫), স্বজল সরকার ওরফে সাজু (৬০) রঞ্জন সরকার (৩৫), নান্টু সরকার (৩৫), সুকুমার সরকার (৬০), নৃপেন্দ্র সরকার (৫৫), সজীব সরকার (২৫), অনিক সরকার (২০), সুমন সরকার (৩৫) এবং অজ্ঞাতনামা আরও ২৫ জন।
আলিম উদ্দিন বলেন, মসজিদ ও মন্দিরের নিকট থেকে ৫ লাখ ৫০ হাজার টাকায় আমি জলমহাল ইজারা নিয়েছি। সেই ইজারাকৃত জলমহালের কনাজাল ও ছোট ত্রিপালের ঘর আগুনে পুড়িয়ে দিয়ে ৪ ঘুড়া ৩টি সেলু মেশিন নিয়ে যায় এবং আমার ইজারাকৃত জলমহালের মাছ লুটপাট করে। আমি সুবীরের দোকানে বাকী পরিশোধ করতে গেলে তারা আমাকে দেশীয় অন্ত্র দিয়ে আমার উপর হত্যার উদ্দেশ্য অতর্কিত হামলা করে।
সুয়াইর ইউনিয়নের ভাটিয়া নারাইছ ৯নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সেবক সরকার জানান, শুনেছি আলিম উদ্দিন ভাইয়ের উপর সুবীরের দোকানে তারা হামলা করেছে। তবে বিষয়টি মীমাংসা করা জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা চালছে।
ভাটিয়া গ্রামের মসজিদের সভাপতি মো. রইছ মিয়া বলেন, ভাটিয়া, নারাইছের সব মানুষ একত্র হয়ে এই জলমহাল আলিম উদ্দিনের কাছে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকার মধ্যে ইজারা দেওয়া হয়েছে। এখন যদি কেউ ইজারাকৃত জলমহাল লুট করে থাকে তাহলে সেটা অন্যায় হয়েছে।
আদর্শনগর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের এস আই শাহজাহান কবির বলেন, আলিম উদ্দিনের অভিযোগপত্র পেয়েছি। বিস্তারিত তদন্ত শেষে বলা যাবে।
মোহনগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. হাফিজুল ইসলাম হারুন বলেন, "হিন্দু পক্ষ মামলা করেছে এবং উপর পক্ষের অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পাইলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
এএন