ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Amar Sangbad

ইনস্টাগ্রাম

Amar Sangbad

এক্স

Amar Sangbad


লিংকডইন

Amar Sangbad

পিন্টারেস্ট

Amar Sangbad

গুগল নিউজ

Amar Sangbad


হোয়াটস অ্যাপ

Amar Sangbad

টেলিগ্রাম

Amar Sangbad

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Amar Sangbad


ফিড

Amar Sangbad

ঢাকা রবিবার, ১৯ জুলাই, ২০২৬

পঞ্চগড়ে ইউএনওর বিরুদ্ধে ঘুষ বাণিজ্যে তুলে ধরায় প্রশাসনিকভাবে হয়রানির অভিযোগ, স্থানীয়দের প্রতিবাদ

মো. মাহমুদুল হাসান বাবু, পঞ্চগড়

মো. মাহমুদুল হাসান বাবু, পঞ্চগড়

মার্চ ১৫, ২০২৬, ০৬:৫৫ পিএম

পঞ্চগড়ে ইউএনওর বিরুদ্ধে ঘুষ বাণিজ্যে তুলে ধরায় প্রশাসনিকভাবে হয়রানির অভিযোগ, স্থানীয়দের প্রতিবাদ

পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আফরোজ শাহীন খসরুর বিরুদ্ধে বিভিন্ন প্রকল্পে টাকা ছাড়া কাজ না করাসহ নানা অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে অভিযোগ তোলায় চেয়ার থেকে সরানোর চেষ্টাসহ প্রশাসনিকভাবে হয়রানী করার অভিযোগ তুলে প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন উপজেলার শালবাহান ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আশরাফুল ইসলাম। 

এ সময় নিজের অবস্থার কথা উল্লেখ করে আবেগে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন তিনি। রোববার দুপুরে উপজেলার শালবাহান ইউনিয়ন পরিষদ চত্ত্বরে স্থানীয় নারী-পুরুষদের নিয়ে আয়োজিত প্রতিবাদ সমাবেশে এই দাবি করেন ইউপি চেয়ারম্যান। প্রতিবাদ সমাবেশে ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকার ৫ শতাধিক মানুষজন উপস্থিত ছিলেন।  

প্রতিবাদ সমাবেশে দাবি করেন, তার নির্বাচনী এলাকায় উন্নয়ন প্রকল্পের বিল অনুমোদনের ক্ষেত্রে অনিয়ম, ঘুষ দাবি নিয়ে কথা বলায় প্রশাসনিক হয়রানির করা হচ্ছে। 

চেয়ারম্যান আশরাফুল ইসলাম দাবি করে আরো বলেন, অভ্যুত্থানের পর রাজনৈতিক কারণে তার বিরুদ্ধে তিনটি মামলা থাকলেও, দায়ের করা এসব মামলায় তাঁর কোন নাম নেই। মামলায় জামিনও হয়েছেন। এর মাঝে পরিষদের দায়িত্ব পালনে স্থানীয় সরকার বিভাগের কোন নিষেধাজ্ঞা নেই। তবে মামলায় জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর তিনি পুনরায় অফিসে যোগদান করে নিয়মিত দাপ্তরিক কাজ করছেন। এরই মাঝে সম্প্রতি তেঁতুলিয়ার ইউএনও সুবিধা নিতে না পেরে ইচ্ছাকৃত ভাবে চক্রান্ত করে পরিষদের কার্যক্রম থেকে তাকে সরানোর চেষ্টা চালাচ্ছেন বলেও অভিযোগ করেন। এ ঘটনা সুষ্ঠু বিচার দাবি করে চেয়ারম্যান আশরাফুল।

চেয়ারম্যান আশরাফুল বলেন, সম্প্রতি পরিষদের ভিজিএফ কার্যক্রমে তার নাম থাকলেও টিসিবি কার্যক্রমের তালিকা প্রস্তুত ও মাইকিংয়ের ক্ষেত্রে তার নাম ব্যবহার না করতে ইউএনও নিষেধ করেছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। বিষয়টিকে তিনি প্রশাসনিক হয়রানির অংশ বলে উল্লেখ করেন।

ইউনিয়ন পরিষদের প্রতিবাদ সমাবেশে কান্না চোখে আরও বলেন, সম্প্রতি চলমান ইস্যুতে গত দুদিন আগে জেলা প্রশাসক আমাকে মৌখিকভাবে সোমবার পর্যন্ত পরিষদের কার্যক্রম করতে নিষেধ করেছেন। তাই জেলা প্রশাসকের কথার সম্মান রেখে কথা রেখে আমি পরিশোধের কার্যক্রম পরিচালনা করছি না। এর মাঝেও তেঁতুলিয়ার ইউএনও আমার বিরুদ্ধে ইউপি সদস্যদের দিয়ে অসৌজন্যমূলক আচরণ ও নানা ধরনের অপেশাদার কাজ করাচ্ছে। অভিযোগ করেন, আজকের প্রতিবাদ সমাবেশে অংশগ্রহণে আসা স্থানীয়দের অনেককে বাঁধা দেয়া হয়েছে। রাস্তা থেকে ফেরত পাঠানো হয়েছে বলে দাবি করেছেন ইউপি চেয়ারম্যান আশরাফুল। 

এছাড়া চেয়ারম্যানের দাবি, ইউনিয়ন পরিষদে ঢুকতেই ইউপি সদস্য অপেশাদার আচরণ করেন। এক ইউপি সদস্য এক নারীর কার্ড আটকে দুই মাসের চাল উত্তোলন করেন। পরে আমি তা ফেরত নিয়ে দেই। তবে আগামী সোমবার পর্যন্ত স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালকের মৌখিক নির্দেশে আমি পরিষদে এসেও অফিস করিনি। তবে দ্রুতই আমি অফিস করতে পারবো বলে আশা করি। এসময় ইউপি চেয়ারম্যান উপস্থিত স্থানীয় মানুষজনকে উদ্দেশ্য করে বলেন, আপনারা আমাকে চান নাকি চান না। এসময় সবাই চাই বলে হাত উঁচিয়ে চিৎকার করে জানান।

চেয়ারম্যান বলেন, আমি আপনাদের সেবায় এ্যাম্বুলেন্স এনেছি দুইটা। পরিষদের সিসি ক্যামেরা সহ পরিষদের গেট, গোল ঘরেের উন্নয়ন কাজ করেছি। আপনাদের ভোটে নির্বাচিত আমি আপনারা আমার পাশে থাকবে। এসময় আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন চেয়ারম্যান আশরাফুল ইসলাম। পরে স্থানীয় বৃদ্ধ নারী ও পুরুষেরা তার মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে চোখের পানি মুছে দেন।

স্থানীয় মানুষজন জানান, চেয়ারম্যান অনেক ভালো লোক। তিনি আমাদের জন্য অনেক কিছু করেছেন। আমরা সব সময় ভালো সুযোগ সুবিধা পাই যা আগে পেতাম না। অথচ আমাদের চেয়ারম্যানকে নিয়ে যা শুরু করেছে তার প্রতিবাদ জানাই আমরা। প্রয়োজনে আমরা রাস্তায় নামবো। 

এদিকে টাকা লেনদেনের ভিডিও নিয়ে পিআইও অফিসের কর্মচারী জহিরুল ইসলাম বলেন, টাকার যে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়া হয়েছে সেটি প্রায় নয় মাস আগের। প্রকল্পের কাজের বাবদ পাওনা টাকা নেয়া হয়েছে, সেখানে আমার সাথে আরও কাজের লোক ছিলো, কিন্তু তাদের ভিডিও বাদ দেয়া হয়েছে। চেয়ারম্যান তার বাড়ি সিসিটিভিতে ভিডিও ধারণ করে এটিকে ভিন্নভাবে ব্যাখা দিয়ে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ তুলে ধরে সেটিকে নতুন করে প্রচার করা হচ্ছে ঘুষ হিসেবে। 

তবে তেঁতুলিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আফরোজ শাহীন খসরু বলেন, চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে কাজ না করে প্রকল্পের টাকা তুলে নেয়া সহ নানা অনিয়মের অভিযোগ আমাদের কাছে এসেছে। আমরা সব তদন্ত করে দেখছি। তিনি যেসব কথা বলছেন তার কোন ভিত্তি নেই। আমাদের কাছে সব কিছুর প্রমাণ আছে। তদন্ত করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নেবেন।

এএন

Link copied!